ইন্দিরার পর নির্মলা

Loading...

ভারতের প্রতিরক্ষা ও অর্থ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন অরুণ জেটলি। এখন অরুণ জেটলির ওপর চাপ কিছুটা কমাতে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্মলা সীতারমণকে। যদিও আজ রোববার রাতেই অরুণ জেটলির জাপান সফরে যাওয়ার কথা, প্রতিরক্ষাবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যোগ দিতে। ৫৮ বছর বয়সী নির্মলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন। তিনি রাজ্যসভার সদস্য। ইন্দিরা গান্ধীর পর নির্মলা হলেন প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

লোকসভার আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন্ত্রিসভার তৃতীয় রদবদলটি ঘটান। আজ সকালের এই রদবদলে পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে চারজনের পদোন্নতি ঘটিয়ে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়, আর নতুন মন্ত্রী করা হলো নয়জনকে। অরুণ জেটলিই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বহাল থাকছেন কি না, তা নিয়ে সকাল থেকে গুঞ্জন ছিল।

নির্মলা শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের বলেন, যে একটি ছোট্ট শহর থেকে এসেছেন, নেতৃত্বের সব পর্যায়ের সমর্থন পেয়ে দলে বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁকে যদি এমন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে এটা নিজের কাছে মনে হবে ঈশ্বরের কৃপা। অন্যথায় এটা অসম্ভব।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় নির্মলা এখন নিরাপত্তাবিষয়ক কেবিনেটের সদস্য হলেন, যেখানে মোদি ছাড়াও থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

Loading...

১৯৫৯ সালের ১৮ আগস্ট তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে জন্ম নির্মলা সীতারমণের। শিক্ষাজীবনে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক। এরপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করতে ছুটে যান দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডক্টরেট ডিগ্রির বিষয় ছিল ইন্দো ইউরোপিয়ান টেক্সটাইল ট্রেড।

কর্মজীবনে লন্ডনে অ্যাগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনীতিবিদের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে লন্ডনে প্রাইস ওয়াটার হাউসে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। ওই সময় তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে অল্প সময় কাজ করেছেন।

ভারতে ফিরে তিনি হায়দরাবাদে সেন্টার ফল পাবলিক পলিসি স্টাডিজে উপপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু বরাবরই তাঁর আগ্রহ শিক্ষার প্রতি। তিনি হায়দরাবাদে ‘প্রাণভা’ নামের একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। ২০০৩-২০০৫ পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেনের সদস্য ছিলেন।

২০০৮ সালে নির্মলা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন এবং ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দলে পুরোপুরি থিতু হলে ২০১০ সালের মার্চে দলের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত হন।

২০১৪ সালের ২৬ মে তিনি মোদি সরকারে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত, এক কন্যার জননী।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় আজ বড় ধরনের যে পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে আগের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পীযূষ গয়াল পেয়েছেন রেলওয়ে ও কয়লার দায়িত্ব। আর উত্তর প্রদেশে সম্প্রতি বড় ধরনের দুটি রেল দুর্ঘটনার পর মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা সুরেশ প্রভুকে দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী থাকা ধর্মেন্দ্র প্রধান পেয়েছেন দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভিকেও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, যাঁকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেখতে হয়, তিনি আজ পানিসম্পদ, নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা পুনরুজ্জীবন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। উমা ভারতীকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সুপেয় পানি ও পয়োনিষ্কাশন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর স্মৃতি ইরানিকে দেওয়া হয়েছে টেক্সটাইল এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*