Templates by BIGtheme NET
Home / slider / কী করতে যাচ্ছে বিএনপি?

কী করতে যাচ্ছে বিএনপি?

Loading...

বিএনপি এখন কঠিন সময় অতিক্রম করছে। সৃষ্টির পর থেকে বিভিন্ন সময় নানা বাধা আসলেও দলটি বর্তমান পরিস্থিতির মতো এত সংকটের মধ্যে আর কখনও পরেনি।

বর্তমান সংকটকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মতো নেতৃত্ব এখন বিএনপিতে নেই বলেই মনে হয়। প্রায় ১২ বছরের কাছাকাছি ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে বিভিন্ন দল ও নানা মতামতের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একত্রে রাখা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এরা এসেছিলেন কিছু পাওয়া ও কিছু নেয়ার জন্য। বর্তমান বিএনপির অবস্থা দেখে এরা অনেকেই ইতিমধ্যেই কেটে পড়েছেন। বাকিরাও কেটে পরার চিন্তা ভাবনা করছেন।

নিস্তেজ বিএনপিকে পুনরায় সতেজ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকাতে এখন অবস্থা আরও শোচনীয়l এমতাবস্থায় লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের উপর বিএনপির নেতৃত্ব থাকলেও বিদেশে অবস্থানের কারণে তিনি কোনভাবেই দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন থেকে দেশের বাহিরে থাকাতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দেশের রাজনীতির বাস্তবতা থেকে তারেক রহমান অনেক দূরে। ফলে তাকে দলের অনেকের কথা ও মিডিয়ার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তারেক রহমান হয়তো ঝুঁকি নিয়ে আর বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইবেন না। অন্যদিকে সরকার চেষ্টা করেও তারেক রহমানকে ব্রিটেন থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন কি না সেটি এখন দেখার বিষয়।
কারণ, এ ধরনের ব্যক্তিকে ব্রিটেন কখনই দেশে ফেরত পাঠাতে পারে নাl ইতিমধ্যে তিনি ব্রিটেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সরকারের পক্ষে দাবি করা হয়েছে। তবে তারেক রহমান যদি দ্বৈত্ব নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন তাহলে অন্য কথা।
বর্তমান অবস্থায় তার ব্রিটেনে বসবাসের সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ বা না গ্রহণ রাজনীতিবিদদের জন্য কোনো নুতন বিষয় নয় । এভাবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অনেকেই বিদেশে আশ্রয় আবেদন করে থাকে। তারেক রহমান তার কোনো ব্যতিক্রম নয়।

আপাতদৃষ্টিতে অবস্থা দেখে মনে করা যেতে পারে, ২০১৯ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষমতায় আসার সম্ভবনা রয়েছে। বর্তমান অবস্থায় লন্ডনে বসে বিএনপিকে তারেক রহমান কতটুকু নেতৃত্ব দিতে পারবেন সে বিষয়ে অনেকেই সন্দেহ করেন। বিএনপির এই দুঃসময়ে দলটির পক্ষে পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে আসা আদৌ আর সম্ভব হবে কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে।

একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি কোনো আস্থা নেই কারণ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার মতো অনেক ইস্যু থাকা সত্ত্বেও বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব কিছু করতে পারেননি। এরা নিজেদের গা বাঁচিয়ে শুধু মিডিয়ায় দলের প্রচার করে চলছেন।

এমনকি বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার পরও তারা তেমন কিছুই করতে পারেননি। দলটি এখন শুধু মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপির ক্রমাগত ছোটো হয়ে আসার সম্ভবনা রয়েছে।যার কারণে তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন আনলেও আনতে পারেন। তবে তিনি যাই করেন না কেন তাকে শিগগির করতে হবেl কারণ বিলম্ব না করে দলকে নুতন করে পুনর্গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পরেছে।
খালেদা জিয়া খুব সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী জেলে থাকার সম্ভাবনা বেশি, এছাড়া তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তিনি কতটুকু জেলে থাকা অবস্থায় কী করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক।
এ ধরনের পরিস্থিতে তারেক রহমান বর্তমান বয়স্ক নেতাদের সরিয়ে দিয়ে তরুণদের হাতে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কারণ অতীতে বিএনপির ডাকা আন্দোলনগুলোতে সিনিয়ার নেতাদের ভূমিকায় তারেক রহমান সন্তুষ্ট নন। অনেকের সাথে সরকারের আঁতাত রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

এদের অনেকে বিএনপির শাসনামলে বড় বড় ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে এগুলোকে ধরে রাখতে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে তারা আগ্রহী নন। অন্যদিকে বিএনপি অদূর ভবিষ্যতে কবে কখন আবার ক্ষমতায় আসবে কিংবা আদৌ কোনোদিন আসতে পারবে কি না সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সম্ভবত এই কারণেই তারা গা বাচিয়ে চলার পথকে অনুসরণ করছেন নেতারা। এদের অনেকের ভেতরে ভেতরে তারেক রহমানের নেতৃত্ব পছন্দ নয়। এসব কারণে তারেক রহমান এসব জ্যেষ্ঠ নেতাদের সরিয়ে দিয়ে দলে নুতন নেতৃত্ব নিয়ে আসতে আগ্রহী।
তবে দলে ভাঙন ঠেকাতে তারেক রহমান এ ধরনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুরোপুরি বাদ না দিয়ে আওয়ামী লীগের মতো উপদেষ্টা পরিষদে রাখার চেষ্টা করতে পারেন।কিংবা অন্যভাবে দলের ক্ষমতাবান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও করতে পারেন।
এদিকেসরকার তাদের নিজেদের স্বার্থে চাইবে বিএনপির বিভক্তি। আগামী নির্বাচনে যদি কোনো দাবি তুলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে দলের সাবেক নেতা ও দল থেকে বের হয়ে আসা কিছু নেতা একত্রিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছেl এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনে এই গ্রুপের সহযোগিতায় এগিয়ে আসলেও আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
এদের কয়েকজন ইতিমধ্যেই সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সাথে গোপনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি ঈদের পরে মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরিয়ে দেওয়ার কথা উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, নেতৃত্বের ব্যর্থতা। অনেকে বলছেন, খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনের পূর্বে মুক্তি না পান তাহলে বিএনপি ভেঙে যাবে কি না, এ নিয়ে আলোচনা আছে।

এই কারণে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অবশ্যই দলের জন্য গুরুত্ব বহন করছে। তিনি আসলে কী করবেন আদৌ কোনো কিছু করবেন কি না এব্যাপারে এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে কিছু বলা হয়নি।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্বের ভার বর্তমানে যাদের উপর দেওয়া হয়েছে তাদের কাজে তারেক রহমান সন্তুষ্ট নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমানে যারা বেগম খালেদা জিয়ার আশেপাশে আছেন কিংবা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে দলের ভেতরে রয়েছে নানা অভিযোগ।

প্রচার আছে বেগম খালেদা জিয়া জেলে ও তারেক রহমান লন্ডনে থাকা অবস্থায় নির্বাচন হলে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দলের ভবিষ্যত নেতৃত্বের ব্যাপারে একটা সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন, দলের জনপ্রিয়তা এখনও অঁটুট। তবে দল ভেঙে গেলে ভোটের ফলাফল আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং ২০১৯ নির্বাচনে জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে খালেদা তারেকবিহীন বিএনপি গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে দলের পক্ষে ভালো ফলাফল আসার সম্ভবনা রয়েছে বলে এই পক্ষটি মনে করে।
চলতি বছর যদি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা কোনো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে জামায়াতকে সাথে নির্বাচন বয়কট করেন তাহলে দলের ভবিষ্যত অস্তিত্ব কঠিন সমস্যার মধ্যে পরার সম্ভবনা রয়েছে।
অন্যদিকে আগামী নির্বাচনের আগে সরকার জামায়াতের সকল রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণাও করতে পারে। কিংবা জামায়াত নিজেদের স্বার্থে সরকারের সাথে আপোষ করে ডিগবাজি দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও করতে পারেl ফলে ছোট ছোট শরিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে এককভাবে যদি বিএনপি কোনো আন্দোলনে যায় তাহলে তার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারেl
কারণ, অতীতে বার বার আন্দোলনের হুমকি দিয়ে দলটি এ পর্যন্ত কোনো কিছুই করতে পারেনি।

বাংলাদেশের অন্তত ৩০ শতাংশ মানুষ সরাসরি আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী। এই জনগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী যে কোনো জোটে সবসময় সমর্থন জানিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পরবর্তীতে এরাই জাসদকে সমর্থন দেয়। কারণ তখন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী আর কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। এই জনগোষ্ঠীকেই জিয়াউর রহমান প্রাথমিক অবস্থায় ও পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নিজেদের কাছে এখনো ধরে রেখেছেন।
আগামী নির্বাচনে আগে খালেদা-তারেক বিহীন বিএনপি প্রতিষ্ঠা করা হলে এই জনগোষ্ঠীকে দলের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হতে পারে। তাহলে ২০১৯ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নব প্রতিষ্ঠিত দলটির অবস্থান শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় আসার একটা বড় সুযোগ থাকবে।

তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সরকারের সাথে তাদের আলোচনার উপরl বাংলাদেশের জনগণও চায় জাতীয় সংসদে একটা শক্তিশালী বিরোধী দলের অবস্থান।
আওয়ামী লীগও চায় খালেদা-তারেক বিহীন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করুক।
বর্তমানে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে কেউ বিরোধী দল হিসেবে দেখছে না। কারণ, সরকারের সাথে আপোষ করে তারা ক্ষমতায় রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান অবস্থায় তারেক রহমান যদি সত্যি সত্যি দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো পরিবর্তন করেন তাহলে কী হতে পারে ?
১) বিএনপির নুতন নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এনে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দল থেকে বের হয়ে আসতে পারেন।
২) জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে নুতন আরেকটি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।
৩) খালেদা তারেক বিহীন বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় আসার চেষ্টা করতে পারে।
৪) আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধীরা নুতন একটি জোট গঠন করতে পারে।
এখন দেখা যাক বিএনপির এই দুঃসময়ে তারেক রহমান কী সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসেন।
লেখক: সুইডেন প্রবাসী কলামিস্ট, ঢাকা টাইমস

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − five =