Templates by BIGtheme NET
Home / slider / অপহরণ নাটক সাজিয়ে পালাতে চেয়েছিলেন ‘শিবিরপন্থি’ এনামুল

অপহরণ নাটক সাজিয়ে পালাতে চেয়েছিলেন ‘শিবিরপন্থি’ এনামুল

Loading...

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বিবিসি বাংলা, প্রথম আলোসহ অন্তত ২২টি খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকল করা পিএইচডি গবেষক এনামুল হক। আর সেই পরিকল্পনা সফল করতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি।

শনিবার রাতে র‍্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার এসপি মহিউদ্দিন ফারুক পরিবর্তন ডটকমকে এসব তথ্য জানান। এর আগে দুপুরে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকা থেকে এনামুলকে আটক করা হয়। যদিও গত ২১ নভেম্বর রাত থেকে এনামুল হক নিখোঁজ ছিলেন বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করে তার পরিবার।

এসপি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, এনামুল বিবিসি, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন অনলাইনের নকল করে ২২টি ভুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় বসেই বেশিরভাগ সময় হুবহু কপি করে নিউজ দিলেও মাঝে-মধ্যে নিজের ইচ্ছেমতো সরকারবিরোধী লেখা সাইটে প্রচার করতেন তিনি।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে দেশে আসেন এনামুল। তবে ফিরে যাওয়ার আগে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি অপহরণের নাটক সাজান। বিষয়টি এ রকম-তার পরিবার অপহরণের কথা বলবে, অন্যদিকে তিনি কোরিয়া পালিয়ে যাবেন। এদিকে এসব ভুয়া অনলাইন নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এনামুলের ফোন ও নাম পাওয়া যায়। এরপর শনিবার বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি পাবনা ঈশ্বরদী থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় আসেন।

নকল সাইটের আয় জমা হতো ছাত্রশিবিরের তহবিলে:

পিএইচডি গবেষক এনামুল হক ইসলামি ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুকী।

তিনি জানান, এনামুল হক ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিল। বৃত্তি পেয়ে কোরিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় চলে যান তিনি। সেখানে বসে এসব নকল সাইট তৈরি করেন। এসব নকল সাইট ভিজিট থেকে যে আয় হতো, তার ৭০ শতাংশ ছাত্রশিবিরের তহবিলে জমা হতো।

মহিউদ্দিন ফারুকী আরো বলেন, এনামুল হক তার মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে ডোমেইন কিনতেন, এরপর কোরিয়াতে বসে নকল সাইট তৈরি করতেন। এসব নকল সাইট তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশ, কোরিয়া ও ইতালিতে বিশাল একটি চক্র আছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ নভেম্বর রাতে আশকোনার একটি বাসা থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হওয়ার পর এনামুলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।

এনামুলের গ্রামের বাড়ি পাবনায়। তার বাবার নাম ফজলুল হক। এক ছেলে সন্তানের বাবা এনামুল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে বৃত্তি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কিওংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (কেএনইউ) পিএইচডি করছেন।

পরিবার ও স্বজনেরা জানান, গত ২২ অক্টোবর এক মাসের ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন এনামুল। গত বুধবার রাত ১টার দিকে তার কোরিয়া যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকালে শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে আশকোনায় এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধুর বাসা থেকে বেড়িয়ে রিকশাযোগে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হয়।

রাত ১১টা পর্যন্ত মোবাইলে বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা হয়। কিন্তু, ১১টার পরে মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘অপহরণকারী’ পরিচয়ে ফোন আসে স্বজনদের কাছে। শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। তার পরিবার কথিত অপহরণকারীদের দেয়া নম্বরে ১ লাখ টাকা পাঠিয়েও তাকে ফেরত পায়নি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × 5 =