শরৎ এসেছে, কাশফুলও ফুটেছে

শাহনাজ শারমিন: শরৎ এসেছে, তাই কাশফুলও ফুটছে। প্রকৃতির এ নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম নেই। আর শরৎ বিখ্যাত তার কাশফুলে, প্রকৃতির নরম গায়ে বর্ষার আড়মোড়া ভাঙতে। শরৎ মানেই কাশফুল, পরিষ্কার নীল আকাশ আর দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ। এজন্যই শরতকে বলা হয় ‘ঋতুর রানি’।

বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে শরতের আগমন মুগ্ধ করে আমাদের। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।’ এভাবেই আমাদের সামনে শরতের সৌন্দর্য উপস্থাপিত হয়। কবিগুরুর মতোই শরতের অপরূপ রূপে মুগ্ধ হয় বাংলার সব শ্রেণির মানুষ।

শরৎ নিয়ে কবিতা, গান, গল্পের কোন কমতি নেই। সাহিত্যে প্রসঙ্গক্রমে এসেছে শরতের কাশফুল। ভালোবাসা বিনিময়ে কাশফুলের ভূমিকাও কম নয়। গ্রামবাংলার নদীর কূলে, বিলজুড়ে, খালের পাড়ে কাশফুলের ছড়াছড়ি শুধু চোখেই পড়তো না, মনও কেড়ে নিতো নিমিষেই।

শরৎ ঋতুতে বাংলাদেশের নদনদীর কূলে কূলে সাদা কেশর দুলিয়ে হেসে ওঠে কাশফুলেরা। বড় বড় নদীর চরগুলোর ওপর থেকে পানি সরে যেতেই সেসব চরে কাশফুলের মাতামাতি শুরু হয়।

কাশফুল একান্তই আমাদের নিজস্ব ফুল, জন্ম এ উপমহাদেশেই। ভারত, নেপাল, ভুটান, আফ্রিকা প্রভৃতি দেশেও কাশফুল ফোটে। ফুল হিসেবে কাশফুলের কোনো কদর নেই, কেউ তা চাষও করে না। নদীর চরে বা তীরে, জলাডোবার ধারে ঘাসের মতো আপনা আপনি জন্মে। ঘাসগোত্রীয় এই গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Saccharum spontaneum ও পরিবার Poaceae.

আকাশের বিস্তীর্ণ মাঠে নীলের আবছায়া ঘন থেকে ঘনতর হয়ে উঁকি মারে স্বচ্ছ রোদ দিবালোকে। সে নীলের মাঠে সাদা সাদা মেঘখণ্ড কোদাল পড়া জমির মতো ভেসে বেড়ায় নিবিড় ছন্দে। সেই সঙ্গে নদীর কূলঘেঁষে চরে চরে কাশের ফুল দোলে বাতাসের অনিন্দ্য এক দোলনায়। কাশের বনে ভরপুর হয়ে ওঠে বালুর অঞ্চল।

কাশবনে শিশুদের উচ্ছ্বাসশরতের ঝকঝকে নীল আকাশ, নদী পাড়ের সারি সারি সাদা কাঁশবন আর মৃদু বাতাস দোলা দিয়ে যায় শিউলি ফুলের নরম পাপড়িতে। তাইতো শিশিরভেজা সবুজ ঘাসের বিছানায় রাতের ঝলমলে তারা হয়ে খসে পড়ে রাশি রাশি শিউলি ফুল। মাটিতে মিশে যায় তার জাফরানি বোঁটার দুধসাদা ছয় পাপড়ির গন্ধ।

শরতের অনুপম রূপবৈভবের মাঝে বেজে ওঠে বাঙালির প্রাণের বাঁশি। আকাশে বাতাসে অনুরণিত হয় উদার মুক্তির আহ্বান। ঘরের বন্ধন ছিন্ন করে অফুরন্ত সৌন্দর্য জোয়ারে ভেসে যেতে চায় মন। শরতের স্পর্শে রূপে-রসে বৈচিত্র্যে ভরপুর হয়ে ওঠে প্রকৃতি।

সে রূপভাণ্ডার থেকে রং ছিটকে পড়ে কেবল প্রকৃতিকেই কখনও নীল, কখনও সাদা মেঘ আর কাশফুলে ফুলে রাঙায় না; রং কবির মনেও ছিটকে পড়ে। আর তাইতো শরতের রূপ দিয়ে কবিও আচড় কাটেন কবিতার শরীরে-

শরৎ এলো কী উল্লাসে কাঁপছে নদীর জল
পাখনা মেলে বেড়ায় খেলে প্রজাপতির দল!
বাজলো কাঁসর সাজলো আসর চলরে সবাই চল
মন-গালিচায় বন গালিচায় নামলো খুশির ঢল!!
[ভবানী প্রসাদ মজুমদার]

ad
ad

আরও সর্বশেষ

ad
ad

আরও সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ