Templates by BIGtheme NET
Home / slider / তারেকের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছিল হামলাকারীরা

তারেকের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছিল হামলাকারীরা

Loading...

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম হোতা জঙ্গি মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে জানান, ওই হামলায় তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছিলেন। ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মুফতি হান্নান আরো জানান, তারেক জিয়া আমাদের সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন।
সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় সর্বোচ্চ আদালত মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং পরে তা কার্যকর হয়।
মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে যা বলা হয়েছে— ‘২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করে। তখন বিএনপি’র সাথে আমাদের সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে হরকাতুল জিহাদের আমীর মাওলানা আবদুস সালাম, শেখ ফরিদ, মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বক্কর ও জাহাঙ্গীর বদর একত্রে চট্টগ্রামের বিএনপি’র এমপি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও কুমিল্লার মুরাদনগরের এমপি কায়কোবাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও দেখা করে। ১৯৯৬ সালে যে ৪১ জন ধানখালীতে গ্রেফতার ছিল তাদেরকে হাইকোর্ট থেকে জামিনের ব্যবস্থা করে দেয়। এভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে এবং আমরা তাদের সহায়তাও পেয়ে আসতে থাকি। ২০০৩ সালের শেষের দিকে আমাদের আমীর মাওলানা আবদুস সালাম, শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিন তত্কালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের সাথে যোগাযোগ করে। যোগাযোগের মাধ্যমে তারা বাবর সাহেবের বেইলী রোডের সরকারি বাসায় যান। সেখানে উপস্থিত জিকে গাউস, আরিফুল ইসলাম আরিফ (কমিশনার), ইয়াহিয়া (মাওলানা), আবু বক্কর, ওরফে আবদুল করিম (মৌলভীবাজারের বড়লেখা) উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। সেখানে আমীর সাহেবের সাথে কথা বলে এবং জিকে গাউস এবং আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফকে সিলেটের কাজের ব্যাপারে বলেন এবং স্থানীয়ভাবে কাজের জন্য হুকুম দেন বাবর। সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও হরকতের লোক দ্বারা বিভিন্ন জায়গায় গ্রেনেডের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে ২০০৪ সালের প্রথমদিকে হরকাতুল জিহাদের একটি মিটিং হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমাদের আমীর মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর (জান্দাল)। ওই মিটিং হয় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডস্থ দারুল আরকান মাদ্রাসায় (হরকতের অফিস দোতলায়)। ওই মিটিংয়ে আবু বক্কর ও ইয়াহিয়াও উপস্থিত ছিলেন। এরা মিটিং করে কিভাবে তারেক জিয়া ও বাবরের সঙ্গে কি কথা বলা যায়। আমরা পরে মোহাম্মদপুর সাত মসজিদে মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা তাজউদ্দিন, কাশ্মিরী নাগরিক আবদুল মাজেদ ভাটসহ একত্রে পরামর্শ করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করি। মাওলানা তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহ করার দায়িত্ব নেন। তাজভাই উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর আমাদের সাহায্য করবে মর্মে জানায় এবং তারেক জিয়ার সাথে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর একদিন (তারিখ ও সময় মনে পড়ছে না) মুরাদনগরের এমপি কায়কোবাদ সাহেব আমাদেরকে হাওয়া ভবনে নিয়ে গিয়ে তারেক জিয়া ও হারিছ চৌধুরী সাহেবদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমরা আমাদের কাজকর্মের জন্য তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা চাইলে তারেক জিয়া আমাদের সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপর আমরা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার জন্য  মোহাম্মদপুরসহ আরো কয়েক জায়গায় গোপন মিটিং করি।
আমরা ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে সিলেটে গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভার সংবাদ জানতে পারি। সেখানে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় তারেক জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়। আমি, মাওলানা আবু তাহের,  শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিন আল মারফাজুলের গাড়িতে করে মাওলানা রশিদসহ হাওয়া ভবনে যাই। সেখানে হারিছ  চৌধুরী, লুত্ফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামের মুজাহিদ ব্রিগেডিয়ার রেজ্জাকুল হায়দার,  ব্রিগেডিয়ার আবদুর রহিমকেও উপস্থিত পেয়েছি। কিছুক্ষণ পর তারেক জিয়া আসেন। আমরা তাদের কাছে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ  নেতাদের উপর হামলা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তাদের সহায়তা চাই। তখন তারা আমাদের সকল প্রকার প্রশাসনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
তারেক সাহেব বলেন যে, আপনাদের এখানে আর আসার দরকার নাই, আপনারা বাবর সাহেব ও আবদুস সালাম পিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করবেন, তারা আপনাদের সকল প্রকার সহায়তা করবে।
১৮ আগস্ট আমি, আহসান উল্লাহ কাজল, মাওলানা আবু তাহের আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির সরকারি বাসায় যাই। সেখানে আবদুস সালাম পিন্টু, বাবর, মাওলানা তাজউদ্দিন কমিশনার আরিফ ও হানিফ পরিবহনের হানিফ উপস্থিত ছিল। আবদুস সালাম পিন্টু ও লুত্ফুজ্জামান বাবর বলেন যে, কমিশনার আরিফ ও হানিফ সাহেব আপনাদের সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবে এবং আমাদের সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। সে মোতাবেক ২০ আগস্ট মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল ও আহসান উল্লাহ কাজল আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে ১৫টি গ্রেনেড ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাড্ডার বাসায় নিয়ে আসে। ২১ আগস্ট আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে  গ্রেনেড হামলা চালাই।’
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × three =