বিচার কাজে ভোগান্তির শেষ নেই
এক মামলার জটে ৭২ বছর পার

Loading...

পদ্মার পারসংলগ্ন শরীয়তপুরের বাসিন্দা কামরুল মিয়া (আসল নাম গোপন রাখা হয়েছে)। তার বাপ-দাদাসহ অনেকে ব্রিটিশ আমলে জমিদারের প্রজা হিসেবে জমিদারের ৫০০ বিঘা জমির পাশে ৩০০ বিঘা জমি চাষ করতেন, তার জমিতেই বাস করতেন। ১৯৪৬ সালের নদী ভাঙ্গনে, প্রায় ৫০০ বিঘা জমিসহ তাদের সেই জমিও হারিয়ে যায় নদীগর্ভে। সেই জমি তিন বছরের মাথায় চর হিসেবে জেগে ওঠে নদীর মাঝে। জমিদার নদীর পয়স্তি সিকস্তি আইনে মামলা করলে, জেলা প্রশাসক ঐ ৫০০ বিঘা জমি (৩০০ বিঘা জমিসহ) জমিদারের বরাবর ফেরত দেন। কামরুলের বাপ-চাচাসহ অন্যান্য প্রজা তাদের ৩০০ বিঘা জমিতে আবারও ফিরে আসেন আর অন্যান্য প্রজা বাকি ২০০ বিঘাতে চাষবাস-বসবাস শুরু করেন। প্রজাস্বত্ব আইন পাস হওয়ার পর, আর.এস রেকর্ড শুরু হয়, জরিপ কর্মীরা অন্যায়ভাবে কামরুলদের নামে ৩০০ বিঘা জমি রেকর্ড না করে, ২০০ বিঘা জমি রেকর্ড করেন। কামরুলের বাপ-চাচারা নিম্ন-আদালতে স্বত্ব ঘোষণামূলক মামলা করেন। মামলায় সোলেমূলে রায় ঘোষিত হয় ১৯৫৭ সালে। রায়ে পরিষ্কারভাবে স্থানীয় সরকারকে এই ভুল সংশোধনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তারপরেও এস.এ রেকর্ডের সময়ও ভুল থেকেই যায়। কামরুলরা ভূমি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত বিভাগীয় প্রশাসক এবং সবশেষে ভূমি আপীল বোর্ডের নিকট থেকে রায় পান সংশোধনের পক্ষে। এই রায় থাকার পরেও এসিল্যান্ড এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিষয়টি ভূমি জরিপ অধিদফতরকে প্রেরণ করেন, যারা অদ্যাবধি উল্লেখিত রেকর্ড সংশোধন করেননি। এখনও বিষয়টি ঝুলে আছে। শুধু এ ঘটনা নয় এমনিভাবে দেশের উচ্চ আদালত ও নি¤œ আদালতে মামলা আকারে ও গ্রাম্য সালিশ ব্যবস্থার মধ্যে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে আছে প্রায় দেড় কোটি আইনী সমস্যা ও বিবাদ।

বর্তমানে উচ্চ আদালতসহ জেলা জজ আদালতে প্রায় ৩২ লাখ মামলা বিচারাধীন। এর পাশাপাশি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল, পারিবারিক আদালত, নৌআদালত, পরিবেশ আদালত, ট্রাফিক আইনে মামলা, এনবিআর, দুদক আরও প্রায় ৭ লাখ মামলা বিচারাধীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের পাশাপাশি সাালিশের মাধ্যমে দ্ইু-তৃতীয়াংশ সমস্যা বা বিবাদের নিষ্পত্তি হয়। সে হিসেবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে প্রায় ৭৮ লাখ বিবাদ। সব মিলিয়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলা ও বিবাদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি দাঁড়ায়। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি গ্রামে মাসে পাঁচ থেকে দশটি সালিশ হয়ে থাকে। বর্তমানে সারাদেশে গ্রামের সংখ্যা ৮৭ হাজার ৩১৯। সে হিসেবে বছরে একটি গ্রামে পাঁচটি সালিশ হলে প্রায় ৫২ লাখ ৩৯ হাজার ১৪০ সালিশ হয়ে থাকে। আর দশটি করে হলে বছরে দেশে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ২০ সালিশ হয়ে থাকে। আদালতে মামলা চালানোর ভয়ে অনেকেই আদালতে যেতে চান না। পাশাপািশ গ্রামের টাউট শ্রেণীর লোকের খপ্পরে পড়ে আবার অনেকেই আদালতে না গিয়ে গ্রাম্য সালিশের দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েন। এখানে গ্রামের প্রভাবশালী লোকদের বড় ভূমিকা থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটা ইউনিয়নে মাসে প্রায় ৫০টির মতো মামলা বা বিবাদ ইউনিয়ন পরিষদে আসে গ্রাম-আদালত ও সালিশী পরিষদে নিষ্পত্তির জন্য। এর বাইরে প্রায় সমসংখ্যক বিরোধ নিষ্পত্তি হয় ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে সালিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে। কাজেই ইউনিয়ন পরিষদ ও সালিশের মাধ্যমে একটি ইউনিয়নে মাসে প্রায় ১০০ মামলা আসে। যেখানে ইউনিয়ন পরিষদচালিত গ্রাম-আদালত ও সালিশী পরিষদ ভালভাবে কাজ করে না, সেখানে এসব মামলা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। ইউনিয়নে লোকসংখ্যার ব্যবধান ও অন্য অনেক কারণে ইউনিয়ন ভেদে সংখ্যার কম-বেশি হবে। তাই প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে শ’খানেক মামলা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় ।

Loading...

এদিকে সুপ্রীমকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত উচ্চ আদালত ও নি¤œ আদালতে প্রায় ৩২ লাখ মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে আপীল বিভাগে বিচারাধীন ১৩ হাজার ৯২টি মামলা। হাইকোর্ট বিভাগে ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৯৪টি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ ট্রাইব্যুনালে ১৯ লাখ ১০ হাজার ৮শ’ ৪৪টি। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ৮ লাখ ৪৩ লাখ ৫২টি। এর বাইরে সার্ভে ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে ২ লাখ ৫০ হাজার, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৬০ হাজার, শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ, পারিবারিক আদালতে ৫৭ হাজার ৪৭৩টি, নৌ আদালতে ২ হাজার ৪৯২টি, পরিবেশ আদালতে ১ হাজার ৮২৭, ট্রাফিক আইন মামলায় ৩ হাজার ৭১২, এনবিআর ২৩ হাজার ২৮৯, এবং দুদকে প্রায় ৭ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা জট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আগের তুলনায় মামলা জট কমতে শুরু করেছে। আমাদের নজর দিতে হবে নতুন যে মামলা হচ্ছে তার চেয়ে যাতে বেশি করে নিষ্পত্তি হয়। সেদিকেই বেশি নজর দিতে হবে। কিছু কিছু মামলা অনেক দিন পড়েছিল। ট্রাফিক ভায়োলেন্স মামলাগুলো সিএমএম কোর্টে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। আমরা কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছি। সহিংসতার কারণে নতুন নতুন মামলা হচ্ছে। সে কারণেই আবার মামলা বেশি হচ্ছে।

এ বিষয়ে আইনবিশেষজ্ঞদের অভিমত, আমাদের মূল সমস্যা বের করে সমাধান করতে হবে। তা না হলে যেখানে আছি সেখানে থেকে যাব। নতুন নতুন বিচারক নিয়োগ করে কোনভাবেই সমস্যা সমাধান করা যাবে না। পদ্ধতিগত কারণে মামলা দীর্ঘ জটযুক্ত হচ্ছে। সনাতনী পদ্ধতিগত কারণে মামলা জট বেড়ে যাচ্ছে। অনেক মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মতে, নোটিস জারি হয় বছরের পর বছর বিলম্বে। অপরদিকে নোটিস জারি যথাযথ না হওয়ার কারণে পুনরায় নোটিস জারি করতে হয়। সংশ্লিষ্ট সেকশনে নোটিস জারি হয়ে ফেরত আসায় পরে ভুল নথিতে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে নোট প্রদান করা হয় না। জারির তথ্য সেকশনেই পড়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে হারিয়েও যায়। এ কারণে মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত হতেই দীর্ঘবিলম্ব হয়। পুনরায় মামলাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদালতের শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অনিবার্য হলেও তা করা হয় না। আদালতের এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় সেকশনে চলে যায়। নতুন করে তালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে শুনানি শেষে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে শুধু আইনজীবীদের অভিযুক্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়।

পদ্মার পারসংলগ্ন শরীয়তপুরের বাসিন্দা কামরুল মিয়া প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল বলেন যে, ‘ভূমি প্রশাসন কর্মকর্তা বা ভূমি অধিগ্রহণ কমকর্তাগণ এত আইনী সিদ্ধান্তকে আমলে না নিয়ে আসল মালিককে তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে কামরুল মিয়ার মতো অনেকের বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছেন। এখন কামরুল মিয়াদের বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট করা ছাড়া কোন উপায় থাকছে না অথচ ক্ষতিগ্রস্ত সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিগণের সমস্যার বিষয়ে আদালত বহু বছর আগেই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন, যা সরকারের ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ স্বীকার করে নিয়েছেন তাদের বিভিন্ন আদেশের মাধ্যমে। ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শুধু যেটা করতে হতো তা হচ্ছেÑ ১৯৫৭ সালের রায় ও ডিক্রি কার্যকর করা, যা তা করেননি, ফলে রায় ও ডিক্রি প্রকাশের ৬০ বছর পরেও সমস্যাটি রয়েই গেছে। সুতরাং আমি বলব যে, রায় ও ডিক্রি কার্যকর না করার মাধ্যমে যে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয় সেটা এই ঘটনায় প্রকাশিত হচ্ছে।’

সালিশের মাধ্যমে আদালতের মামলার জট কমানো সম্ভব কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে নৃবিজ্ঞানী, গবেষক, গ্রামীণ বিচারব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটা জটিল প্রশ্ন। এর উত্তরটা ব্যাখ্যা করে বলতে হবে। আমাদের আদালতে যে মামলা জট, তার সমাধান সরকার ও আদালতকেই করতে হবে। কিভাবে হবে সেটা নিয়ে বিতর্ক হয়, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। ইতোমধ্যে এডিআর বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালতের মামলা জট কমানোর চেষ্টা চলছে। এই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাটাকেও কিন্তু আপনি এক ধরনের সালিশ বলতে পারেন। কিন্তু আমরা আবহমান কাল ধরে চলে আসা যে সালিশের কথা আমরা বলছি, তার মাধ্যমে আদালত মামলার জট কমানোর চিন্তা করাটা প্রশ্নসাপেক্ষ। কেউ কেউ অসম্ভবও বলতে পারেন। কারণ সাধারণত যে মামলাগুলো সালিশে বিচার করা যায় না বা সালিশে বিচার করা যায়নি, সেগুলোই সাধারণত আনুষ্ঠানিক আদালতে রুজু হয়। তাহলে সেগুলো আবার সালিশের মাধ্যমে সমাধান করবেন কিভাবে বা মামলা জট কমাবেন কিভাবে, এটাই হলো প্রশ্ন। তবে হ্যাঁ, আদালতে মামলা জটের একটা বড় কারণ যে মামলা আদালতে যাওয়া উচিত নয়, যেগুলো হয়ত গ্রাম আদালতেই সমাধান হয়ে যেত, সেগুলো গ্রাম আদালতে পাঠিয়ে দিয়ে কিছুটা জট কমানো যেতে পারে এবং সরকার সেভাবে কিন্তু উদ্যোগ নিয়েছেও।

সালিশের মাধ্যমে মানুষের কোন উপকার হচ্ছে কি? এ বিষয়ে আইনজীবী ড. জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, যদি বিবাদ নিষ্পত্তিকে আপনি উপকার বলতে চান, তাহলে নিঃসন্দেহে সালিশের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের উপকার হচ্ছে। আমাদের দেশে যে পরিমাণ অপরাধ বা বিবাদ হয়, তার দুই-তৃতীয়াংশ এখনও সালিশের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হয়। সুতরাং এর উপকারিতা বা উপযোগিতা নিয়ে বেশি আর বলার নেই। গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্যে সালিশের শক্তিশালী বিকল্প এখনও নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালত ও সালিশী পরিষদকে বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে, কিন্তু এখনও সেইভাবে সফল হয়নি। ইউএনডিপি ও সরকারের একটা যৌথ প্রকল্প আছে যারা পাঁচ শ’ এর মতো ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের বিচার দেয়ার চেষ্টা করছে। আরও কিছু বেসরকারী আইনী সেবা সংস্থা গ্রাম আদালত ও সালিশি পরিষদ (যেটা ১৯৬১-এর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ এর আওতায় চালিত হয়) এর মাধ্যমে মানুষকে বিবাদের সমাধান দেয়ার কাজ করছে। কিন্তু এখনও সালিশই গ্রামবাংলার মানুষের প্রধান ভরসার জায়গা এবং এখানে এমন কোন অপরাধ বা বিবাদ নেই যেগুলো নিষ্পত্তি হয় না। যদিও আইনগতভাবে খুন-খারাবির মতো ফৌজদারি অপরাধগুলোর বিচার সালিশে হওয়ার কথা নয়, কিন্তু আপনি গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখুন, এমন ধরনের বড় অপরাধগুলোও সালিসে নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে। আবহমান কাল ধরে সালিশের মাধ্যমে প্রায় সব রকমের অপরাধ ও বিবাদের নিষ্পত্তি হয়ে আসছে।

সালিশের আইনী ভিত্তি প্রসঙ্গে ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, হাজার বছর ধরে এটা হচ্ছে। এটাকে আমাদের গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থার ঐতিহ্য বলতে পারেন। আইনগতভাবে যদি বিচার করেন তাহলে বলতে হবে এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই অর্থাৎ, কিভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ বিচার করবে তার জন্য কোন আইন বা পদ্ধতি নেই, কিন্তু গ্রামের মানুষেরা জানেন কিভাবে সালিশ করতে হবে এবং এখন পর্যন্ত মানুষের বিচার চাওয়ার ও পাওয়ার পথ হিসেবে সালিশ ব্যবস্থাই প্রধান। তাই এর আইনগত ভিত্তি না থাকলেও এর গ্রহণযোগ্যতা ও উপযোগিতার ভিত্তিতে এটার শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি আছে, যে কারনেই এটা টিকে আছে। সালিশের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাালিশের মাধ্যমে দ্ইু-তৃতীয়াংশ সমস্যা বা বিবাদের নিষ্পত্তি হচ্ছে। এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে, সালিশ খুব জনপ্রিয় একটা মাধ্যম বা গ্রামের লোকজন সালিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান পেয়ে সব সময় খুব খুশি। সালিশ ব্যবস্থার নিজস্ব গুণের চাইতেও এর তুলনামূলক জনপ্রিয়তার কারণ হলো রাষ্ট্রচালিত বা আনুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থার দুরবস্থা। সাধারণ মানুষের চোখে আমাদের আদালতগুলো থেকে বিচার পাওয়া একটা ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ বিষয়। তাছাড়া আদালতের ওপর অনাস্থা আরও বড় একটা বিষয়। কিন্তু সালিশ ব্যবস্থায় মানুষ মোটামুটি বিনা খরচায় এবং দ্রƒত একটা সমাধান পায়। আদালতের তুলনায় সালিশের ওপর মানুষের আস্থাও বেশি। কিন্তু সালিশ নিয়ে অভিযোগও কম নেই। বিশেষ করে সালিশে ক্ষমতাশালী লোকদের প্রভাব ও নারীদের প্রতি বৈষম্য অনেক সময় সালিশের সমাধানকে অবিচার বা জুলুমে পরিনত করে।

উল্লেখ্য, সালিশ হলো একটি ঐতিহ্যবাহী অনানুষ্ঠানিক গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থা বা বিচারিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে গ্রাম আদালত হলো রাষ্ট্র পরিচালিত একটি গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান। এর প্রাতিষ্ঠনিক কাঠামো হলো গ্রাম আদালত আইন ২০০৬। ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্রাম-আদালত আইন পাস হয়। পরে এটি সংশোধন আকারে আবারও ২০০৬ সালে পাস করা হয়। পরে জাতীয় সংসদে গ্রাম আদালত (সংশোধন) আইন ২০১৩ পাস হলে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সংশোধিত আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্দেশনাসহ গেজেট কপি সব ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছানো হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাম আদালত মাত্র কয়েক শ’ ইউনিয়ন পরিষদেই কাজ করছে। এদিকে গ্রাম্য সালিশ বিধিবদ্ধ আইন না হলেও অহরহ তুচ্ছ কোন ঘটনা নিয়ে সালিশ বসছে। আর সেখানে অনেক সময় ভুক্তভোগীকেই নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। জনকণ্ঠ

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*