Templates by BIGtheme NET
Home / slider / সালামের আদব ও ফজিলত

সালামের আদব ও ফজিলত

Loading...

মানুষ শান্তির প্রত্যাশি। প্রতিটি মানুষই চায় ভালোবাসা পেতে অপরকে ভালোবাসতে, অপরের কল্যাণ কামনা করতে, সুখ ও দুঃখের সাথী হতে সর্বোপরি সকলের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক বজায় রাখতে। ইসলামও আমাদের এই নির্দেশ দিচ্ছে। ইসলাম শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং এর জন্যে বাতলে দিয়েছে সুনির্দিষ্ট পন্থা। যার অনুশীলনে, অনুকরণে আমরা বিনির্মাণ করতে পারি একটি চমৎকার-সুন্দর ও মননশীল সমাজ। সালাম শব্দের অর্থ হলো শান্তি, কল্যাণ ও দোয়া, সালাম প্রদানের মাধ্যম আমরা সালাম গ্রহীতার জন্যে তিনটি কল্যাণময় কাজ এক সাথে করতে পারি, শান্তি কামনা করতে পারি, কল্যাণ কামনা করতে পারি এবং সেই সাথে দোয়াও করতে পারি। সুতরাং এমন একটি ত্রিমুখী মহৎ কাজের দ্বারা সমাজ জীবনে যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ইসলাম হলো সার্বজনীন আদর্শ। মানব জীবনের সব ধরনের আচার-আচরণ, শিক্ষা-সংস্কৃৃতির ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশিকা রয়েছে। তা আমল করলে পারস্পরিক আন্তরিকতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান এবং পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম প্রদান করা ইসলামের উত্তম আচরণ। ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানো মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তদ্রুপ সালাম দেয়া সামাজিক জীবনের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মাধ্যম এবং সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি ঘটে, মানুষ একে অন্যের আপন হয়। সালাম প্রদান করা সুন্নাত, ফরয নয়। সালামকে ইসলামের উত্তম আচরণ বলা হয়েছে। কারণ হলো, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান এবং অপর মুসলমানকে সালাম প্রদানের মধ্যে একটি বিশেষত্ব রয়েছে। কারণ হলো, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান এবং অপর মুসলমানকে সালাম প্রদানের মধ্যে একটি বিশেষত্ব রয়েছে যা সামাজিক জীবনে যথেষ্ট গুরুত্বের দাবীদার। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠলে সমাজে সাফল্যের দৌরগোড়ায় পৌঁছতে যে গতি দরকার তা অনেকাংশ বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং অভুক্তকে খাদ্য দান করার ব্যাপারে যেমন কার্পন্য করা ঠিক নয় তদ্রুপ সালামের ব্যাপারেও কার্পন্য করা ঠিক নয়। আহলে সুফফার অন্যতম সদস্য হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সা. এরশাদ করেছেন “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ করার অধিকার অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করবে, আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না যা করলে তোমাদের পারস্পরিক মায়া-মমতা ও ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে? (নিশ্চয়ই দিব) তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রচলন করবে।” সালাম শব্দের মধ্যে একটা খোদায়ী শক্তি নিহিত রয়েছে। কেননা সালাম শব্দের ব্যবহার স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই তাঁর চিরন্তন ও শাশ^ত বাণী কুরআনে পাকের মাঝে করেছেন। যেমন তিনি বেহেশতবাসীদের “সালামুন আলাইকুম তিবতুম” বলে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করবেন, তাই আল্লাহ পাকের ব্যবহৃত শব্দের ব্যবহার করলে তার রহমত নাযিল হয়। সালামদাতা ও গ্রহিতা উভয়ের মাঝে সৃষ্টি হয় মধুর সম্পর্ক। এ জন্য রাসুল সা. সালামকে পারস্পরিক প্রীতি ও ভালবাসা সৃষ্টির সহায়ক শক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে প্রতিটি কর্মের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে যার অনুকরণে কাজটির অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ফুটে উঠে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে পাক সা. এরশাদ করেছেন, “আরোহী ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তিকে, চলমান ব্যক্তি থেমে থাকা ব্যক্তিকে, আগমনকারী অবস্থানকারীকে, কমসংখ্যক লোক বেশী সংখ্যককে এবং কম বয়সী বেশী বয়সীকে সালাম প্রদান করা উত্তম।”

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, “একবার রাসুল সা. কতিপয় বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাদেরকে সালাম দিয়েছিলেন। সুতরাং এই হাদিস দ্বারা বুঝা যায় যে, সালাম দেয়াটা সার্বজনীন। এখানে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কে আগে দেবে, কে পরে দিবে ব্যাপারটা গৌণ; মূল উদ্দেশ্য হল, সালামের প্রথা চালু করা, সালামের বরকত হাসিল করা। রাসুল সা. বলেন, প্রথমে সালাম প্রদানকারী অহংকার মুক্ত। সালাম দিতে হবে এবং উত্তর প্রদান করতে হবে স্পষ্ট উচ্চারণে। কারণ, আরবি ভাষার উচ্চারণ সামান্য কমবেশীতেই অর্থের বিকৃতি ঘটে। যেমন আস-সামু আলাইকুম এর অর্থ তোমার মৃত্যু হোক। এতে শান্তি কামনার বিপরীতে অশান্তি কামনা করা হয়। সালামের অপব্যবহার সহ এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। ইহুদিরা মুসলমানদের এভাবে বিকৃত করে সালাম দিত। তাদের সালামে উত্তরে রাসুল সা. ওয়া আলাইকুম (অর্থাৎ তোমাদের প্রতিও) বলতে বলেছেন।

সালাম প্রদান পদ্ধতি স্পষ্ট ভাষায় আস-সালামু আলাইকুম বলে সালাম দিতে হয়। উত্তরে একটু বাড়িয়ে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বলে জবাব দিতে হয়। সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বলতে হয়। আর সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকুতুহু বললে জবাবেও অনুরূপ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু বলতে হয়। সালামের জবাব সালাম দাতাকে শুনিয়ে দেওয়া জরুরী। শোনানোর পরিবেশ না থাকলে ইশারায় জবাব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যের পক্ষ থেকেও সালাম পৌঁছানো যায়। যেমন কেউ বলল অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম বলেছেন। এর উত্তর হল-ওয়া আলাইকা ওয়া আলইহিস সালাম, অর্থাৎ তোমার প্রতি ও তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। সুতরাং হাদিসের আলোকে উপরোক্ত আলোচনা হতে একথাই প্রমাণিত হয় যে, সামাজিক জীবনে সালামের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে এবং এর ফলাফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষকেই প্রভাবান্বিত করবে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × two =