বুঝতেই পারছেন শুধু মহামারি নয়, বড় আকারের দেনা নিয়ে আমাকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে, বললেন মেয়র ফজলে নূর তাপস

শতকোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, তিনি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে দেখেছেন অনেক দেনা রয়েছে। নতুন মেয়র বলেন, ‘বুঝতেই পারছেন শুধু মহামারি নয়, বড় আকারের দেনা নিয়ে আমাকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তারপরও আমি আশাবাদী, ডিএসসিসি নতুন যাত্রা শুরু করবে। ভালো একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।’

দুর্নীতির কারণে মশকনিধন কার্যক্রমে ফলাফল পাওয়া যায়নি মন্তব্য করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘কারা ওষুধ আনছে, কোথায় রাখা হচ্ছে, কী প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়টি পুরোপুরি নজরদারি করব।’

নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি এ–ও বলেছেন, ‘এর ফলে আপনারা আগামীকালই যে ফল পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। আমাদের কিছু সময় লাগবে। প্রজননক্ষেত্রেই কীভাবে এডিস মশাকে নিধন করা যায়, আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’

নির্বাচিত হওয়ার প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আজ শনিবার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির সন্তান শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ বেলা একটার দিকে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হকের কাজ থেকে তিনি মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন উপস্থিত ছিলেন না।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বেলা তিনটায় অনলাইন ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফজলে নূর তাপস। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মশকনিধনে চিরাচরিত গৎবাঁধা কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে নগরবাসী এর সুফল পায়নি।

নতুন মেয়র বলেন, মশকনিধন কার্যক্রমের পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এখানে অনেকগুলো কৌশলে কাজ করতে হবে। একটি কৌশলে মশা তাড়ানো সম্ভব হবে না। বিশ্বব্যাপী মশকনিধনে যেসব কার্যক্রম সফল হয়েছে, সেসব কৌশল প্রয়োগ করারও কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হন তাপস। নির্বাচনে মোট ভোটারের ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে শপথ নেন ডিএসসিসির মেয়র।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বোর্ড সভা থেকে তাঁর মেয়াদকাল শুরু হবে। অর্থাৎ নতুন মেয়র যেদিন কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রথম সভা করবেন, সেদিন থেকেই শুরু হবে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদকাল। নির্বাচিত হওয়ার পর সদ্য বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন ২০১৫ সালের ১৬ মে প্রথম বোর্ড সভা করেছিলেন। সে হিসাবে আজই সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হয়। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হলেন নবনির্বাচিত মেয়র তাপস।

নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কাল রোববার সকাল থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাপস। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে উত্তরণ বেশি গুরুত্ব পাবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করবেন।

শেখ ফজলে নূর বলেন, ‘আগামী ৯০ দিনের মধ্যে যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে দিয়েছি, মৌলিক সেবাগুলো যাতে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। আপনারা সবাই উপলব্ধি করবেন, এই মহামারির সময় এই কাজ শেষ করা খুবই দুরূহ। তারপরও আমরা চেষ্টা করব ৯০ দিনের মধ্যে মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করার।’

ad
ad

আওয়ামী লীগ সর্বশেষ

ad
ad

আওয়ামী লীগ সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ