Templates by BIGtheme NET
Home / লাইফ স্টাইল / ভ্রমণ / স্বপ্নপুরীর মায়াবী ভূবন

স্বপ্নপুরীর মায়াবী ভূবন

Loading...

দিনাজপুর:  স্বপ্ন নয়, অথচ স্বপ্নের মতো সুন্দর নিরিবিলি এক মোহন মায়াবী স্বপ্নময় ভূবন স্বপ্নপুরী। যা দর্শনার্থী, পর্যটক, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে।

স্বপ্নপুরীতে এসে পৌঁছলে স্বাগত জানাবে স্বপ্নপুরীর গেটে দণ্ডায়মান দুটি বিশাল পরীর প্রতিকৃতি মূর্তি। এ দুটি পরী তাদের দু’ডানা প্রসারিত করে ও একহাত উঁচু করে গেটের দু’পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গেট পেরিয়ে পথের দু’ধারে বিভিন্ন গাছের সমারোহ। চোখে পড়বে সারি সারি দেবদারু গাছ। এর দু’পাশে আবার নারিকেল গাছের সারি।

মনোমুগ্ধকর পরিবেশে নিস্তব্ধ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে হয়তো মনে পড়ে যেতে পারে সেই গানটি- ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো, তুমি বল তো’। এখানে রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, পাহাড়, লেক, উদ্যান, বৈচিত্র্যপূর্ণ গাছগাছালি ও ফুলের সমারোহ, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম পশুপাখি, ফুলবাগিচা, ইটখোলা, কৃত্রিম ঝরণা, ঘোড়ার রথ, হংসরাজ সাম্পান, শালবাগান, খেলামঞ্চ, নামাজঘর।

এছাড়া রয়েছে কুঞ্জ, ভাস্কর্য, ডাকবাংলো, মাটির কুটির, বাজার প্রকৃতিতে বাংলাদেশের মানচিত্র। যেন এক মোহন-মায়াবী স্বপ্নিল ভূবন।

কয়েক ভাগে বিভক্ত করা এই স্বপ্নময় জগতের পথ চলতে চলতে দেখা যায়, ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা ঘাড়গুঁজো বসে থাকা অবসন্ন কৃষকের ভাস্কর্য। সেখানে সারিবদ্ধ চেয়ার, টুল বসানো আছে। হংসরাজ সাম্পানে চড়ে স্বচ্ছ নীল পানির লেকে হারিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। সাম্পানে যেতে যেতে দেখা যায় কোথাও একাকী দাঁড়িয়ে আছে নারী, মাথা নিচু করে বসে আছে হতাশাগ্রস্ত যুবক অথবা জলের মাঝে বিশালকৃতি কচুপাতা।

এরপর রয়েছে কৃত্রিম পশু দুনিয়া। প্রবেশ পথে দুটি ড্রাগন সাদর সম্ভাষণ জানানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে সেখানে। দেয়ালে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় হিংস্র প্রাণীদের প্রতিকৃতি। এরপর দুয়েক পা ফেলতেই চমকে উঠতে হয়। সামনেই পথ জুড়ে হাঁ করা এক নর-করোটি। এই নর-করোটির মুখের ভেতর দিয়েই মূল পশু দুনিয়ার পৌঁছাতে হবে। এখানে রয়েছে নানা কৃত্রিম পাহাড় ও ঝর্ণা। ঝর্ণার পানি গড়িয়ে একটি ছোট জলাশয়ে পড়ছে। লেকের পাশে রয়েছে ২৫০০ বর্গফুট বিস্তৃত বাংলাদেশের মানচিত্র, যা ইট-সিমেন্ট দিয়ে সুন্দরভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বর্তমান চলচ্চিত্র স্পট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে স্বপ্নপুরী। ইতোমধ্যে এখানে কয়েকটি চলচিত্র চিত্রায়িত হয়েছে। নয়ন জুড়ানো নিরিবিলি এ স্বপ্নপুরীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যটকরা এখানে আসতে শুরু করেছে।

কোথায়
এর অবস্থান দিনাজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথে ৩৩ মাইল বা ৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯নং কুশদহ ইউনিয়নের খালিশপুর মৌজায়। ফুলবাড়ি উপজেলা শহর থেকে স্বপ্নপুরীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ি আফতাবগঞ্জ হাট হয়ে সম্পূর্ণ পাকা রাস্তা দিয়ে এখানে আসা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ চিত্তবিনোদনের জন্য বা পিকনিক করার জন্য এখানে এসে থাকেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বেশি জনসমাগম ঘটে।

শুরু
এ স্বপ্নপুরী দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন আফতাবগঞ্জের খালিশপুর মৌজায় প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই দৃষ্টিনন্দন পিকনিক বা বিনোদন স্পট। ১৯৮৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় বংশীবাদক মো. দেলোয়ার হোসেন মাত্র ৭ একর ৩৮ শতাংশ জমি নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বপ্নপুরীর যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তা ৪০০ একর জমি বিস্তৃত পেয়েছে।

অবসর যাপন

এই স্বপ্নময় স্বপ্নপুরীতে ইচ্ছা করলেই দুয়েকদিন থাকাও যাবে। এ জন্য রয়েছে নিশিপদ্ম, নীলপরী, সন্ধ্যাতারা, রজনীগন্ধা মেঠোঘর এবং ভিআইপি কুঞ্জ নামের পাঁচটি মনোমুগ্ধকর ডাকবাংলো। অবসর যাপনের জন্য এসব ডাকবাংলো ভাড়া দিতে হয়।

অবসর যাপনের জন্য এসব ডাকবাংলো ভাড়া দিতে হয়। ঘরপ্রতি ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা (২৪ ঘণ্টার জন্য)। ডাকবাংলোগুলো এসি ও নন-এসি রুম রয়েছে। এসব ডাকবাংলা বুকিংয়ের জন্য রয়েছে টেলিফোন (কোড নং- ০৫৩২৭, ফোন-২৮৮,৩৪০ অথবা ৮৯১৪৩) সুবিধা। টেলিফোনে ডাকবাংলো আগে থেকে বুকিং করে রাখা যায়।

ঢাকার হোটেল সফিনা ১৫২, ওসমানগনি রোড (আলু বাজার), ঢাকা। ফোন- ৯৫৫৪৬৩০, ৯৫৬২১৩০ কিংবা দিনাজপুরের হোটেল কণিকা, স্টেশন রোড, দিনাজপুর কিংবা স্বপ্নপুরীর অফিস ০১৭২১৩৪০৯৫, ০১৭২৫৬০৬৬, ০১১৩৭০৫১১, ফোন- ০৫৩১-৬৩৭১১ নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

শিশুদের জন্য
স্বপ্নপুরীতে শিশুদের জন্য রয়েছে শিশুপার্ক, দোলনা ও চরকিতে ঘোরার মজা। রয়েছে ঘোড়ার ওপর চড়ে ঘোড়া চালনা, সুদৃশ্য ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বেড়ানোর ব্যবস্থা। ঘোড়ার গাড়ির উপরে রয়েছে সুদৃশ্য রঙিন ছাতা, যা চলার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছে।

ভূড়িভোজ
এখানে রয়েছে স্বল্পমূল্যে খাবারের সুব্যবস্থা। ভাত-সব্জি-ডিম-ডাল ২০ টাকা, ভাত-মাংস-মাছ-ডাল ৮০ টাকা, ভাত-সবজি-মুরগী-ডাল ৫৫ টাকা।

এছাড়া রয়েছে অফিস চত্বরে কেনাকাটার জন্য বাজার, রেস্টুরেন্ট। রান্নার সহায়তার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাড়া চুলা, চেয়ার, টেবিল, হাঁড়ি-পাতিলসহ ডেকোরেশনের সব জিনিস ভাড়া পাওয়া যায়। আছে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

যাঁরা এসেছিলেন
সাবেক প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজাল হোসেন, সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবু সতীশ চন্দ্র রায়, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী বেগম খুরশীদ হক এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারফ হোসেন শাহজাহান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এম এ জলিল এমপি, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, সাবেক মন্ত্রী প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী এল কে সিদ্দিকী এমপি, সাবেক মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব, বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, বেগম মাহমুদা সিদ্দিকী, লে. কর্নেল ক্রিস্টোফার-লেনা-আয়ারল্যান্ড সেনা কর্মকর্তাসহ দেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্রের প্রযোজক, পরিচালক, নাট্যব্যক্তিত্ব ব্যক্তিরা পরিদর্শন করে গেছেন।

আরো স্বপ্ন

স্বপ্নপুরীর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের ইচ্ছা, স্বপ্নপুরীকে বাংলাদেশের সেরা অবকাশ যাপনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও নির্মাণ করার। যেন দেশ-বিদেশের আসা পর্যটকরা তা দেখে মুগ্ধ হয়।

এ পর্যন্ত স্বপ্নপুরী নির্মাণে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে বাংলামেইলকে জানিয়েছেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সেরা অবকাশ যাপনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে স্বপ্নপুরীকে। আমার শেষ স্বপ্ন এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও নির্মাণ করার। যেন দেশ-বিদেশের আসা পর্যটকরা তা দেখে মুগ্ধ হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছি এই স্বপ্নপুরী। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ জীবন্ত চিড়িয়াখানা, হাসপাতাল, অত্যাধুনিক চায়নিজ হোটেল, রেস্তোরাঁর নির্মাণ কাজ চলছে। ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে স্বতন্ত্র স্পট, পাখির রাজ্য, মাছের রাজ্য, রেল কার, রোপ কার, মানবিক চৈতন্যের ভাস্কার্য শিল্প নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।’

তবে পর্যটক ও পিকনিক পার্টির নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দাবি জানিয়েছে এখানে আসা অনেক পর্যটক।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen − 2 =