বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্টই প্রিন্ট মিডিয়ার ভবিষ্যত

ঢাবি প্রতিনিধি :
বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্টের উপর প্রিন্ট মিডিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাহফুজ আনাম।

শনিবার বিকেল ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ১৫তম মাসিক পাবলিক লেকচার প্রোগ্রামে ‘আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মানে স্বাধীন গণমাধ্যম কেন প্রয়োজন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বক্তব্য দেওয়ার পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রোতাদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বে গণমাধ্যম সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মাহফুজ আনাম।

মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমানে মানুষ অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে যুক্ত হচ্ছে। ফলে প্রায় বিনামূল্যে প্রতিদিনকার সংবাদ তারা ইন্টারনেট বা টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারছে। এ কারণে টাকা দিয়ে পত্রিকা কিনে একদিন আগের সংবাদ কেউ পড়তে চাইবে না। সেক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে প্রিন্ট মিডিয়াকে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করতে হবে এবং এধরনের রিপোর্টের উপর প্রিন্ট মিডিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করবে।

একজন গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত মানুষ হিসেবে ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে না পারাকে মিডিয়ার ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে বলছি, মিডিয়ার সবথেকে বড় ব্যর্থতা হলো এদেশে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে মিডিয়া শক্ত অবস্থান নিতে পারেনি। যার ফলে বন্ধ হচ্ছে না ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ব। অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় মিডিয়ার যে ভূমিকা তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এদেশের রাজনীতিবিদরা বলেন আমরা (রাজনীতিবিদরা) জনগনের ভোটে নির্বাচিত। আপনারা সাংবাদিকরা কোন ভোটের জোরে আমাদের সমালোচনা করেন? এদেশের মানুষ পাঁচ বছরে আপনাদের একবার ভোট দেয়। কিন্তু আমাদেরকে প্রতিদিন সকালে একটি করে ভোট দেয় জনগন। এসময় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ যতটুকু এগিয়ে যাচ্ছে তার পেছনে সবথেকে বড় অবদান স্বাধীন সাংবাদিকতার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গণমাধ্যমের কারণে দেশে নতুন আইন প্রবর্তিত হয়। অপরাধীদের সনাক্ত করে তাদের মুখোশ খুলে দেয় গণমাধ্যম। জনগণকে বলা হয় সকল ক্ষমতার উৎস। এই জনগনের সাথে ক্ষমতাসীন সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে গণমাধ্যম। তারা জনগনের অধিকার নিয়ে কথা বলে। কাজেই আধুনিক রাষ্ট্রগঠনে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।

ad
ad

মিডিয়া সর্বশেষ

ad
ad

মিডিয়া সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ