Templates by BIGtheme NET
Home / slider / পার্বত্য চট্টগ্রামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ সংগ্রাম

পার্বত্য চট্টগ্রামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ সংগ্রাম

Loading...

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ নামে আলাদা ভূখণ্ড গঠনের ষড়যন্ত্রকারীরা ফের সংগঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করেই তাদের তত্পরতা বেড়ে গেছে। বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পরিপন্থি উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। জুম্মল্যান্ডের জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্ররোচনাও দেওয়া হচ্ছে।
তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কথিত জুম্মল্যান্ড আন্দোলনকারীদের ‘ইউনাইটেড জুম্মল্যান্ড, অ্যাফিলিয়েটেড বাই রিপাবলিক অফ জুম্মল্যান্ড’ (United Jummaland, Affiliated by Republic of Jummaland) নামে ফেসবুক পেজ রয়েছে। ওই পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এম এন লারমা) মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বছর ভারতের নয়াদিল্লীতে ‘মার্টিয়ার ডে’ শিরোনামে একটি শোকসভা আয়োজন করা হয়। ওই সভার ব্যানারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তথাকথিত ‘জুম্মল্যান্ড’ এর মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে কথিত জুম্মল্যান্ডের স্বঘোষিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী করুণালংকার ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী রাজনীতিকের চলতি বছরের মার্চে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার আয়োজনের তথ্য রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয় বলে একটি সরকারি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, জুম্মল্যান্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাধীন জুম্মল্যান্ডের পতাকা, মানচিত্র, পরিচয়পত্র, মুদ্রা এবং রেডিও চ্যানেলের ছবি  প্রকাশ করা হয়েছে। এ সপ্তাহে তারা জুম্ম জাতীয় সঙ্গীতও প্রকাশ করেছে। জুম্মল্যান্ড এর সঙ্গে জড়িতদের ধৃষ্টতা সম্প্রতি এতটাই বেড়েছে যে তারা আগামী ১০ নভেম্বর কথিত জুম্ম জাতীয় শোক দিবসে জুম্মল্যান্ডের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও দিনটিকে জুম্ম জাতির জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জুম্মল্যান্ড নিয়ে চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো তত্পরতা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। রাষ্ট্র বিরোধী প্রচার প্রচারণা বরদাশত করা হবে না। এই দুষ্কর্মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে আগামী ১০ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এম এন লারমা ১৯৮৩ সালের এই দিনে নিজ দলের বিদ্রোহী সশস্ত্র শাখার গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। এই দিনটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সশস্ত্র সংগঠনের একটি অংশ জুম্মজাতির শোক দিবস হিসেবে পালন করে। উপজাতি সশস্ত্র সংগঠনের ওই গ্রুপ এমএন লারমাকে তাদের জাতির পিতা বলে মান্য করে। যদিও গত ৩৫ বছরে তারা কখনো তাদের কথিত এই জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়নি। উপরন্তু ১০ নভেম্বরকে পুঁজি করে প্রতিবছর উপজাতি সংগঠনগুলো ব্যাপক চাঁদাবাজি করে নিজেদেরকে আর্থিকভাবে হূষ্টপুষ্ট করছে।
এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জড়িত একটি অংশ চাঁদাবাজিতে জড়িত। পুলিশ, সেনাবাহিনী একযোগে সেখানে কাজ করছে। প্রয়োজনে আমরা অভিযান আরো জোরদার করব।
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × four =