Templates by BIGtheme NET
Home / slider / বাবার থেকে কতটা সম্পদ পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বাবার থেকে কতটা সম্পদ পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Loading...

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায়ী হিসেবেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ধনকুবের ব্যবসায়ী থেকে আমেরিকার মতো দেশের প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়াটা বিশ্ববাসীকে রীতিমতো বিস্মিত করেছে। ট্রাম্প নিজেও সব সময় নিজেকে স্বপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করে এসেছেন। পরিবারের কাছ থেকেও নাকি খুব বেশি সাহায্য নিতে হয়নি তাকে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে। এর মূল কারণ ট্রাম্পের বাবাও ছিলেন একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী, যার সম্পদ লাভ করেছিলেন ট্রাম্প ও তার ভাই-বোনেরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প একবার বলেছিলেন, তিনি তার বাবার কাছ থেকে মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে এই অর্থের পরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন ডলারের থেকে ঢের বেশি। নিউইয়র্ক রাজ্যের কর বিভাগ নিশ্চিত করেছে, তারা নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার একটি দাবি তদন্ত করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মিলিয়ন ডলারের কর ফাঁকি দিতে সাহায্য করে পরিবার এবং নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন।
ঐ অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তের স্বার্থে ট্রাম্পের বাবার সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান করছে নিউইয়র্কের কর বিভাগ। ১৯০৫ সালে জার্মান অভিবাসী এলিজাবেথ ক্রাইস্ট আর ফ্রেডেরিক ট্রাম্প সিনিয়রের ঘরে জন্ম হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিতা ফ্রেডেরিক ক্রাইস্ট ট্রাম্পের। এই ফ্রেডেরিক সি ট্রাম্পই হলেন ট্রাম্প সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। ১৩ বছর বয়সে ফ্রেডেরিক ট্রাম্পের বাবা মারা যান। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে কনস্ট্রাকশন ব্যবসা শুরু করেন ফ্রেড ট্রাম্প। ১৯২০ এর দশকে ‘কুইন্স’ অঞ্চলে এক পরিবারের উপযোগী ছোট বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল ফ্রেডেরিক ট্রাম্পের। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে মধ্যবিত্তদের জন্য সহজে গৃহায়নের সুবিধা দিয়ে দারুণ সাফল্য লাভ করেন ফ্রেড ট্রাম্প। সে সময় গৃহায়ন খাতে মার্কিন সরকারের বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বড় করেন তিনি। উত্কৃষ্ট মানের বিল্ডিং বানানোয় খ্যাতি লাভ করেছিলেন ফ্রেড ট্রাম্প। সাধারণত সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পগুলো কম মূল্যে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতেন তিনি।
বাবার ব্যবসা ছাড়াও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭০ সালে ফ্রেড ট্রাম্পের নামে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ আনা হয়। তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ও পুয়ের্তো রিকো’র অভিবাসীদের বাড়ি ভাড়া দিতেন না বলেও অভিযোগ ছিল। ফ্রেড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার আইনে মামলা হয় এবং সেই সময়ে পিতার পক্ষে আগ্রাসী ভূমিকা রাখায় পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ছাপা হতো। যদিও তা কোনো ধরনের অবৈধ বা অনৈতিক কার্যক্রম প্রমাণিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঐ মামলা বেশি দূর এগুতে পারেনি।
 ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তার বাবার কাছ থেকে ১ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে বাবার ‘ক্ষুদ্র’ আঞ্চলিক গণ্ডি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। আর ঐ ১ মিলিয়ন ডলার সুদসহ ফেরত দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষ্যমতে, বর্তমান হিসেব অনুযায়ী বাবার রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য থেকে অন্তত ৪১৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার মধ্যে একটি বড় অংশই ‘সন্দেহজনক কর পরিকল্পনা’ অবলম্বন করে তৈরি করা হয়েছে। ফ্রেড ট্রাম্পের দুইশর বেশি কর বিবৃতির উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রয়াত পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের প্রায় এক বিলিয়ন দিয়ে গেছেন। কর সংক্রান্ত কাগজে উল্লেখিত রয়েছে এর বিপরীতে মাত্র  ৫২.২ মিলিয়ন ডলার (৫ শতাংশ) কর দিয়েছেন তার সন্তানরা। আইন অনুযায়ী করের অঙ্কটা হওয়া উচিত ছিল ৫৫০ মিলিয়ন ডলার। এই তদন্তে আরো বলা হয়, কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহোদররা বাবার সম্পদের মূল্যমান বহুগুণ কম হিসেবে উল্লেখ করে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তার ব্যক্তিগত সম্পদ মূল্য ১০ বিলিয়ন ডলার। যদিও এই অঙ্ক নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। -বিবিসি
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 2 =