Templates by BIGtheme NET
Home / slider / আশুরার ঘটনাবলী তাৎপর্য ও আমল 

আশুরার ঘটনাবলী তাৎপর্য ও আমল 

Loading...

আশুরার ঘটনাবলী তাৎপর্য ও আমল

এডভোকেট আশরাফুল আলম চৌধুরী হায়দার, আজকের সময় :
“মুহাররম” আরবি বছরের প্রথম মাস । আরবি বার মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে কুরআন শরিফ ও হাদিস শরিফ-এ সম্মানিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। মুহাররম মাসে তথা ১০ই মুহাররম (আশুরা) এই দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা এই দিনে হইয়েছে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে, তাই মানব জীবনে এই মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে আছে। এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ আশুরা বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয ।
আশুরার ঐতিহাসিক ঘটনাবলিঃ
নানা ঘটনার কারনে মুসলিম ইতিহাসে আশুরা বেস তাৎপর্যপূর্ণ।
১। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এইদিনে, সৌর মন্ডল, গ্রহ মন্ডল সৃষ্টি করেন।
২। এই দিন হযরত ইকরামার (রা:) বর্ণনামতে হযরত আদম (আ:) কে সৃষ্টি করেন। একই দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেছেন।
৩। এইদিনে হযরত আদম (আ:) ও মা হাওয়া নিসিদ্ধ ফল খেয়ে পেলেন। শাস্থি সরুপ বেহেস্ত হতে তিনি দুনিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
৪। হযরত আদম (আ:) এর দোয়া আল্লাহ তা’আলা এইদিনে কবুল করেছেন।
৫। এই দিন হযরত ইবরাহীম (আ:) জন্ম লাভ করেন।
৬। হযরত ইউনুস (আ:) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেন।
৭। হযরত ইউসুফকে (আ:) কুয়া থেকে বের করা হয়।
৮। হযরত নূহ (আ:) এর কিস্তি মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি লাভ করে জুদী পর্বতে এসে অবতরণ করে।
৯। হযরত আইয়ুব (আ:) তাঁর জটিল রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন।
১০। হযরত মুসা (আ:) কে আল্লাহ তা’আলা এই দিন ফেরআউনের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন। নীলনদের বুকে তার জন্য রাস্তা করে দিয়েছেন এবং ফেরআউনের সৈন্যবাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছেন।
১১। হযরত দাউদ (আ:) এর তাওবা কবুল হয় এবং ইয়াকুব (আ:) কে দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
১২। হযরত ঈসা (আ:) আল্লাহর অসীম কুদরতে পিতার ঔরশ ব্যতীত মাতৃগর্ভ হতে জন্মলাভ করেন এবং এই দিনই তাঁকে বনী ইসরাইল এর হাত থেকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়।
১৩। রাসুলুল্লাহ (সা:) এর অগ্র-পশ্চাতের সকল কসুরি মাফ করে দেওয়া হয়। ঐ দিন হযরত সুলাইমান (আ:) সাম্রাজ্যের রাজত্ব লাভ করেন। হযরত ইদ্রিস (আ:) জান্নাতে প্রবেশাধিকার লাভ করেন।
এছাড়াও এইদিনের নানা ঘটনার মধ্যে রাসুল (সা:) দৌহিত্র হযরত হোসাইন ইবনে আলী (রা:) তাঁর সাথী সহচরগণ ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে ঐতিহাসিক কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। কারবালার এই মর্মান্তিক বিষাদপূর্ণ ঘটনা মুসলিম জাতির হৃদয়ে এক করুণ বেদনার ছাপ এঁকে দিয়েছে।
আশুরাইয় করনিয়ঃ
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী করিম (সা:) মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। নবীজী বললেনঃ এটি কি? তারা বলল, এটি একটি ভাল দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) রোজা পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ বললেন, মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি রোজা রেখেছেন এবং রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। [বুখারি] হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসুলে পাক (সা:) ইরশাদ করেন, তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ এবং এ ব্যাপারে ইহুদীদের বিপরীত করে তৎসঙ্গে আশুরার পূর্বে বা পরে আরো একটি রোজা পালন করবে। অর্থাৎ ইহুদীরা রোজা রাখে মুহাররমের ১০ তারিখ। কিন্তু মুলসমানদের সাথে ইহুদীদের রোজা মিল না হওয়ার জন্য মুসলমানরা হয়তো ৯ তারিখ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ তারিখ ও ১১ তারিখ দুইটি রোজা পালন করবে।
আশুরার রোজার ফজিলতঃ
নবী করিম (সা:) কে এই আশুরার মাসে রোজা রাখার জন্য অধিক আগ্রহী হতে দেখাযেতো, নবী করিম (সা:) কে যতটা আগ্রহী দেখাযেতো রমজান মাসের রোজার প্রতি।
আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররম (মাসের রোজা)। [সহিহ মুসলিম] রাসুলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন, আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি বান্দার পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। [সহিহ মুসলিম] এটি আমাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাকের অপার করুণা। তিনি মুহাররমের একটি মাত্র রোজার মাধ্যমে বান্দার এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
আশুরার দিনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য আলোচিত হাদীস ও ঘটনাবলী দ্বারা সহজেই অনুমেয় হয় যে, আশুরার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য কারবালার ঘটনা নয় বরং এটি মহান আল্লাহর সৃষ্টির সুরুথেকেই বিদ্যমান। কিন্তু রূঢ় হলেও সত্য যে, ঐতিহাসিক ঘটনাবলী না জানার কারনে শিয়াদের ন্যায় সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানরাও আশুরার দিনকে শুধু কারবালার বেদনাদায়ক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে আসল ফজিলত ও মরতবা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 − three =