আমি তাদেরকে উত্তম আবাসভূমিতে বসবাস করালাম

Loading...

পবিত্র কুরআনে মাহন আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আর বনি ইসরাইলকে আমি উত্তম আবাসভূমিতে বসবাস করালাম। তাদের আমি উত্তম বনোপকরণ দিলাম। তারপর তাদের কাছে (তাওরাতের) জ্ঞান আসার পর তারা বিভেদ সৃষ্টি করে। তারা যে বিষয়ে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল, তোমার প্রতিপালক কেয়ামতের দিন অবশ্যই তার বিচার করবেন। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯৩)

Loading...

তাফসির : বনি ইসরাইলের প্রতি মিসরের সম্রাট ও মিসরীয় জাতির নেতাদের আচরণ ছিল অমানবিক। সম্রাট রাজকীয় ফরমান জারি করেছিল যে বনি ইসরাইলীয় ঘরে কোনো পুত্রসন্তানের জন্ম নিলে তাকে তত্ক্ষণাৎ মেরে ফেলতে হবে। ওই ফরমান কার্যকর করে বনি ইসরাইলের ওপর চরম অত্যাচার করা হয়েছিল। তারা বনি ইসরাইলের নারীদের দাসী বানিয়ে ব্যবহার করত।

মুসা (আ.) নবুয়ত লাভের পর যেসব মানুষ ইমান আনে, ফেরাউনের পারিষদবর্গ তাদের ওপরও হামলে পড়ে। নির্যাতন, নিপীড়নের এমন কোনো পন্থা নেই, যা তারা ইমানদারদের ওপর প্রয়োগ করেনি। অবশেষে আল্লাহর হুকুমে ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ সাগরে ডুবে মরে।

এরপর পতিত বনি ইসরাইলের অসাধারণ উত্থান ঘটে। এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে আলোচ্য আয়াতে। এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বনি ইসরাইল জাতির প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি তাদের দীর্ঘ উদ্বাস্তু জীবনের অবসান ঘটালাম। তাদের জীবনযাপনের জন্য সিরিয়া, জর্দান ও ফিলিস্তিনে সবুজ শ্যামল প্রান্তর নির্ধারণ করে দিলাম। তারা কৃষিকাজের জন্য উর্বর জমির মালিক হয়। এর মাধ্যমে তাদের উত্তম জীবিকার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তারা এসবের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় মগ্ন না হয়ে আল্লাহর বিধান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে পৌত্তলিক ধ্যান-ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটে। তাওরাতের বিধান তারা পরিবর্তন করে ফেলে। সেখানে বর্ণিত মহানবী (সা.) সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা তারা মুছে দেয়। এরপর আবার তাদের পতন ঘটে।
বনি ইসরাইল জাতির পুনরুত্থান

সুখ ও দুঃখ দিয়ে পরীক্ষা করার পর কাফিরদের চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হয়। এটাই আল্লাহর রীতি। তাই আল্লাহ তাআলা অব্যাহত অবকাশ দিয়ে পরিশেষে প্রবল ক্ষমতাধর ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের নির্মিত ভোগবিলাসের সব উপকরণ, বড় বড় দালানকোঠা, ফলমূলের বাগান ইত্যাদি নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর তিনি নির্যাতিত, দুর্বল হিসেবে পরিগণিত বনি ইসরাইল জাতিকে রাজত্ব দান করেছেন। তাদের ভূমি মুলকে শাম তথা সিরিয়া ও জর্দানকে পুণ্যে ভরে দিয়েছেন। মাটির উর্বরতা, ফল-ফসলের অধিক উত্পাদন আর নবী-রাসুলদের আবাসভূমি ও সমাধিস্থান হিসেবে এই এলাকার বরকতময়তা সর্বজনবিদিত। আল্লাহ তাদের এ নিয়ামত দান করেছেন তাদের সবর, ধৈর্য ও দৃঢ়তার ফলস্বরূপ।

ক্ষমতার এ পালাবদলের ঘটনাটি যখন মক্কার নির্যাতিত মুষ্টিমেয় মুমিনের সামনে পেশ করা হয়েছিল, তখন তা তাদের হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি যুগের নির্যাতিত, নিপীড়িত, নিষ্পেষিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য এ দৃষ্টান্ত উদ্দীপনার সঞ্চার করতে পারে। আর জালিম, স্বৈরশাসকদের দিতে পারে কঠিন সতর্কবার্তা। এই উত্থান-পতনের ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ক্ষমতা কোনো চিরস্থায়ী বস্তু নয়।

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*