ভলানটিয়ার বাংলাদেশ এর উদ্যোগে সেন্টমার্টিনে পরিচ্ছন্নতা ও ব্লাড গ্রুপিং কার্যক্রম

Loading...

গত ১৮, ১৯, ২০ মে ৩ দিনব্যাপী প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার করা ও দ্বীপবাসীদের রক্তের গ্রুপ নিনর্ণয় করার এক অন্যন্য কাজ করেছে স্বেচ্চাসেবি সংগঠন ভলানটিয়ার বাংলাদেশ। আজ ২১ মে ১৭ সদস্যের ভলানটিয়ার টিম ঢাকায় পৌছেছে। প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ক্রমশ নোংরা হয়ে পড়ছে পর্যটকদের ফেলে আসা অপচনশীল ময়লা থেকে। স্থানীয় জনগনও সচেতন নয় আর নেই এ ব্যাপারে সরকারী কোনো উদ্যোগ। তাই তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণকারী সমাজ কর্মী ও লেখক জাহাঙ্গীর আলম শোভনের নেতৃত্বে ১৭ জন তরুনের একটি দল গত ১৭ তারিখ ঢাকা থেকে রওনা দেয় কোরাল দ্বীপের উদ্দেশ্যে। দলটি প্রতিদিন সকালে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সৈকতে ময়লা পরিষ্তার অভিযান চালিয়েছে। বিকেল বেলায় বাজারে এবং দিনে স্কুলে বিনামুল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং করেছে। দ্বীপের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো সংস্থা ব্লাড গ্রুপিং কার্যক্রম পরিচালনা করলো। উল্লেখ্য দ্বীপের বেশীরভাগ মানুষই তাদের রক্তের গ্রুপ জানেন না।

১৭ জনের দলটি পুরো দ্বীপ পরিষ্কার করতে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ করে পর্যটকেরা যে এলাকায় বেশী ভ্রমণ করে সেসব এলাকার ময়লাগুলো অপসারণ করতে পেরেছে। তাদের সহযোগিতা করেছে দ্বীপের মেম্বার জনাব হাবিবুর রহমান খান। ইভেন্ট পরিচালনায় জাহাঙ্গীর আলম শোভনকে সহযোগিতা করেছেন নজরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান সোহেল ও শিপন দাস।

প্রথমবারের মতো দ্বীপে সেবামুলক কাজকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন সবাই। এই টিমের কাছে এসে নিজের রক্ত পরীক্ষা করালেন চেয়ারম্যান জনাম নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, এটা খুবই ভালো এবং প্রয়োজনীয় একটা কাজ। এতে দ্বীপবাসী উপকৃত হবে। সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে রক্তের গ্রুপ জানার জন্য ভীড় করেছে। জসিম নামে স্থানীয় এক তরুন বলেন, আমরা আসলে ভাবতেই পারি নি দ্বীপের বাইরের কেউ আমাদের নিয়ে ভাবে। সবাইতো আসলে দেখতে আসে আর দেখে চলে যায়। খুব ভালো লাগছে এই উদ্যোগ।

ভলানটিয়ার বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আশরাফ আলী দলের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন এই প্রতিকূল পরিবেশে বিশেষ করে যখন শিপ চলছেনা এবং প্রচন্ড গরম যেকোনো মুহুর্তে সমুদ্র উত্তাল হতে পারে অথচ সংগঠনের তরুন সাহসী সমাজসেবীরা এই সময়ে অনেক কষ্ট করে একটি চমৎকার সফল অভিযান সম্পন্ন করেছে, তাদের সাহস ও আন্তরিকতার কোনো জবাব নেই।

দলের একজন কর্মী শাহাদাত হোসেন মুনা বলেন, আমরা হয়তো পুরো দ্বীপ পরিষ্কার করতে পারিনি। কিন্তু দ্বীপকে পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা তৈরী করার কাজটা করতে চেয়েছি। আরেক ভলানটিয়ার সাদিয়া তাসনিম বলেন, খুব ভালো লাগছে- কারণ আমরা শুধু এখানে এসে ঘুরে যাই আর সৌন্দর্য উপভোগ করে। দ্বীপবাসীর পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।

Loading...

দলের নেতৃত্বদানকারী জাহাঙ্গীর আলম শোভন বলেন, এটা একই সাথে আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো এবং পরীক্ষা ছিলো। আমরা এমন একটা সময়ে দ্বীপে আসলাম যখন এখানে শিপ চলেনা, রিসোর্ট বন্ধ, খাবার হোটেল বন্ধ, প্রচন্ড তাপদাহ আর সমুদ্র উত্তাল হওয়ার ঝুকি। এসব আমাদের বিচলিত করেনি কারণ আমরা এসেছি মানুষের সেবা করার জন্য নেহায়েত ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়। সেজন্য আমরা সফলও হয়ে একটা ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছি। শোভন দ্বীপবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। ইভেন্ট এর লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েছে লেইস ফিতা ডট কম।

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*