অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারবে। এখন কী প্রক্রিয়ায় কাজটি হবে, সে বিষয়ে শিগগির একটি নির্দেশনা জারি করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষে একাডেমিক কাউন্সিলেরের মাধ্যমে ছুটি কমানো, সাপ্তাহিক ছুটিতে ক্লাস নেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সেশনজট নিরসনের ব্যবস্থা নেবে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ইউজিসি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যািলয় কর্তৃপক্ষের এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশ নেওয়া তিনজন  এসব তথ্য জানান।

এর আগে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া, মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে অনলাইনে ক্লাসে উৎসাহ দিয়ে আসছিল ইউজিসি। কিন্তু পরীক্ষা না হলে শুধু ক্লাস নিলে সেশনজটের আশঙ্কা থেকে যায়। এ জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

আজকের বৈঠকে অংশ নেওয়া ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তখন ধারণা করা হয়েছিল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এত দীর্ঘ হবে না। তার পরও তখন অনলাইনের ক্লাস করাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন যা মনে হচ্ছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতেও পারে। এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশি সমস্যা হবে। এ জন্য অনলাইনের প্রয়োজনীয়তার কথা সবাই অনুভব করছে। এ বিষয়ে শিগগির ইউজিসি একটি নির্দেশনা জারি করবে কীভাবে এটি করা হবে। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরনের সেশনজটের পরিস্থিতি অতীতে মোকাবিলা করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি শেষে ছুটি কমিয়ে, সাপ্তাহিক ছুটিতে ক্লাস নিয়ে সেশনজট নিরসনের উদ্যোগ নিতে পারবে।

বৈঠকে যুক্ত হওয়া একজন  বলেন, চলতি সেমিস্টার নিয়েই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে। এখন চলতি সেমিস্টারও অনলাইনে চালাতে পারবে। মূল্যায়নটি কীভাবে হবে, সেটি ইউজিসি কয়েকটি শর্ত দিয়ে দেবে। সে অনুযায়ী, তারা সেটি করবে।

বৈঠকে উপস্থিতি একজন জানান, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আলোচনার শেষ দিকে এসে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতেও অনলাইনে পড়াশোনার বিকল্প ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সভায় অংশ নেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবীর হোসেন  বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন অনলাইনে সব শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। এখন ইউজিসির সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করে নেওয়া হবে প্রক্রিয়াটি কী হবে।

বর্তমানে সারা দেশে ৪৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে (আরও কয়েকটির আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে)। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৫টি। তবে কয়েকটি এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাসের সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি এ রকমভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে। ফলে সেশনজটের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।প্রথম আলো

ad
ad

জাতীয় সর্বশেষ

ad
ad

জাতীয় সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ