Templates by BIGtheme NET
Home / slider / এবার হারলেই বিদায়

এবার হারলেই বিদায়

Loading...

বিশ্বকাপ মানেই নতুন নতুন রোমাঞ্চ। প্রিয় দলের বিদায়ের ঘণ্টা বাজার অসহ্য ব্যথা। রাউন্ডের পর রাউন্ড টপকে ‘সোনার ট্রফি’টার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ। গ্যালারির দিকে, বিশ্বকাপের শহরগুলোর দিকে, ৩২টা দেশের মানুষের দিকে তাকালেই দেখা যায়, কারও লক্ষ্যই শিরোপার চেয়ে কম কিছু নয়। সবাই বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা নিয়ে উচ্ছ্বাস করে। সেই উচ্ছ্বাসটা গতকাল থেকেই ১৬ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। বিদায় নিয়েছে বাকি ১৬টা দল। বিদায়ের এই বেদনায় যোগ হয়েছে জার্মানির নাম। যোগ হয়েছে অনেক তারকার নাম। মোহাম্মদ সালাহ বিদায় নিয়েছেন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব খেলেই। বিদায় নিলেন টনি  ক্রোজ, মারিও গোমেজ, থমাস মুলারদের মতো তারকারা।বিশ্বকাপে আগামীকাল থেকে শুরু হবে মরণ-মারণ লড়াই। হয় মরতে হবে, নয়তো মারতে হবে। প্রাণঘাতী এই লড়াইয়ের প্রতিপক্ষ ঠিক হয়ে গেছে। প্রথমদিনেই মুখোমুখি হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপের দুই ফেবারিট আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স। কাজান অ্যারিনা থেকে আগামীকালই বিদায় নিবে দুই ফেবারিটের একটা। নতুন দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ কী তবে বেড়ে যাবে! হয়তবা। কাজান অ্যারিনায় মেসি-গ্রিজমানদের লড়াইয়ের দুই ঘণ্টা পর সোচির অলিম্পিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-লুইস সুয়ারেজ। উরুগুয়ে-পর্তুগালের এই লড়াইটাও প্রাণঘাতী। বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে ও পর্তুগালকে কেউ শীর্ষ ফেবারিট ভাবেনি। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই ফেবারিটের সংজ্ঞাটা যেন বদলে গেছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না প্রতিপক্ষ দলগুলো। পর্তুগাল রোনালদোর কাঁধে ভর করে চলতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের শিরোপার দিকে। বিশ্বকাপের শীর্ষ ফেবারিট জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর এখন আর কোনো দলই নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে না। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের কাছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ২-০ গোলের পরাজয় যেন চোখ খুলে দিয়েছে দলগুলোর। এখন যে কোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। সমর্থকদেরও প্রস্তুত থাকতে হবে যে কোনো ফলাফলের জন্য। ফেবারিট কে, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে বলা কঠিন হয়ে গেছে। এই কারণেই আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স, উরুগুয়ে-পর্তুগাল ম্যাচের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ব্রাজিল-মেক্সিকো ম্যাচও। স্পেন-রাশিয়াও তো এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা ১ জুলাই লুঝনিকিতে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়ার। নিঝনি নভগরদের ক্রোয়েশিয়া-ডেনমার্ক এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের সুইডেন-সুইজারল্যান্ড ম্যাচও দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫৪ সালে নিজেদের দেশে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার পর থেকে বিশ্বকাপে আর এতটা উপরে উঠতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সুযোগ সুইসদের সামনে। ১৯৯৪’র পর সুইডিশরাও তো দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পাড়ি দিতে পারেনি। ক্রোয়েশিয়া আর ডেনমার্কের সামনেও নতুন কিছু অর্জনের দারুণ সুযোগ। ১৯৯৮ সালের পর দুই দলের কোনোটাই দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পাড়ি দেয়নি। বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ড টিকে থাকল। এরমধ্যে অন্তত একটা তো বিদায় নিচ্ছেই (আর্জেন্টিনা অথবা ফ্রান্স)। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এমন বিদায় নতুন কিছুরই ইঙ্গিত বহন করছে কী! বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, সুইডেন দারুণ ফুটবল খেলছে। পর্তুগালের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ‘চ্যাম্পিয়ন স্পিরিট’। ইউরো কাপজয়ী রোনালদো কী তবে বিশ্বকাপটাও জয় করতে চলেছেন! পর্তুগিজ সমর্থকরা বিশ্বকাপের রেপ্লিকা হাতে স্টেডিয়ামে আসে। তাদের বিশ্বাস, এবার পর্তুগালই চ্যাম্পিয়ন হবে। বিশ্বকাপে কে চ্যাম্পিয়ন হবে, তা কেবল ১৫ জুলাইতেই জানা যাবে। লুঝনিকি স্টেডিয়াম ফাইনালের মঞ্চ সাজিয়ে অপেক্ষায় আছে। নকআউট পর্বের লড়াই শুরু হতেই অপেক্ষার প্রহরগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এবার যে হারলেই বিদায়! দ্বিতীয় কোনো সুযোগ এখানে পাওয়া যাবে না। এই কারণেই তো লড়াইটার নাম ‘নকআউট’। হেরেছ, তো মরেছ।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 + 14 =