মক্কা শরিফের জুমার খুতবা
মুসলিম ব্যক্তি নতুন বছর উদ্বোধন করবে রোজা পালনের মধ্য দিয়ে

Loading...

সওয়াব অর্জনের পথ অসংখ্য। যারা সওয়াব অর্জন করতে চায় তাদের জন্য সঞ্চয় করা সহজলভ্য। অজ¯্র সওয়াবের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে। তারা হবে প্রভুর একান্তব্যক্তি। বহু নেককারদের কাতারে শামিল হবে। পূণ্যের অন্যতম বড় উপলক্ষ হলো মুসলিম ব্যক্তি তার নতুন বছরটি উদ্বোধন করবে রোজা পালনের মধ্য দিয়ে। কুপ্রবৃত্তি যেন অভ্যস্ত হয় অবৈধ বাসনা, কল্পনা ও ভাবনার মুখোমুখি হয়ে অবাধ্যতার রাশ টানতে।

Loading...

মানুষের মধ্যে মহান আল্লাহর অসংখ্য রহমত, কল্যাণ সাধনের ইচ্ছা, সর্বজনীন দয়ার নিদর্শন পরিষ্কার ফুটে ওঠে নেকি ও কল্যাণের বহুবিধ এবং নানামুখী উপায় থেকে। তাদের ওপর সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়েত অবতীর্ণ করে তিনি কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন; নেকির পথে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর নবীও এতে পথপ্রদর্শন করেছেন সহি সুন্নতে ও আপন জীবনে।
মহান আল্লাহর মাস মহাররমে রোজার রয়েছে মহা পূণ্য। যে বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন মহানবী (সা.) তাঁর বাণীতে, আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত : ‘রমজানের পরে সর্বোত্তম হলো মহররম মাসের রোজা আর ফরজ নামাজের পরে সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নফল নামাজ (তাহাজ্জুদ)।’ (সহিহ মুসলিম)।

রোজা যখন সম্পাদন হয় কোনো হারাম তথা সম্মানিত মাসে, তখন তা সোনায় সোহাগা। রোজা নিজে মর্যাদাবান আমল, উপরন্তু তাতে যোগ হয় সময়ের মর্যাদা। আর এ মাসে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন রোজা আশুরার সাওম। কারণ এ দিন মুসা (আ.) কে অবাধ্য ফেরাউনের বিরুদ্ধে বিজয় দান করেছেন। যে কিনা ‘তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দুর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করত এবং নারীদের জীবিত রাখত।’ (সূরা কাসাস : ৪)। সীমা ছাড়িয়ে সে এমনই দাম্ভিক হয়ে যায় যে, তাদের উদ্দেশে বলে, ‘আমি জানি না যে, আমি ছাড়া তোমাদের কোনো উপাস্য আছে।’ (প্রাগুক্ত : ৩৮)। সে দাবি করে বসে, ‘আমিই তোমাদের সেরা পালনকর্তা।’ (সূরা নাজিয়াত : ২৪)। ফলে সাগরে ডুবিয়ে মেরে তার বড়াই চূর্ণ করা হয়। সে ও তার সৈন্যদের অমূলক অহংকারের সাজা দেয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের দম্ভ নিশ্চিহ্ন হওয়ার বৃত্তান্ত আমাদের জন্য কোরআনে তুলে ধরেছেন, যা পঠিত হতে থাকবে। তা যাতে হয় উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ। এতে তারা বুঝবে যে, শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকিদের জন্য। বিজয় মোমিনদেরই, যদিও কিছু দেরি হয়। আর আল্লাহর সঙ্গই অবিনাশী সাহায্য, অপ্রতিরোধ্য শক্তি। এ দ্বারাই সন্ত্রস্ত ব্যক্তি নিরাপদ হয়Ñ অবহেলিত হয় সম্মানিত; শক্তিশালী হয় দুর্বল। আল্লাহ বলেন, ‘যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মুসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম। মুসা বলল, কখনোই নয়, আমার সঙ্গে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন। অতঃপর আমি মুসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রকে আঘাত কর। ফলে তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল। আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছে দিলাম। মুসা ও তাঁর সঙ্গীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম। অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জিত করলাম। নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না। আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।’ (সূরা শুআরা : ৬১-৬৮)।

এ দিনটি আল্লাহর বিশেষ মর্যাদা ঘোষিত দিনগুলোর অন্যতম, যা প্রমাণিত হয় সহি মুসলিমে আবু কাতাদা (রা.) এর বর্ণনা থেকে। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তায়ালা অতীতের এক বছরের (সগিরা) গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ বোখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি।’ গ্রন্থদ্বয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে, রুবাইয়ি বিনতে মুআওয়াজ বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন সকালে মদিনার আশপাশে আনসারিদের গ্রামগুলোয় লোক পাঠিয়ে এ ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আজ রোজা রেখেছে সে রোজা সম্পন্ন করবে, আর যে রোজা রাখেনি সে দিবসের বাকি সময় রোজা পূর্ণ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতঃপর আমরা এ দিন রোজা রাখতাম এবং আমাদের ছোট সন্তানদেরও রোজা রাখাতাম। তাদের নিয়ে আমরা মসজিদে যেতাম আর তাদের জন্য তুলার খেলনা বানিয়ে দিতাম। খাওয়ার জন্য তাদের কেউ কান্না করলে বাচ্চাটিকে ওই খেলনা দিতাম, যাতে সে ইফতার পর্যন্ত ওটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।’ অনুবাদ আলী হাসান তৈয়ব

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*