নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি
জীবনযাত্রায় হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ

Loading...

পাঁচ সদস্যের এক পরিবারের একমাত্র অর্থ উপার্জনকারী রুপালী আক্তার। তিনি তাঁর পরিবারকে নিয়ে সাভারের বাণিজ্যিক এলাকায় বাস করেন।

সাভারের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ওভারটাইম সহ মাত্র ১০ হাজার টাকায় সেলাইয়ের কাজ করেন রুপালী। দিন দিন বাজার দর বেড়ে চলাতে বিভিন্ন দরকারি পণ্য কেনার জন্যে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা থাকছে না তার। এর জন্যে তাকে ধার এবং বাকি করে এসকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে সংসার চালাতে হয়।

তিনি জানান, ‘আগে আমি আমার পরিবারের মাসিক চাহিদা মেটাতে ৫০ কেজির একটি চালের বস্তা কিনতাম। তবে এখন চালের দাম বাড়াতে প্রতিবারে ২০ কেজির বেশি চাল কিনতে পারি না।‘

তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে যেই চাল তিনি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কিনেছেন, সেটির মূল্য এখন ৫০ টাকায় গিয়ে থেকেছে।

শুধু তাই নয়, শাকসবজির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তার দুঃখ যেন আরও তার আর্থিক সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রুপালী বলেন, ‘আর্থিক সমস্যার কারণে আমার পরিবারের চাহিদার চেয়ে কম কিনতে হচ্ছে।‘

বর্তমান সময়ে সকল সবজির দাম চড়া। এখন যেই সবজি ৫০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে, তা এই চলতি বছরের শুরুর দিকে দাম ছিল মাত্র ২০-৩০ টাকা।

গত মাসে অতিরিক্ত বন্যা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে চালের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

গত দুই সপ্তাহে চালের দাম একটু কমে আসলেও এখনো গরীবদের জন্যে সামর্থ্যের বাইরে।

এই বিষয়ে রুপালী বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে আমাদের মত গরীব শ্রমিকদের টিকে থাকা হুমকির মধ্যে পড়েছে। আমরা চাই যাতে এই পণ্যগুলোর দাম কমে, যাতে করে আমরা একটু স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারি।‘

আমাদের সমাজে শুধু এই একজন রুপালী নয়। উনার মত এরকম লক্ষ লক্ষ নিম্ন আয়ের মানুষ এই অতিরিক্ত দাম বাড়ার ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ (বিএসএনএস) এর একটি তথ্যের মতে, চলতি বছরের শুরুর চাইতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Loading...

বিএসএনএস একটি সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ‘এই দাম বৃদ্ধির তুলনায় বেতন বৃদ্ধি পায়নি।‘

বিএসএনএসের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমানের অবস্থা অনুযায়ী যদি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পায়, তাহলে মধ্য এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্যে জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পরবে।‘

তিনি সরকারকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চেয়ে কমানোর জন্যে আহ্বান করেন।

ঢাকায় কর্মরত বেসরকারি চাকুরীজীবী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানো একেবারেই যথাযথ নয় এবং এটি জীবনযাত্রার খরচ বহুগুন বাড়িয়ে দেবে। বিদ্যুৎ একটি প্রয়োজনীয় পণ্য হওয়াতে অন্যান্য খরচ মেটাতে জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাবে।‘

সাইফুল আরও জানান, তার বেতনের অর্ধেকই বাসা ভাড়ার পেছনে ব্যয় হয়। এর সাথে তার দুটি সন্তান এবং একটি শ্যালিকাকে পড়াশুনা করাতেও অনেক টাকা ব্যয় হয় তার। এগুলোর পেছনে খরচ করার পর দৈনন্দিন জীবনের জন্যে তার খুব একটা বেশি টাকা থাকে না।

তিনি বলেন, ‘আগে আমি অল্প কিছু হলেও জমাতে পারতাম, তবে এখন আর কিছুই জমাতে পারছি না। আমাকে ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে।‘

এই দাম বাড়ার ফলে অধিকাংশ মানুষের জীবনে আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

যদি এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এই হারে বাড়তে থাকে, তাহলে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ভয়ংকরভাবে প্রভাব ফেলবে। সূত্র : ডেইলি স্টার

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*