Templates by BIGtheme NET
Home / slider / তাজিয়া মিছিলে রক্তক্ষরণ নয়

তাজিয়া মিছিলে রক্তক্ষরণ নয়

Loading...

তাজিয়া মিছিল (ফাইল ছবি)এবারও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে ছোরা, কাচি, ব্লেড, তরবারিসহ কোনও ধারালো বস্তু দিয়ে নিজের শরীর রক্তাক্ত করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাজিয়া মিছিলে নিজের শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করা নিরুৎসাহিত করে আসছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ২০১৫ সালে জঙ্গি হামলার পর গত চার বছর ধরে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউন

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া শোক মিছিলকে ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিরাপত্তার স্বার্থে এই নির্দেশনা দেয়। এর আগে বিষয়টি নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর শিয়া নেতাদের সঙ্গে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারের বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শোকমিছিল সংক্রান্ত ১৩ নির্দেশনা হলো

১। শোক মিছিলের নির্ধারিত রুট ও সময়সীমা (নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ) মেনে চলতে হবে।

২। তাজিয়া শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন’ মাতম তুলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি নিয়ে নিজেদের শরীর রক্তাক্ত করা যাবে না।

৩। শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি হতে পারবে না।

৪। শোক মিছিল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজক সংস্থা প্রতিটি সমবেত স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবে।

৫। পর্যাপ্ত সংখ্যক আইডি কার্ডসহ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ছবিসহ তালিকা সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারের অফিসে আয়োজক সংস্থাকে পাঠাতে হবে।

৬। শোক মিছিলে সব ধরনের ধারালো অস্ত্র, ধাতব পদার্থ, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোঁটলা, লাঠি, ছোরা, চাকু, তলোয়ার, বর্শা, বল্লম ও আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পোশাকের সঙ্গেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে না।

৭। শোক মিছিল চলার সময়ে রাস্তায় বা বিভিন্ন অলিগলি থেকে আসা লোকদের মিছিলে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। মিছিলে অংশ নিতে হলে মিছিল শুরুর জায়গায় যেতে হবে।

৮। শোক মিছিল শুরুর জায়গায় প্রবেশের আগে সবাইকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও হাত দিয়ে দেহ তল্লাশি করে ঢুকতে দিতে হবে। তল্লাশি ছাড়া কোনও অবস্থায় কাউকে মিছিলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী রাখতে হবে।

৯। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইমামবাড়া ও শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সমাবেত স্থান ও এর আশপাশের সব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতেও বলা হয়েছে।

১০। শোক মিছিলে উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরির ঢাকঢোল, বাদ্যযন্ত্র, পিএ সেট ব্যবহার করা যাবে না।

১১। শোক মিছিলের মধ্যে যেন কোনও গ্যাপ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

১২। তাজিয়া মিছিলে পাঞ্জা মেলানোর সময় শক্তি প্রয়োগ করে ভীতিকর পরিস্থিতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৈরি করা যাবে না।

১৩। শোক মিছিল ও আশুরাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে কাউকে চাদর গায়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘তাজিয়া মিছিল নিরাপদে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য পুলিশ শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

যে জঙ্গি হামলায় তাজিয়া মিছিলে কড়াকড়ি

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা হোসেনি দালানে বোমা হামলা চালায়। এতে দু’জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এই ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ গত বছরের এপ্রিল মাসে ওই চার্জশিট অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিচারিক আদালতে আসে। ওই হামলায় ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানের সময় তিনজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। আসামিরা সবাই জেএমবি সদস্য।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen + 2 =