Home / slider / উচ্চ প্রবৃদ্ধি মারণাস্ত্রের মতোই ভয়াবহ

উচ্চ প্রবৃদ্ধি মারণাস্ত্রের মতোই ভয়াবহ

Loading...

প্রবৃদ্ধির বাড়বাড়ন্তকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমরা খুব উত্ফুল্ল হচ্ছি। কারণ আমাদের অর্থনীতি বাড়ছে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, প্রবৃদ্ধি যত বাড়ছে ততই সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে। কিছু মানুষের হাতে সম্পদ চলে যাচ্ছে। এটা মারণাস্ত্রের মতোই ভয়াবহ।’ ভারতের সিল্কসিটি হিসেবে খ্যাত বেঙ্গালুরুর ইনফোসিস ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘অষ্টম সোশ্যাল বিজনেস ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাইডলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন সামাজিক ব্যবসার এই প্রবক্তা।

প্রবৃদ্ধির কারণে যে সম্পদ বৈষম্য হচ্ছে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ বলেন, সম্পদের জন্য ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে এমন অসন্তোষ তৈরি হতে পারে, যেই অসন্তোষ থেকে ঝগড়া-বিবাদ-যুদ্ধ-হানাহানি করে মানুষ হয়তো নিজেকেই নিশ্চিহ্ন করে দেবে। সে কারণে এটা ভয়ের। সাক্ষাৎকারে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি যদি সবার মধ্যে সমানভাবে হতো তবে ভয়ের কারণ ছিল না। চীনে যত দিন প্রবৃদ্ধি ছিল না তত দিন সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়নি। এখন হচ্ছে। তাই উচ্চ প্রবৃদ্ধির কথা শুনে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের মনে হয়, কিন্তু এটা দুঃখেরও।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না প্রবৃদ্ধি বন্ধ করে দিতে হবে। তবে এর সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আর এ জন্য আমাদের প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বদলাতে হবে। মুনাফাভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থনীতির বদলে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে মনোযোগী হতে হবে। এটা ছাড়া গতি নেই। সম্পদের বৈষম্য সৃষ্টির পেছনে মানুষের চাকরি করার মানসিকতাকে দায়ী করে ড. ইউনূস বলেন, ‘গোলমালের মূলই হচ্ছে চাকরি। আমরা চাকরি করি বলেই বিশ্বের সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে। আমরা তাদের সম্পদ এনে দিচ্ছি। আমরা হলাম ভাড়া করা সৈনিক। চাকরি পেয়েই খুশি। বাড়ি গিয়ে বলি, আমাদের বেতন বাড়ছে, প্রমোশন হচ্ছে।’

কেন্দ্রীভূত সম্পদের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পৃথিবীর জন্য দ্বিতীয় অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘প্রযুক্তি উন্মুক্ত করে দেওয়া যাবে না। এ জন্য সবার সম্মিলিত মতামত নিয়ে জাতিসংঘের একটি গাইডলাইন করা উচিত। এমন কোনো প্রযুক্তি কেউ তৈরি করতে পারবে না, যেটা মানুষ ও পৃথিবীর ক্ষতি করে। এটি করতে গেলে তখন সেই গাইডলাইনে জাতিসংঘ বাধা দেবে, যে এটা তুমি করতে পার না।’

প্রথমবারের মতো এবার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে অনুষ্ঠিত হলো সোশ্যাল বিজনেস ডে। ২৮ ও ২৯ জুলাই দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের মূল স্লোগান ছিল ‘আ ওয়ার্ল্ড অব থ্রি জিরোস’। শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ—এই তিনটি শূন্য অর্জনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বোদ্ধাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্যানেল সেশনে আলোচনা করেন প্রফেসর ইউনূস।

বাংলাদেশে এই তিন শূন্য অর্জনের বাস্তবতা কতটা আছে—এমন প্রশ্নে দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের এই প্রবক্তা বলেন, ‘সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দারিদ্র্য নির্মূল সম্ভব। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দিয়ে সেটা হবে না। কারণ প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই দারিদ্র্য রয়েছে। আমরা বলছি দারিদ্র্য কমছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত দারিদ্র্যের মূল কারণ পাল্টানো যাবে না, ততক্ষণ দারিদ্র্য নির্মূল হবে না।’

বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরি করছি বলেই বেকারত্ব বাড়ছে। আমরা যদি চাকরির পেছনে সবাই না দৌড়াতাম, তাহলে কিসের বেকারত্ব। এ জন্য সবাইকে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমরা চাকরি করব না, চাকরি দেব—এটাই সোশ্যাল বিজনেসের মূল কথা।’

শূন্য কার্বন নিঃসরণ নিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘এই যে কোল্ড ফায়ার প্লান্ট হচ্ছে, পরিবেশবাদীরা বলছেন ভুল ভুল, কেউ কেউ গর্ত খুঁড়ছে, অন্যদিকে গর্ত বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। এই নীতির পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের কার্বনবিহীন প্রযুক্তিতে যেতে হবে। যদি কার্বন তৈরি করি, তবে সঙ্গে সঙ্গে গাছও লাগিয়ে দিতে হবে, যাতে কার্বন নিঃশেষ হয়।’ সূত্র: বিডি প্রতিদিন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*