Home / slider / মশা তাড়ানোর ২ সহজ উপায়

মশা তাড়ানোর ২ সহজ উপায়

Loading...

ডেঙ্গু আতংকে চুপচাপ বসে থাকা নয় বরং প্রতিরোধে এগিয়ে আসাই ভালো। আর ডেঙ্গু মোকাবিলায় আপনাদের কার্যকর এক পরামর্শ দিচ্ছেন বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠিত লেখক ও গবেষক রবিশঙ্কর মৈত্রী। তিনি বর্তমানে ফ্রান্সে বাস করছেন।

ফেসবুকে তিনি মশা তাড়ানোর দুটি সহজ উপায় জানিয়েছেন। এর একটি হলো ক্রিম তৈরি।

এ লেখক জানান, ‘গতকাল আলেসের পাখিবাগানে মাদাম ফেদেরিকের কাছ থেকে আমরা মশা তাড়ানোর ওষুধ তৈরি করা শিখলাম। বলা যায়–শিখলাম এবং বানালাম।

ফ্রান্সেও মশা হয়, তবে তা শুধুই জুন থেকে আগস্ট মাসে এবং সেই মশা বাগান ছাড়া খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তবু এ দেশে সচেতনার শেষ নেই।

এবারে কাজের কথায় আসি। নিম ফল থেকে তেল হয় জানতাম, কিন্তু সেই নিম তেল যে ফ্রান্সেও পাওয়া যায় জানতাম না।
যে কোনও ধরনের মশা থেকে রক্ষা পেতে আসুন খুব সহজেই বানিয়ে নিই মশামুক্তির ক্রিম।

ছোট্ট একটি কৌটা বা কাচের বয়াম নিন। একটি মোমবাতি থেকে দুশো গ্রাম মোম গুঁড়ো করে নিয়ে কৌটায় বা কাচের বোতল বা বয়ামে রাখুন। এবার ত্রিশ মিলি নিম তেল এবং ত্রিশ মিলি গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন, সঙ্গে পঞ্চাশ মিলি জলও পাত্রটিতে ঢেলে দিন। একটি গামলায় এক লিটার জল দশ মিনিট ধরে গরম করুন। এবার গরম জলে নিম তেল মোম ও জলভরা পাত্রটি গরম জলের মধ্যে বসিয়ে রাখুন। লক্ষ করুন পাত্রমধ্যে মোম গলছে কিনা। যদি না গলে তাহলে জল আরও একবার গরম করুন।

গরম জলের গামলা থেকে সাবধানে নিম তেল গ্লিসারিন মোম আরও জল মেশানো পাত্রটি তুলে এনে টেবিলে রাখুন। পাঁচ সাত মিনিট পর পাত্রের মধ্যে লেবুর রস পাঁচ ফোঁটা এবং যে কোনও পারফিউম বা সুগন্ধি পাঁচ ফোঁটা ঢেলে দিন। এবার ছোট্ট একটি কফি-চামচ দিয়ে পাত্রের মিশ্রণটি পাঁচ সাত মিনিট নাড়তে থাকুন। দেখুন মশা তাড়ানোর ক্রিম তৈরি হয়ে গেছে। একটু মন্দ গন্ধযুক্ত হলেও সামান্য একটু ক্রিম হাতে পায়ে মেখে নিন, মশা আপনার ধারেকাছেও ভিড়বে না, ডেঙ্গু হবার ভয়ও পেতে হবে না। মশা তাড়ানোর ক্রিম ফ্রিজে অথবা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় রাখতে হবে। তৈরির দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এই ক্রিম ব্যবহার করা যাবে।’

রবিশঙ্কর মৈত্রী অন্য যে উপায়টি জানিয়েছেন, সেটি হলো- ‘শুধু এডিস মশা নয়, কোনো মশা-মাছিই আপনার শরীরে বসবে না যদি আপনি নিম পাতার পেস্ট অথবা নিম সাবান গায়ে মাখেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার শরীরে নিমের গন্ধ থাকবে ততক্ষণই আপনি মশা-মাছি মুক্ত থাকবেন।

ক’দিন আগে আমি মশা-প্রতিরোধী ক্রিম বানানোর সহজ পদ্ধতি তুলে ধরেছিলাম, খুব অল্পসংখ্যক বন্ধুই তা গ্রহণ করেছিলেন। আমরা খুব সহজে ভালো কিছু গ্রহণ করি না; ভালো জিনিস নেওয়ার ইচ্ছে তখনই জাগে, যখন আমাদের সামনে মৃত্যু এসে দাঁড়ায়।

আমরা জানি, তবুও বলি জমে থাকা পরিষ্কার জলে এডিস মশা জন্ম নেয়। নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে; ভাঙা কৌটা, ডাবের খোলা ইত্যাদি যেখানে-সেখানে ফেলে না দিলেই তো আমরা এডিস মশার জন্মরোধ করতে পারি।
ঘরের কোণায় কোণায় নিম পাতা ছড়িয়ে রাখুন মশা-মাছি ঘরে ঢুকবে না।

ঘরের বাইরে গিয়েও তো আপনি মশার কামড় খেতে পারেন। খেতে পারেন কি, আপনাকে তো রোজই কোনো না কোনো জায়গা থেকে মশা কামড়ায়।

সবাই মিলে সচেতন না হলে পুরো দেশই ডাস্টবিন হয়ে যাবে, ফলে মশা-মাছিসহ সব প্রকার পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাসন তৈরি করব?

আসুন আমরা নিজেরাই উদ্যোগী হই, কোনও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দিকে চেয়ে না থেকে কাজ শুরু করি। দেশকে প্লাস্টিকমুক্ত করি, দেশকে সব প্রকার জঞ্জাল ও ময়লামুক্ত করে অকালমৃত্যুকে রুখে দিই।’

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*