Home / slider / মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ পচা!

মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ পচা!

Loading...

দেশের বাজারে পেঁয়াজ সংকট দূর করতে ভারতের বিকল্প হিসেবে মিসর, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ইতোমধ্যে মিসর ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ বাজারেও চলে এসেছে। তবে মিসরের পেঁয়াজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না উঠলেও প্রশ্ন উঠেছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ নিয়ে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিয়ানমারে থেকে আনা অনেক পেঁয়াজ পচা। এমনকি বেশির ভাগ পেঁয়াজে গাছও উঠে গেছে।  যায়যায় দিন

আড়তদারদের অনেকেই দোকানের এক পাশে মিয়ানমারের পচা পেঁয়াজের বস্তা ফেলে রেখেছেন। তারা বলছেন, বস্তা খুলে এসব পেঁয়াজের কিছু ফেলে দিতে হবে। আর বাকিগুলোর অধিকাংশই অর্ধেক দামে বিক্রি করা হবে।

এদিকে, পেঁয়াজ সংকট কাটাতে আমদানি করে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হলেও দাম কমেনি এখনও। মিসর-মিয়ানমারের পেঁয়াজ বাজারে এসেও কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি ব্যবসায়ীদের মজুদ কূটকৌশলের কারণে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামবাজারে পেঁয়াজের আড়তগুলো ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। জানা যায়, এখানের আড়তগুলোতে দুদিন আগে (০১ অক্টোবর রাতে) মিয়ানমার ও মিসরের আমদানি করা পেঁয়াজ আসে। কিন্তু আড়তে মাল খালাস করার পরপরই বিক্রেতাদের চোখে পড়ে পচা ও গাছ বের হওয়া পেঁয়াজ অনেক। এর পরপরই তারা অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেন বলে জানান। এ ছাড়া অনেক পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার জন্য আড়ত থেকে বাইরে রেখেছেন।

এখানে পাইকারি ৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। আর মিসর থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, দেশি পেঁয়াজ, যেটা ফরিদপুরের বলেই সবাই কিনছেন, এটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। আর ভারতীয় মোটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া এ বাজারে পাইকারি দেশি রসুন (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে। চায়না রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর আদা বিক্রি হচ্ছে ১১৩ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।

 

সূত্র বলছে, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পচাসহ নিম্ন মানের হলেও অনেক ব্যবসায়ীই নীরব রয়েছেন। আবার অনেকে বলছেন, মানহীন পেঁয়াজ হওয়া সত্ত্বেও সরকারের চাপের কারণে এসব আমদানি করা হয়েছে। যদিও অনেক ব্যবসায়ী এতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানে পড়বে।

এ বিষয়ে এখানকার পবিত্র ভান্ডারের ম্যানেজার বাপল সাহা বলেন, অনেক আমদানিকারককে সরকার চাপ দিয়েছে পেঁয়াজ আমদানি করতে। এর ফলে তারা কোনো বাছবিচার ছাড়াই আমদানি করেছেন এসব পেঁয়াজ। বাজারে পেঁয়াজের সংকট কাটাতে দ্রম্নত সময়ের মধ্যে এসব পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। পর্যাপ্ত কোনো সময় ছিল না ভালো করে দেখার।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় সবগুলো থেকেই গাছ বা চারা বের হয়ে গেছে। এ ছাড়া মোট পেঁয়াজের প্রায় ২৫ শতাংশ এসেছে পচা। এজন্য আমাদের অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। অনেকেই আবার অর্ধেক দামে বিক্রি করছেন। এই পেঁয়াজে শতভাগ লোকসান হবে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।

তার মতো একই কথা জানালেন আলী ট্রেডার্সের ম্যানেজার শামসুর রহমান। তিনি বলেন, মিসর থেকে ফ্রেশ পেঁয়াজ এলেও মিয়ানমারের গুলোর মান খুবই খারাপ। এসব পেঁয়াজে গাছ বের হওয়ার পাশাপাশি পচার মিশ্রণও রয়েছে। ফলে লোকসানেই পেঁয়াজ ছাড়তে হচ্ছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × one =