Templates by BIGtheme NET
Home / slider / বাংলাদেশের বাজারে কোনো ডেঙ্গু ভ্যাকসিন নেই

বাংলাদেশের বাজারে কোনো ডেঙ্গু ভ্যাকসিন নেই

Loading...

বাংলাদেশের বাজারে নেই কোনো ডেঙ্গু ভ্যাকসিন। খুব শিগগিরই কোনো ভ্যাকসিন বাজারে আসার কোনো সম্ভাবনাও নেই। তাই, ডেঙ্গু রোগ থেকে রক্ষা পেতে এডিস মশা ধ্বংস ও নিজেদের ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি দেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের ওষুধ কোম্পানি স্যানোফি-পাস্তুরের একটি ভ্যাকসিন আসছে বলে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজ্ঞানী বলেন, বাংলাদেশে কেন, কোথাও ডেঙ্গু ভ্যাকসিন নেই। যুক্তরাষ্ট্রে একটা ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। কিন্তু সেটাও এখনও বাংলাদেশে আসেনি বা রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ডেঙ্গু ভ্যাকসিন আসলে এখনো আবিস্কারই হয়নি।

ডেঙ্গুর মতো রোগের ভ্যাকসিনের বিষয়টি অতো সহজ নয় বলে জানান ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ হচ্ছে আলট্রা ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন -৪ এই চারটি ভাইরাস। তাই এমন ভ্যাকসিন তৈরি করতে হবে, যেটি চারটির বিরুদ্ধেই কাজ করে। এ ধরনের ভ্যাকসিন আসলে আবিস্কৃত হয়নি। দুই একটা জায়গায় ট্রায়াল চলছে। কিছুদিন আগে ম্যানিলায় গিয়েছিলাম। সেখানে ওরা একটা ভ্যাকসিন ট্রাই করেছিল, পরে সেটা বাদ দিয়েছে। কারণ, এটি ৮ বছরের কম ও আবার ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের দেয়া যাবে না। আবার যাদের একবার ডেঙ্গু হয়ে গেছে, তাদের দেয়া যাবে। রুটিনলি সবাইকে দেয়া যায় না। এই ভ্যাসকিন দেয়ার পর আবার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এরপরও পৃথিবীর দুই একটা জায়গায় পরীক্ষা চলছে। এটা পরে বোঝা যাবে আসলে কি ঘটছে। যদি এই পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনগুলো ইফেকটিভ হতো, তাহলে তো দেশে আসতোই। ঢালাওভাবে সবাইকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে আসলে কোনো ভালো ভ্যাকসিন এখনো বের হয়নি। এমন ভ্যাকসিন যখন পাওয়া যাবে, সেটি চারটি সেরোটাইপেই ভালোভাবে কাজ করবে। তখন এটা সবাইকে দেয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অসুস্থ হলে তারপর আসে। আমরা ডেঙ্গু রোগী পাই, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করি। যেকোনো ভ্যাসকিন রোগটা যেন না হয়, সেজন্য দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগ হওয়ার আগে ভ্যাকসিন নিতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যানুসারে, চলতি জুলাই মাসে দুই হাজার ৭৬৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুন মাসে এক হাজার ৭৬১ জন ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে মারা গেছেন দুই জন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত চার হাজর ৮৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এডিস মশা যেসব স্থানে জন্মায়, সেই যায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিজেদের ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এই রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার প্রতি জোর দেন তারা। এ বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

12 − 9 =