কিনে দে রেশমি চুড়ি…

শাহনাজ শারমিন: কিনে দে রেশমি চুড়ি নইলে যাবো বাপের বাড়ি … দিবি বলে কাল কাটালি জানি তোর জারিজুরি… ও মিছে কথায় তোর মত কেউ নেই রে আর তোর তুলনা পাওয়া জগতে যে ভার… ভাল মানুষ পেয়ে আমায় ভোলালি কি ছলনায় এবারই ভুলবো নাতো যতই করিস ছল চাতুরী… (আরে) টাকা যদি না থাকে তো না দিবি হাত ধরে আমায় আপন করে নিবি … রেশমি চুড়ি বাঙালি নারীর হাতে রিনিঝিনি ছন্দে, মন মেতে ওঠে আনন্দে। যাকে ছাড়া সাজের সম্পূর্ণতা থেকে যায় অপূর্ণ। তা হচ্ছে চুড়ি।

উৎসবে হোক কিংবা আনন্দে, যেকোন সাজের সাথে খুব সহজে মানিয়ে যায় চুড়ি। বাঙালিয়ানায় চুড়ি যেন এক সাজের ভিন্ন মাধ্যম। গ্রামে হোক কিংবা শহরে, চুড়ির সাজে নিজেকে সাজাতে পছন্দ করেন সবাই। এই চুড়ি হতে পারে মাটির, কাঁসার, প্লাস্টিকের।

বাঙালি মেয়েদের উৎসব-পার্বণে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি পরাটাই অলিখিত নিয়ম। শাড়ির সঙ্গে চুড়ি লাগবেই লাগবে। সেটা হাত ভরা লাল-হলুদ-সাদা চুড়িরই হোক আর একটা দুইটা কাঠের। যাই হোক নিজের মনের মতো করে সাজতে শাড়ীর সঙ্গে চুড়ি লাগেই।

একদিনে তৈরি হয়নি শাড়ি-চুড়ির এ বিধান। নৈমিত্তিক শরীরাবরণ থেকে এখন শাড়ির ডাক পড়ে উৎসবে-পার্বণে। কিন্তু চুড়ির আবেদন ঠিকই রয়ে গেছে। তা সে সালওয়ার-কামিজ, জিন্স-ফতুয়া বা পেলাজো-টপ্স যাই হোক চুড়ি কিন্তু ঠিকই ‘হাতে’ রয়ে গেছে। তাছাড়া সেকেলে মুরুব্বিরা তো বলতেনই হাত খালি থাকলে নাকি ঘরে অলক্ষ্মী আসে। তবু বাধ্য হয়ে নয় সজ্জার অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে চুড়ির আবেদন আজও সবার উপরে।

চুড়ির কিন্তু ইতিহাসও রয়েছে। মূলত ইংরেজিতে চুড়িকে বলা হয় ব্যাঙ্গেল (bangle), এই শব্দের উত্পত্তি বাঙ্গারি (bangari) শব্দ থেকে। যার অর্থ কাচ। এখন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে পাকিস্তানের মহেঞ্জোদারো সভ্যতায় নৃত্যরত বালিকার মূর্তিতে চুড়ি দেখা গেছে। প্রথমে মাটি, পরে লোহা, তামা ব্রোঞ্জ, সোনা-রূপা নানা ধাতুতেই চুড়ি পরার চল ছিল। এখনও রয়েছে। হাল আমলে এসে চুড়ির ডিজাইন ও উপকরণ আরো বেড়েছে।

তবে খ্রিস্টপূর্ব দেড় হাজার হাজার বছর আগে রোমান সভ্যতায় চুড়িতে কাচের ব্যবহার শুরু হয়। তখন চুড়ির উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহার করা হতো। এরও প্রায় এক হাজার বছর পরে রোমানরা কাচের চুড়ি বানানো শুরু করে।

চুড়ির ক্ষেত্রে নারীর মনে সবার আগে জায়গা করে নেয় কাচের চুড়ি। উৎসবের মাত্রাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে সেউ এই রেশমি চুড়ি। এক দিকে চারিদিকের আমের মুকুলের ঘ্রাণ আর অন্যদিকে নতুন বছরকে ঘরে আনার প্রস্তুতি। তাই তো নিজেকে সাজাতেই ব্যস্ত থাকেন সবাই। পরনের শাড়ি যাই হোক তার সঙ্গে যদি চুড়ি যুক্ত না হয় তাহলে সাজ যেন সাদামাটা হয়ে যায়।

সময়ের হাত ধরে বদলেছে চুড়ির ধরণ, উপাদান-নানা কিছু। কিন্তু হাত ভরা রেশমি চুড়ির কদর এতটুকুও কমেনি। উপলক্ষ হলে তো কথাই নেই! হাত ভরে রেশমি চুড়ি পরতে তো হবেই।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাজের এই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। লালের সঙ্গে এখন সবুজ, কমলা, নীলের মতো অনেক উজ্জ্বল রঙের খেলা চোখে পরে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যা বদলায়নি একেবারেই তা হচ্ছে চুড়ি। রেশমি চুড়ির আবদার আগেও ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে।

নানা রঙের রেশমি চুড়ি আপনার আনন্দের মাত্রাকে যেন দ্বিগুণ করে দেয়। রেশমি চুড়ি যে কেবল শাড়ির সঙ্গেই মানানসই তা কিন্তু নয়। সালোয়ার কামিজসহ যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই খুব সহজে মানিয়ে যায় এই রেশমি চুড়ি। এই চুড়ির একই বড় বৈশিষ্ট হলো এর শব্দ আর এর রঙ। আলোর মাঝে এর রঙের খেলা যেকোনো নারীর মন চুরি করতে যথেষ্ট।

ad
ad

আরও সর্বশেষ

ad
ad

আরও সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ