Templates by BIGtheme NET
Home / slider / নোয়াখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন লাল-সবুজের একখন্ড বাংলাদেশ

নোয়াখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন লাল-সবুজের একখন্ড বাংলাদেশ

Loading...

এম শরীফ ভূঞা, আজকের সময়  :

“আমার বিদ্যালয়, আমার স্বপ্ন” এ শ্লোগানে নোয়াখালী সদরের প্রান্তিক জনপদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনকেই লাল-সবুজে শোভিত করা হচ্ছে।

লাল-সবুজে জাতীয় পতাকার চিত্রে মোড়ানো ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য একটাই শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া। এছাড়া বিদ্যালয় ভবন লাল-সবুজে শোভিত হওয়ায় এখানকার শিশুরা স্কুলগামী হচ্ছে। তাদের আকর্ষণ বাড়ছে জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি। এতে করে সদর উপজেলায় এখন শিক্ষার্থী ঝরেপড়াও কমছে।

নোয়াখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে। ভবনগুলো রাঙানো হচ্ছে পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে। কোন কোন স্কুলের ভেতরের দেয়ালও একইভাবে মনোরম চিত্রে শোভিত করা হচ্ছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্রকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

সদর উপজেলার চরমটুয়া, দাদপুর ও আন্ডারচরের দুর্গম চরাঞ্চলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মুহীউদ্দীন। ইতিমধ্যে তিনি বারাহীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকে লাল-সবুজে শোভিত করেছেন। তাঁর ক্লাস্টারের সবগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকেই একই সাঁজে সজ্জিত করা হচ্ছে।

উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আজকের সময়’কে বলেন, ‘এটি একটি মডেল’। ‘লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ভবন মানেই সেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এজন্য কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুঁজে বের করতে কষ্ট করতে হয়না।’

কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মোঃ মনির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের বাহিরের কাঠামো সহ প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকেও বাংলার ঐতিহ্যে রাঙানো হচ্ছে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মুহীউদ্দীন আজকের সময়’কে বলেন, ‘প্রথম শ্রেণীতে পড়া একটি ছোট্ট শিশু এ ভবন দেখে সহজেই জাতীয় পতাকা চিনতে পারবে। স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। লাল সবুজকে মন থেকে সে ভালোবাসতে শুরু করবে। জাতীয় পতাকার সাথে সাথে সে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে দারুণ পছন্দ করবে। জাতীয় পতাকা, সঙ্গীত আর মুক্তিযুদ্ধ তার হৃদয়ে একাকার হয়ে যাবে। ফলে শিশুটি মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নিয়েই বড় হয়ে উঠার পাশাপাশি একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন শেখ বলেন, ‘এ উপজেলায় ১৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তিনটি ক্লাস্টারের ভবনগুলোকে লাল-সবুজের পতাকায় রাঙ্গানো হচ্ছে। ঈদুল আযহার পর সবগুলো ক্লাস্টারে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। ভবনগুলো লাল-সবুজের পতাকায় রাঙ্গানোর কারণে শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ শেখানোর পাশাপাশি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য সেকেন্ড হোম করার চিন্তা থেকেই এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।’
নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইদুল ইসলাম এই উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন,লাল-সবুজের রঙে রাঙানো বিদ্যালয়গুলো দেখতে চমৎকার।
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি সজ্জিতকরণ সহ লাল-সবুজের অবকাঠামো বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করেছে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 + twenty =