Templates by BIGtheme NET
Home / slider / যেখানে ধর্মের নামে চলে অবাধ যৌনাচার

যেখানে ধর্মের নামে চলে অবাধ যৌনাচার

Loading...

যেখানে ধর্মের নামে চলে অবাধ যৌনাচার- সৌভাগ্য লাভের আশায় হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এখানে আসেন এবং ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে অপরিচিতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই অদ্ভুত অনেক প্রথা দেখা যায়। তবে ইন্দোনেশিয়ার একটি ধর্মীয় প্রথা সম্ভবত এর মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত আর গোপন প্রথা।

ধর্মের নামে বিকৃত যৌনাচারের প্রথা চালু রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিমের আবাস এই দেশটির একটি তীর্থস্থানে। এখানকার মধ্য জাভা দ্বীপের একটি পাহাড়ের নাম ‘গুনুং কেমুকুম’ বা ‘সেক্স মাউন্টেন’ (যৌনতার পাহাড়)।

সৌভাগ্য লাভের আশায় হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এখানে আসেন এবং ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে অপরিচিতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন।

এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস টেলিভিশনের সাংবাদিক প্যাট্রিক অ্যাবাউদ তৈরি করেছেন একটি ডকুমেন্টারি। এর নাম দিয়েছেন ‘সেক্স মাউন্টেন’। এতে উঠে এসেছে সেই পাহাড়ের উপরে তীর্থযাত্রীদের অবিশ্বাস্য গোপন জীবনের কথা।

তিনি জানান, ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে ৩৫ দিন পাহাড়টিতে থাকতে হয় পূণ্যার্থীদের। এই সময়ের মধ্যে মোট সাতবার যৌনমিলন করতে হয় তাদের।

যেখানে ধর্মের নামে চলে অবাধ যৌনাচার

অ্যাবাউদ বলেন, ‘এটা খুবই অদ্ভুত একটা বিষয়। কয়েক বছর আগে আমি এ নিয়ে পড়েছিলাম। পরে দেখার জন্য যাই।’ সেখানে যাওয়ার পর তিনি যা দেখলেন, তা তার ভাষায় ‘অবিশ্বাস্য’।

এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ছিল, সেখানে প্রতি রাতে প্রায় ৮ হাজার মানুষ জড়ো হয়। এটা বিশ্বাস করা যায় না। পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নিতেও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়।’

মূলত অদ্ভুত এ প্রথা চালু করেছেন সেখানকার সাধারণ মানুষই। আয়ের বিকল্প হিসেবে এ পেশা বেছে নিয়েছেন তারা।

এই পেশায় নেমেছেন গৃহবধূ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারীও। বাদ নেই শিক্ষিকারাও। সেখানে ঢুকতে ৫০ সেন্ট বা ৪০ টাকার মতো খরচ হয় তীর্থযাত্রীদের।

তবে এ ধরনের যৌন সম্পর্ক হয় শুধু বিবাহিত নারী, পুরুষের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, কোনও বিবাহিত নারী অপরিচিত কোনও পুরুষের সঙ্গে এবং বিবাহিত পুরুষ অপরিচিত কোনও নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। আর ভয়াবহ এই যৌনাচারের কারণেই একে ‘সেক্স মাউন্টেন’ বলে অভিহিত করা হয়।

যেখানে ধর্মের নামে চলে অবাধ যৌনাচার

ইন্দোনেশিয়ার এই পাহাড় নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে- ষোড়শ শতাব্দিতে এক ইন্দোনেশীয় যুবরাজ তার সৎ মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রাজা জেনে ফেলার পর যুবরাজ তার সৎ মাকে নিয়ে একটি পাহাড়ে আশ্রয় নেন। রাতে সেই পাহাড়ের মধ্যে থাকার সময় যুবরাজ ও তার সৎ মাকে খুন করে রাজার সেনারা। পরে তাদের মৃতদেহ সেই পাহাড়েই পুঁতে ফেলা হয়।

এরপর থেকেই নাকি ওই পাহাড়ের নামকরণ করা হয় ‘গুনুং কেমুকুম’। ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দারা এভাবেই পাহাড়টির নামকরণের বর্ণনা দেন। তাদের ধারণা, এখানে এসে অপরিচিতদের সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হলে পুণ্য হয়। পাহাড়ে যৌনমিলন করলে ভাগ্য ফিরতে বাধ্য। এ

ছাড়া বেকাররা চাকরি পায়, শরীর রোগমুক্ত হয়, গরীব লোকের আর অভাব থাকে না, সংসারে অশান্তি বলে কোনও কিছু থাকে না। মধ্য জাভার এই পাহাড়ের ওপর অনেকটা পথ হেঁটে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে যেতে হয় তীর্থযাত্রীদের।

অ্যাবাউদ বলেন, মুসলিমপ্রধান ইন্দোনেশিয়ায় বিষয়টি আসলেই অদ্ভুত। এদিকে এই প্রথার কারণে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে দ্বীপটি। দেশটির সরকারও জানে, ওই দ্বীপে কী হয়। তবু এ বিষয়ে তারা কোনও কথা বলেন না, কোনও পদক্ষেপও নেন না। এখানে সমস্যা হচ্ছে, নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি।

যেখানে ধর্মের নামে চলে অবাধ যৌনাচার

তার মানে, একজন নারীকে একাধিক পুরুষের সঙ্গী হতে হয়। দিন দিন বাণিজ্যিক যৌনকর্মীদের প্রাথমিক লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে এটি। বিষয়টি নিয়ে সেখানে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যাবাউদ। তিনি জানান, এখানে আসা পূণ্যার্থীদের মধ্যে নানা রকম যৌনতাবাহী রোগও ছড়িয়ে পড়ছে।

অথচ সেখানে কোনও হাসপাতাল বা ক্লিনিক নেই। একজন চিকিৎসক জানান, ওই পাহাড়ের প্রায় প্রত্যেক যৌনকর্মীই যৌনরোগে আক্রান্ত। পুরুষরা কনডম ব্যবহার করেন না। তাই এইডস রোগও বেড়ে চলেছে।

এখানে আসা এক নারী পূণ্যার্থী জানান, তিনি একজন বিধবা। দুই বছর ধরে অর্থসংকটে ভুগছেন। সৌভাগ্যের আশায় ইতোমধ্যে তিনি সাতবার যৌনমিলনের কাজ শেষ করেছেন।

তার ভাষায়, ‘এখন আমার ব্যবসা আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে। আমি বেশি টাকা উপার্জন করতে পারছি। এর মানে, এটা কাজ করতে শুরু করেছে।’ অ্যাবাউদের এই ডকুমেন্টারির পর সেক্স মাউন্টেনে বিধি-নিষেধ আরোপ করে ইন্দোনেশিয়ার সরকা।।

এতে আবার সংকটে পড়েছে স্থানীয় পরিবারগুলো। সরকার পূণ্যার্থীদের কক্ষ ভাড়া দেয়া নিষিদ্ধ করেছে। ফলে পাহাড়ের ২৬২টি পরিবারের আয় কমেছে ৯০ শতাংশ।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

thirteen − four =