হাজার হাজার একর জমি নির্ধারণ রোহিঙ্গাদের জন্য

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংস ঘটনায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বনবিভাগের দুই হাজার একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে খুব দ্রুত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল এসব তথ্য জানান।

সচিব বলেন, ‘গত দুই দিন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেছি। এতে আমাদের মনে হয়েছে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের মূলত এক জায়গায় করার জন্য কিছু জমি নির্ধারণ করেছি। নির্ধারিত জমিতেই রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িকভাবে ক্যাম্প তৈরী করা হবে। আর রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে প্রতিদিনই হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঢুকছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এসব রোহিঙ্গারা টেকনাফ, উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্তের এপারে পাহাড়ে, রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। আর এ কারণে এসব রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধনের সুবিধার জন্য মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো করার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। এই কাজে সহায়তা করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বলেন, খুব অল্প সময়ে মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাম, ঠিকানাসহ ছবি এবং আঙ্গুলের ছাপ সম্বলিত একটি তালিকা করা হবে। এজন্য পাসপোর্ট অধিদফতরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও এর আগে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় দুই হাজার একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগসহ নানা ধরণের নির্যাতন চলছে। এ কারণে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে  আশ্রয় নিতে আসছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

ad
ad

জাতীয় সর্বশেষ

ad
ad

জাতীয় সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ