যোগ্য না হলে আসমানে অভিশাপ ওঠে না

Loading...

পারস্পরিক সৌহার্দ, হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত জীবন আমর সবাই চাই। কিন্তু অনেক সময় এমন পরিস্থিতির শিকার হয়, অধৈর্য হয়ে যাই। অভিশাপ দেই। অভিশাপ কী তৎক্ষণাত কার্যকর হয়? যাকে দেওয়া হয় তার উপর আরোপিত হয়? আসলে কিন্তু না। অভিশাপ আসমানের উপরে ওঠে না। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী যাকে অভিশাপ দেওয়া হচ্ছে সে যদি অভিশাপের উপযুক্ত না হয় তাহলে যিনি দিলেন তার ওপরই অভিশাপ নেমে আসবে।

হাদীসে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন বান্দা কোনো কিছুর ওপর অভিসম্পাত করে তখন সে অভিসম্পাত বাক্যটি আসমানের দিকে উড়ে যায়; কিন্তু এর জন্য আসমানের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর তা জমিনের দিকে ফিরে আসে এবং জমিনের দরজাগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর তা ডানদিকে যায় এবং বামদিকে যায়। আর যখন এভাবে কোনো দিকেই স্থান না পায় তখন তার দিকে ফিরে আসে যার ওপর অভিসম্পাত করা হয়েছে। যদি সে অভিসম্পাতের উপযোগী না হয় তাহলে খোদ অভিসম্পাতকারীর দিকেই তা প্রত্যাবর্তন করে (আবু দাউদ)।

Loading...

অন্য এক হাদীসে এসেছে, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা একে অপরে এভাবে অভিসম্পাত করবে না যে, তোমার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, আল্লাহর গজব পতিত হোক এবং তুমি দোজখি হও। এভাবে বদদোয়াও করবে না। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তোমাকে অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ করা হোক। এরূপ বলেও বদদোয়া করবে না (তিরমিজি, আবু দাউদ)।

হাদীসে আরো এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। একদা বায়ু এক ব্যক্তির চাদর উড়িয়ে নিল। তখন সে ব্যক্তি বায়ুকে অভিসম্পাত করল। তা শুনে রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, বায়ুকে অভিসম্পাত করিও না, কেননা তা তো (আল্লাহর) আদিষ্ট। বস্তুত যে ব্যক্তি এরূপ কোনো কিছুকে অভিসম্পাত করল যা অভিসম্পাতের উপযোগী নয়, তখন ওই অভিসম্পাত তার নিজের ওপরই ফিরে আসবে (তিরমিজি, আবু দাউদ)।

নবী (সা.) স্বয়ং নিজেও এমন কথা শুনতে চাইতেন না যেখানে একে অন্যের বিরুদ্ধে গালমন্দ বা অভিশাপ রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমার সাহাবিদের মধ্যে কেউ কারও কোনো খারাপ বিষয় আমাকে জানাবে না। কেননা আমি এটাই পছন্দ করি যে, আমি তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হই, তখন আমার অন্তর প্রশান্ত এবং স্বচ্ছ থাকবে। (আবু দাউদ)

এজন্য কাউকে অভিশাপ দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষেধ। কারণ যে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে, সেটার উপযুক্ত না হয় তাহলে অভিশাপ দাতার উপরই তা বর্তাবে।

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*