নৈসর্গিক সৌন্দর্যের রূপ রাঙামাটি

ভ্রমণ ডেস্ক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট এই জেলা শহর আর আশপাশে সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় স্থান। এখানকার জায়গাগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজে। তবে বর্ষার সাজ একেবারেই অন্যরকম। শহরের কালো ধোঁয়া থেকে দূরে চলে গিয়ে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে ঘুরে আসতে পারেন রাঙ্গামাটি।

বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অপার সম্ভাবনাময় নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। প্রকৃতি যেন বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকে রাঙামাটিতে। চলাচলের প্রধান যানবাহন সিএনজি। ঢাকা শহরে বাস যেমন লোকাল চলে, সেখানে সিএনজিও লোকাল যাত্রী বহন করে।সিএনজিতে বসে বসে পাহাড়ের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ না হওয়ার কোন উপায় নেই।

এই গরমের মাঝেও যদি কুয়াশা দেখতে চান তাহলে ভোর ৫টায় চোখ মেলে আকাশ পানে তাকাতে হবে আপনাকে। আবার ৮টার পর থেকেই রোদের প্রতাপ বাড়তে থাকে।


রাঙামাটি মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু:
রাঙামাটি শহরের শেষপ্রান্তে হ্রদের ওপর গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মোটেল পেরুলেই ঝুলন্ত সেতু। ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে দৃশ্যমান লেকের অবারিত জলরাশি ও দূরের উঁচু-নিচু পাহাড়ের আকাশছোঁয়া বৃক্ষরাজি। পর্যটন কর্পোরেশন ১৯৭৮ সালে মূল মোটেলটি নির্মাণ করে। ৮৬ সালে মোটেলের আধুনিক অডিটোরিয়াম ও ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন। ঝুলন্ত সেতু ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ, ৮ ফুট প্রশস্ত এবং উভয় পাশে টানা তার দ্বারা বেষ্টিত। সেতুটির কারণেই মোটেলের গুরুত্ব ও আকর্ষণ অনেকগুণ বেড়ে গেছে। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এখানে আরও রয়েছে কটেজ, পার্ক, পিকনিট স্পট, স্পিড বোট ও সাম্পান টাইপের নৌযান।

রাজবন বিহার:
পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় তীর্থস্থান রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহার। চাকমারা অবশ্য বিহার বা মন্দিরকে কিয়াং বলে থাকেন। এটি মূলত আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান বৌদ্ধবিহার হিসেবে পরিচিত। রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের রাজবাড়ির পাশেই এর অবস্থান। ১৯৭৬ সালে রাজবন বিহার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থাবির (বনভান্তে) অধ্যক্ষরূপে রয়েছেন। ৩৩ দশমিক ৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বিহার এলাকায় ৪টি মন্দির, ভিক্ষুদের ভাবনা কেন্দ্র, বেইনঘর, তাবতিংশ স্বর্গ, বিশ্রামাগার ও হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিবছর বিহারে কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে, যা দেশের আর কোন বৌদ্ধধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিরল।


শুভলং জলপ্রপাত:
রাঙামাটির শুভলং জলপ্রপাত সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি। পাহাড়ি ঝরনার শীতল জলধারা শুধু মনুষ কেন পাখিকেও দুর্বিনীত আকর্ষণে আকর্ষিত করে। শুভলং ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপূর্ব নৈসর্গিক সৃষ্টি। শুভলং ঝরনা ৩০০ ফুট উঁচু থেকে বর্ষাকালে জল ধারার অবিরাম পতনে সৃষ্ট ধ্বনিসমেত। শুভলং ঝরনা রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত। কালিট্যাং তুগ এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটির উচ্চতা প্রায় ১৮৭০ ফুট।

এই শৃঙ্গের পাদমূলে বরকল উপজেলা কমপ্লেক্স অবস্থিত। এই পর্বতশৃঙ্গ হতে রাঙামাটি জেলা সদর এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্যটি দৃষ্টিগোচর হয়। শুভলং ঝরণা ভিজিট করতে হলে রাঙামাটি সদরের তবলছুড়ি বাজার থেকে নৌযানে ২ ঘণ্টায় সরাসরি শুভলং যেতে পারেন। রাঙামাটি গেলে অবশ্যই এই কয়েকটি স্থান ঘুরে আসুন। সারাজীবন এই স্মৃতি আপনাকে আনন্দ দেবে।

কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির সরাসরি বাস রয়েছে। আবার চিটাগং হয়েও যাওয়া যায়। যে পথেই যান না কেন খরচ হবে ৬৫০ টাকার মধ্যে। বাসে উঠতে পারবেন কল্যাণপুর, কলাবাগান, সায়েদাবাদ থেকে।

রাঙ্গামাটি পৌছানোর পর যেতে হবে রিজার্ভ বাজার। সেখান থেকে যেতে পারেন লঞ্চে। সকাল সাড়ে ৬টায় এবং দুপুর আড়াইটায় লঞ্চ ছাড়ে জুরাছড়ির উদ্দেশ্যে। যদি জুরাছড়িতে রাতে না থাকেন তাহলে দুপুর দেড়টা অথবা রাত ৮টার লঞ্চে ফিরতে পারবেন। ভাড়া নেবে ৭০ থেকে ২০০ টাকা। রিজার্ভ বোট ভাড়া নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কয়দিনের জন্য নিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করবে ভাড়া।

ad
ad

আরও সর্বশেষ

ad
ad

আরও সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ