ঢাবি উপাচার্য নিয়োগে শিক্ষক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

আলী আজম সিদ্দিকী, ঢাবি প্রতিনিধি : উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। শিক্ষক রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী নীল দলের বিভেদ এখন প্রকাশ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে প্যানেলের বাইরে অন্য একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় আগের উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিরোধিতা করছেন।

তাদের দাবি, উপাচার্য নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং উপাচার্য প্যানেল নিয়ে একটি রিট আদালতের বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ারও গুঞ্জন ওঠে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উপাচার্য নিয়োগের বিরোধিতা করে ৩৩ সিনেট সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত বিবৃতি দিয়েছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জরুরি মিটিং আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এদিকে ঈদের বন্ধ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের জন্য নির্ধারিত ৭৩’এর আদেশের ১১(১) ও ১১(২) ধারা মানা হয়নি। ১১(১) ধারায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করবে এবং সেই তিন জনের মধ্য থেকে যে কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিবেন আচার্য (রাষ্ট্রপতি)। আর ১১(২) ধারায় বলা হয়েছে, অসুস্থতা, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে উপাচার্যের পদ শূন্য হলে জরুরি অবস্থায় আচার্য একজনকে সাময়িক দায়িত্ব দিতে পারেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩’ অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেটের বিশেষ সভায় তিন সদস্যের প্যানেল মনোনয়ন করা হয়। তখন এ সভা আহ্বানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক। পরে রিটের শুনানিতে বলা হয়, আগামী ৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং এ সময়ে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এ নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, উপাচার্য নিয়োগ করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। তবে আগের উপাচার্য নিয়োগ যেভাবে হয়েছিল এখনও সেভাবেই হয়েছে। অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে আমি ভালো বলতে পারব না। এ সম্পর্কে আইনী ব্যাখ্যা আছে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা এ সম্পর্কে বলতে পারবেন।

এদিকে, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের লঙ্ঘন ও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান ১১টি হলের প্রাধ্যক্ষ এবং প্রক্টর। তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন যে তিনি আদালতের নির্দেশের বিষয়ে কিছু জানতেন না। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ আইন অনুযায়ীই হয়েছে এমন বক্তব্য দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি হলের প্রাধ্যক্ষ এবং প্রক্টর বডি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাদের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে কাজ করতে অনুরোধ করেন। তার প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হলের প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে জরুরি মিটিং করেন।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেওয়াজ ভঙ্গ করে দায়িত্ব গ্রহণ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন নতুন উপাচার্য। রেওয়াজ অনুযায়ী বিদায়ী উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু এবার অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সদ্য বিদায়ী উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকের অনুপস্থিতিতেই দায়িত্বগ্রহণ করেন। এর আগে ২০০১ সালে অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় রাতের আধারে উপাচার্যের চেয়ারে বসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

উল্লেখ্য, নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই মেরুতে অবস্থান করছেন আওয়ামী-বামপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল নীল দল। নীল দলে বিদ্রোহী প্যানেলের শিক্ষকরা যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে।

ad
ad

শিক্ষা সর্বশেষ

ad
ad

শিক্ষা সর্বাধিক পঠিত

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ