Templates by BIGtheme NET
Home / slider / ঋণের টাকায় জমি কিনে ‘ধরা’ কম্পিউটার সোর্স

ঋণের টাকায় জমি কিনে ‘ধরা’ কম্পিউটার সোর্স

Loading...

দেশের এক সময়কার সেরা তথ্যপ্রযুক্তি আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড (সিএসএল) ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নেওয়া ঋণের বড় অংশই অপব্যবহার করেছে। ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে কোম্পানিটি প্রচুর জমি কিনেছে। জমির দাম যখন হু হু করে বাড়ছিল, তখন বেশি মুনাফার লোভে তারা ঋণের টাকা জমিতে বিনিয়োগ করে। জমির দাম পড়ে যাওয়ায় সিএসএল এখন পছন্দমতো ক্রেতা পাচ্ছে না, ব্যাংকের ঋণও পরিশোধ করতে পারছে না। লোভে পড়ে ‘ধরা’ খেয়েছে আইটি খাতে বেশ পরিচিত এ কোম্পানি।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সিএসএলের নামে পাঁচ ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৬৪ কোটি টাকার ঋণ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থ আদায়ে মামলায় যাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এদিকে কোম্পানির এমডির নামে সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানি থাকায় ঋণের একটি অংশ সেখানে পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

১৯৯৩ সালে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে কম্পিউটার সোর্স। ডেল, অ্যাপল, ফুজিৎসু, স্যামসাং, এইচপি, ইনটেলসহ বহুজাতিক বড় ব্র্যান্ডের প্রযুক্তি পণ্যের সরবরাহ করতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪৭টি নিজস্ব শোরুম খোলেন তারা। কোম্পানির প্রধান কার্যালয় মিরপুর রোডের আল্পনা প্লাজায় ।

শোরুমের পাশাপাশি সারাদেশের অনেক ডিলার তাদের থেকে প্রযুক্তি পণ্য কিনে বিক্রি করতেন। কম্পিউটার সোর্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামিদামি ৪৭টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা আমদানি করত। তবে ঋণ খেলাপি হওয়ায় এখন আর কম্পিউটার সোর্স নিজের নামে পণ্য আনার সুযোগ পাচ্ছে না। ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প পরিসরে কিছু পণ্য আমদানি করে নিজস্ব ১৭টি শোরুমের মাধ্যমে বিক্রি করছে।

বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের সুনাম থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য সহজে ঋণ পায় কম্পিউটার সোর্স। তবে ঋণের টাকা ব্যবসায় কাজে না লাগিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি কেনে। তখন কী দামে কোন জমি কেনা হচ্ছে, সেদিকে খুব একটা নজর দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। অনেক ক্ষেত্রে এসব জমির দাম অনেক কমে গেছে।

ঋণের একটি অংশ দেশের বাইরে পাচার হতে পারে সন্দেহ করা হচ্ছে। কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ মো. মাহফুজুল আরিফ সিঙ্গাপুরে প্রতিষ্ঠিত ইলেকট্রো সেবাল প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক বলে জানা গেছে। বৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে মাহফুজুল আরিফ সিঙ্গাপুরে টাকা নেননি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ মো. মাহফুজুল আরিফ প্রযুক্তি অঙ্গনে পরিচিত নাম। তিনি দুই দফায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি ছিলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, তিনি এখন সিঙ্গাপুরে থাকেন। কম্পিউটার সোর্সের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে মাহফুজুল আরিফের স্ত্রী সাইয়েদা মাজেদা মেহের নিগারের। এ ছাড়া পরিচালক হিসেবে আছেন মো. মুখলেছুর রহমান, আসিফ মাহমুদ, এসএম মহিবুল হাসান, মো. শামসুল হুদা ও আসুব উল্লাহ খান।

জানতে চাইলে কম্পিউটার সোর্সের পরিচালক আসুব উল্লাহ খান সমকালকে জানান, এখন তাদের কোম্পানির মূল সমস্যা নগদ টাকার সংকট। আর এ বিপর্যয়ের মূল কারণ জমি ক্রয়। এক সময় জমির দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় জমি থেকে অনেক বেশি আয় করতে চেয়েছিলেন তারা। তবে তাদের প্রকল্পগুলো অনেক বড় হওয়ায় এসব জমির ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। নগদ টাকার সংকটের কারণে করপোরেট ডিস্ট্রিবিউশনে ঠিকমতো ‘ওয়ারেন্টি’ দিতে না পারায় অনেকে টাকা ফেরত দিচ্ছে না। করপোরেট ডিস্ট্রিবিউশনে বর্তমানে প্রায় ৯০ কোটি টাকা পড়ে আছে বলে জানান তিনি। ব্যবসার নামে ঋণের টাকায় জমি কেনা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, জমি কেনাই তাদের কাল হয়েছে।

জানা গেছে, কম্পিউটার সোর্সের কাছে এককভাবে সবচেয়ে বেশি টাকা পাবে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির পাওনা ১০১ কোটি ২৯ লাখ টাকা এখন খেলাপি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৬ কোটি ২০ লাখ টাকা পাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ব্যাংক এশিয়া পাবে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর সিটি ব্যাংক তিন কোটি ২০ লাখ এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পাবে ২৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইউনিয়ন ক্যাপিটালের পাওনা রয়েছে ২৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এসব ঋণের পুরোটাই এখন খেলাপি। গত বছরের ডিসেম্বরের সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ একশ’ খেলাপির তালিকায় নাম ছিল কম্পিউটার সোর্সের। যদিও সেখানে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৮৭ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী সমকালকে বলেন, তার জানা মতে, কম্পিউটার সোর্সের এমডি এএইচএম মাহফুজুল আরিফ টাকা-পয়সা নিয়ে এখন সিঙ্গাপুরে আছেন। প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা আদায়ে ব্যাংক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিগগিরই মামলা করা হবে।

কম্পিউটার সোর্সের পরিচালক আসুব উল্লাহ খান আরও বলেন, ঋণ খেলাপি বলে আমদানি করতে না পারার তথ্যটি ঠিক। তবে সব ব্যাংকে তারা খেলাপি নন। আর সব ঋণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জামানত রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকে হাইটেক পার্কের কাছের একটি বাণিজ্যিক প্লট জামানত রাখা আছে। ইউনিয়ন ক্যাপিটালের কাছে পাঁচ কাঠার তিনটি প্লটে বাড়িসহ জামানত রাখা আছে। এভাবে সব ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত জামানত রয়েছে। এসব বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করা যাবে। কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনার তুলনায় জমির মূল্য কম হওয়ায় জামানত নগদায়ন করছে না ব্যাংকগুলো। সূত্র: সমকাল

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × 5 =