Templates by BIGtheme NET
Home / slider / ‘সাপের শীতল স্পর্শ ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা’

‘সাপের শীতল স্পর্শ ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা’

Loading...

ডেস্ক রিপোর্ট : একধরণের পেশাভিত্তিক গোষ্ঠী যারা সাপ ধরে। সাপ ধরা কিংবা সাপ উদ্ধারের সাথে যারা জড়িত তাদের ভয় পেলে চলে না। বিশ্বের বেশ অনেকগুলো দেশে সাপ ধরে তাকে নিরাপদে জনবসতি থেকে সরিয়ে নেয়া কিংবা সাপের অভয়ারণ্যে তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছেন।
মেডিকেল চ্যারিটি মেদসঁ স্যঁ ফ্রতিয়ে জানান, প্রতি বছর সর্প দংশনের শিকার হন প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ। আর এদের মধ্যে প্রতি বছর সাপের কামড়ে মারা যান প্রায় এক লাখ লোক।
সাপকে ভালবেসে
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ড. মাধুরিতা গুপ্তার রক্তেই রয়েছে সাপের প্রতি অনুরাগ। তার বাবা ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। তাই ছেলেবেলা থেকেই তিনি সাপ দেখে অভ্যস্ত। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো হাতে সাপ তুলে নেয়ার অভিজ্ঞতা ঘটে যখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর।
তিনি বলেন ‘সাপের শীতল স্পর্শ ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা’।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে থাকেন জুলিয়া বেকার। তিনি সাপের প্রেমে পড়েন যখন তার বয়স ৩০ বছর।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, স্থানীয় চিড়িয়াখানায় যাওয়ার পর কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তিনি জানান, ‘যখন তারা আমার গলায় সাপ জড়িয়ে দিল তখন আমি সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলেছিলাম। কী যে ভাল লাগছিল। অনেকটা প্রেমে পড়ার মত ভাল লাগা।’
জুলিয়া বেকার এখন অস্ট্রেলিয়ার এক টেলিভিশন চ্যানেলে সর্প বিষয়ক অনুষ্ঠান করেন। অনুষ্ঠানের নাম ‘স্নেক বস্’।
মাধুরিতা গুপ্তার বিখ্যাত মোটর সাইকেল।

সাপ ধরতে লাগে বিশেষ যন্ত্রপাতি
ভারতে সাপ ধরে নিরাপদে বহন করার জন্য ড. মাধুরিতা গুপ্তা তৈরি করেছেন এক বিশেষ মোটর সাইকেল। তার সব যন্ত্রপাতি এই মোটর সাইকেলেই থাকে।
‘সাপ ধরার ডাণ্ডা, কেঁচি, নেট কাটার এবং সাপের বিষের ওষুধ এখানে রাখি। হঠাৎ করে কামড় খেলে এই ওষুধ ব্যবহার করি।’
তবে জুলিয়া বেকার কিন্তু কোন ওষুধ হাতের কাছে রাখেন না। এর মানে হলো কামড় খেলে তাকে ছুটতে হবে হাসপাতালে। কিন্তু তিনি জানান, যত সাপ তিনি নাড়াচাড়া করেন তাদের অর্ধেক সাপ তাকে কামড়ালেও কিন্তু বিষ ঢেলে দেয় না।
সাপ ধরতে চাই প্রশিক্ষণ
জুলিয়া বেকার জানান, অস্ট্রেলিয়াতে কী করতে হবে না জেনেই ৯৫% মানুষ সাপ ধরতে গিয়ে কামড় খায়।
ড. গুপ্তা এ বিষয়ে জানান, ভারতে এই সংখ্যাটা আরো বেশি। প্রতি বছর ৬০,০০০ মানুষ সাপের কামড়ে প্রাণ হারায়।
যারা প্রতিদিন সাপ নাড়াচাড়া করেন তারাও যে সর্প দংশনের শিকার হন না, এমনটা নয়।
জুলিয়া বেকার বলছেন, একবার একটি অজগর সাপ তাকে কামড়ে দিয়েছিল। ‘সাপটিকে সরানোর সময় দেখলাম হঠাৎ করে তার মাথা আমার দিকে ঘুরে গেল এবং আমার হাতের মধ্যে সে দাঁত ফুটিয়ে ঝুলে রইল। এই অবস্থায় প্রায় ২০ মিনিট থাকার পর লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।’
এরপরও কিন্তু সাপের প্রতি অনুরাগ তার কমেনি।
‘সাপ একটা সুন্দর প্রাণী। বহুদিক দিয়ে সাপ আমাদের অনেক উপকার করে,।’ তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো সাপের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষ আসলে তেমন কিছুই জানে না।’

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × four =