Templates by BIGtheme NET
Home / slider / চার হাজার বছর ধরে জ্বলছে যে আগুন

চার হাজার বছর ধরে জ্বলছে যে আগুন

Loading...

এশিয়া মহাদেশের একটি প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র আজারবাইজান। কৃষ্ণসাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী স্থলযোটক দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের সচচেয়ে পূর্বের রাষ্ট্র এই আজারবাইজান। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে ককেশীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বৃহত্তম দেশ। কাস্পিয়ান সাগর এলাকার অন্যতম প্রধান জ্বালানি উত্পাদনকারী দেশ আজারবাইজান। এসব কিছুর বাইরে আজারবাইজনের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো আজারবাইজানে চার হাজার বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে আগুন। মুষুলধারে বৃষ্টি, তুষারঝড় কিংবা বাতাস কোন কিছুতেই নেবে না সেই আগুন। আজারবাইজনের অ্যাবশেরন উপদ্বীপের একটি জায়গায় দশ মিটার জায়গাজুড়ে অবিরামভাবে চলছে এই আগুন।
অ্যাবশেরন উপদ্বীপে পর্যটক গাইডের কাজ করা এক নারী আলিয়েভা রাহিলা জানান, চার হাজার বছর ধরে জ্বলছে এখানকার আগুন। কোন কিছুতেই নেভে না আগুন। সারাদিন ধরে আগুন জ্বলার কারণে আশেপাশের এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উত্তপ্ত থাকে। এই জায়াগা ছাড়াও দেশটির অনেক জায়গায় এভাবে আগুন জ্বলছে। মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল সমৃদ্ধ দেশটির অনেক স্থানেই এই ধরনের আগুনের দেখা মেলে। এই জ্বলন্ত আগুনের অভিজ্ঞতা লাভের জন্য হাজার বছর ধরে দু:সাহসিক পর্যটকরা ভ্রমণের জন্য বেছে নিচ্ছে আজারবাইজানকে। ভেনীস দেশীয় এক পর্যটক সতের শতকে বেড়াতে গিয়ে লিখেছিলেন আজারবাইজানের জ্বলন্ত আগুন নিয়ে। তিনি ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য অনেক পর্যটকের লেখায়ও আজারবাইজানের এই আগুনের কথা উঠে এসেছে। এসব কারণেই দেশটি ‘আগুনের ভূমি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
একটা সময়ে দেশটিতে এই ধরনের জ্বলন্ত আগুনের ঘটনা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ভূগর্ভস্থ গ্যাস উত্তোলনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে আগুনের ঘটনা কমে এসেছে। এখনো টিকে থাকা এই ধরনের আগুনগুলোর একটি ‘ইয়ানার ড্যাগ’। চিত্তাকর্ষক এই অগ্নিকুন্ডটি তাই অনেক পর্যটকের কাছেই বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
ইরানে উত্পত্তি হওয়া জরথুস্রবাদ ধর্ম পরবর্তীতে বিকশিত হয়েছিল আজারবাইজানে। এই ধর্মের অনুসারীদের কাছে আগুন ছিল খুবই পবিত্র এক বিষয়। তারা মনে করতো, মানবজাতি এবং অতিপ্রাকৃত বিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির কাজটি করে আগুন। এই আগুনের শক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই আধ্যাত্মিক অন্তদৃষ্টি এবং জ্ঞানার্জন সম্ভব। জীবনের ধারাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং প্রার্থনার এক মাধ্যমও এই আগুন। তবে এখন যে সব পর্যটক সেখানে বেড়াতে যায় তারা কেউ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যান না।
জ্বলন্ত আগুনের এই স্থানে ১৯৭৫ সালে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ভবন। ১৯৯৮ সালে যেটি বিশ্ব ঐতিহ্যময় স্থানের স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রতি বছর এখানে গড়ে ১৫ হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসে। এই আগুন দেখতে হলে আপনাকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হবে দেশটির উত্তর প্রান্তে।-সিএনএন
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × two =