এক ঘন্টায় সাড়ে ৭ লাখ বৃক্ষরোপণ

চুয়াডাঙ্গা জেলায়  শনিবার দুপুরে এক ঘণ্টায় সাড়ে ৭ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের আহ্বানে জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বৃক্ষরোপণ উৎসবে যোগ দেন।

মাত্র এক ঘণ্টায় সাড়ে ৭ লাখ গাছ লাগানোর ঘটনা দেশ ও দেশের বাইরে এটাই প্রথম বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা, আন্তরিকতা, মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্ভব হয়েছে। তিন মাসের নিরলস চেষ্টা সাফল্য নিয়ে এসেছে। বৃক্ষরোপণের ইতিহাসে চুয়াডাঙ্গার মানুষ এক মাইলফলক তৈরি করেছে। এখন চেষ্টা গাছগুলোকে রক্ষা ও নিয়মিত যত্ন করা।’

‘সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এই কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলার সবখানে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গাছ লাগানোর আহ্বান আগেই জানানো হয়েছিল। এর আগে তিন-চার দিন ধরে জেলার সার্কিট হাউস, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বিনা মূল্যে গাছের চারা দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠের চারপাশে গাছ ও সড়কে তালের বীজ রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। এ সময় পুলিশ সুপার মোঃ নিজাম উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফরহাদ হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দে, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমানসহ উপস্থিত অতিথিরা গাছ লাগান। এরপর এলাকার মানুষ নিজ নিজ উদ্যোগে গাছের চারা ও তালের বীজ রোপণ করতে থাকেন। একই সময়ে জেলাজুড়ে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা ও তালের বীজ লাগানোর কার্যক্রম চলে। বৃক্ষরোপণের এই উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকা রং-বেরঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। বৃক্ষরোপণকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ড্রাম ও বিউগল বাজিয়ে আনন্দোৎসব করে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, হরীতকী, বহেড়া, আমলকী, ইপিলইপিল, বকাইলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫ লাখ ২৫ হাজার গাছের চারা এবং ২ লাখ ২৫ হাজার তালের বীজ সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ইরানী সুলতানা বলে, ‘জেলা প্রশাসক স্যার গাছ লাগানোর এই উদ্যোগ নিয়ে মহৎ কাজ করেছেন। আমি স্কুল চত্বরে একটি গাছ লাগিয়েছি। বাড়িতে লাগানোর জন্য একটি চারা নিয়েছি। স্যাররা বলেছেন, আমি যে গাছটি লাগিয়েছি, তার মালিক আমি। এটা খুবই আনন্দের খবর। অন্তত গাছের মালিক হতে পারলাম।’

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতনপাড়ার সাইদুর রহমানের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘নিজ হাতে লাগানো গাছের ফল খাব, ছায়াও পাব, আবার গাছের মালিকও হব।’

ad
ad

পরিবেশ সর্বশেষ

ad
ad

পরিবেশ সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ