Templates by BIGtheme NET
Home / slider / নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, সবাই অংশগ্রহণ করুন: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, সবাই অংশগ্রহণ করুন: প্রধানমন্ত্রী

Loading...

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সপ্তাহব্যাপী সংলাপ গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টকে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করে জনগণের রায় গ্রহণ করুন। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই বিজয়ী হবে। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপ শেষ হলেও পরে ছোট পরিসরে সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দল ও জোটের মধ্যে আলোচনা চলতে পারে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সংলাপে অংশ নিয়ে তার বেইলি রোডের বাড়িতে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা আরও হবে।
এদিকে গতকালের সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মেয়াদপূর্তির পর সংসদ ভেঙে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ আদলে ১১ সদস্যের উপদেষ্টা নিয়ে নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা সংবিধানসম্মত নয়। এই দাবি মেনে নিলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ সুযোগে ওয়ান ইলেভেনের মতো অনভিপ্রেত ও অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক কোনো অভিসন্ধি নিয়ে কাজ করি না। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা থাকব। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা জিতবেন। নির্বাচনে কোনো প্রকার কারচুপি, জালিয়াতি কোনো কিছু হবে না। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে, ক্রেডিবল ইলেকশন হবে, অ্যাকসেপ্টেবল ইলেকশন হবে এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক যেকোনো বুথে যেতে পারে, যেকোনো নির্বাচন কেন্দ্রে যেতে পারে। তারা (নির্বাচন পর্যবেক্ষক) যেভাবে চান, নির্বাচন কমিশন অ্যালাউ করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’ সুষ্ঠু নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে পিছিয়ে দিতে গিয়ে কোনো অপশক্তিকে ফাঁকফোকর দিয়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেবেন না, যেটা আপনাদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, আমাদের সকলের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।’ এদিকে রাজনৈতিক মামলা হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের আর গ্রেফতার করা হবে না বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, সংলাপ চলাকালে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে লিখিত প্রস্তাবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, দুইটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি করেন। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের রূপরেখায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। এদের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকার সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেবেন।’ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট প্রস্তাব দিয়ে বলেছে, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত প্রায় ২০ মাসে অনেক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করলেও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিইসি পদে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, ‘খালেদা জিয়াসহ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের অবিলম্বে অন্তত জামিনে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিংয়ের ফলে তথ্যপ্রযুক্তিগত অপরাধ ছাড়া বাক ও মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত অপরাধের ব্যাপারে নির্বাচনকালীন সময়ে (ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত) মামলা দায়ের করা যাবে না।’ সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন চায়; কিন্তু এটা হলে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে বলে ঐক্যফ্রন্টকে জানানো হয়েছে। সংবিধানের বাইরে গিয়ে এমন দাবি মেনে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
বেলা ১১টা ১০ মিনিটে গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে সংলাপ শুরু হয়। শেষ হয় বেলা দুইটায়। সংলাপে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষে সংলাপে অংশ নেন ১২ নেতা। অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১১ নেতা। ১১টা ১০ মিনিটে সংলাপের জন্য নির্ধারিত স্থান গণভবনের সংলাপস্থলে প্রবেশ করেন শেখ হাসিনা। হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি শুরুতেই ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তো মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছেন। আপনাদের অভিনন্দন। এসময় তিনি আবারও তাদের গণভবনে স্বাগত এবং আসার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সংলাপ শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আবারও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। ছোট পরিসরে আরও আলোচনা হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, তারা সংবিধানের পরিপন্থি ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বক্তব্য নিয়ে এসেছেন। তাদের এসব বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর কথা বলেছে। তবে আওয়ামী লীগ বলেছে, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপ ভালো হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পরও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছ থেকে সংলাপ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যই পাওয়া গেছে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংলাপ মনঃপূত হয়নি। সংলাপে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো সমঝোতা হয়নি, সমাধানও পাইনি।
সংলাপে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের যেসব নেতা অংশ নেন, তারা হলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু; আইনমন্ত্রী আনিসুল হক; আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এবং দফতর সম্পাদক ড. আবদুর সোবাহান গোলাপ।
ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর আহমেদ।
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four + 8 =