Templates by BIGtheme NET
Home / slider / ত্যাগীরাই আসবেন শীর্ষ পদে

ত্যাগীরাই আসবেন শীর্ষ পদে

Loading...

রাত পোহালেই ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বিকাল তিনটায় শুরু হতে যাওয়া এ সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে। তিনশরও বেশি নেতাকর্মী ক্ষমতাসীন দলের এ ছাত্রসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী। সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে থাকা ত্যাগী ও যোগ্য নেতারাই নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে আসবেন বলে ধারণা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন।
সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, এবারের সম্মেলন ইতিহাসের সেরা সম্মেলন হবে। দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে সারাদেশ থেকে লক্ষাধিক ছাত্রনেতা অংশ নেবেন। শুক্রবার বিকাল ৩টায় সম্মেলন শুরু হবে। প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, এর পর শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরদিন সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নেতা নির্বাচিত করা হবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন
সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন। তবে কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও শিবির থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে দলটির হাই কমান্ড কঠোর অবস্থানে থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নিজস্ব সোর্স ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি, আদিত্য নন্দী, চৈতালী হালদার চৈতী, হাবিবুর রহমান সুমন. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, সম্পাদকম-লীর সদস্য অসীম কুমার বৈদ্য, বরকত হোসেন হাওলাদার, আল নাহিয়ান খান জয়, সাইফ বাবু, ইয়াজ আল রিয়াদ, রাকিব হোসেন, হাবিবউল্লাহ বিপ্লব, দেলোয়ার শাহজাদা, মাজহারুল ইসলাম শামীম, গোলাম রব্বানী, হোসাইন সাদ্দাম, খাদিমুল বাশার জয়, রাকিকুল ইসলাম ঐতিহ্য, আবু সাইদ কণক, সুরঞ্জন ঘোষ, সদস্য রোজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি বায়েজিদ আহমেদ খান, সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুব খান, জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র দাস প্রমুখ। এ ছাড়া আরও অনেক পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতা প্রকাশ্যে প্রচার না চালিয়ে গোপনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বাসা-অফিসে ধরনা দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী অনেকের নামেই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এদের মধ্যে হাবিবুল্লাহ বিপ্লবের বাবা একেএম সাইফুল্লা ওরফে আছির মাস্টার বর্তমানে টাঙ্গাইলের গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের অনুসারী বিপ্লব পদ-বাণিজ্যর মাধ্যমে চট্ট মেট্রো-গ ১২-২৪৪৭ নম্বরের প্রাইভেট কারটি নিজের মায়ের নামে কেনেন। জানতে চাইলে বিপ্লব বলেন, এগুলো পতিপক্ষরা রটাচ্ছে। বাবা আওয়ামী লীগ করেন, গাড়িটা কিছু ক্যাশ, কিছু লোন করে কেনা।
দিদার মো. নিজামুল ইসলামের আপন ভাই সাইফুল ইসলাম শিমুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার চাচাতো ভাই মাওলানা রাশেদুল ইসলাম জামায়াতের রোকন ও দেবিদ্বারের সাবেক শিবির নেতা। কেন্দ্রীয় কমিটিরই এক নারীনেত্রীর সঙ্গে তার বিয়ের খবরটি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। জানতে চাইলে এসব অভিযোগ সত্য না বলে মন্তব্য করেন দিদার।
ইয়াজ আল রিয়াদের পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার আপন চাচাতো ভাই ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক।
দেলোয়ার শাহজাদার বিরুদ্ধে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির এক নির্বাহী সদস্যকে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। তার পরিবারের সবাই বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান শাহজাদা।
মাজহারুল ইসলাম শামিমের বাবা চাঁদপুর জেলার জগতপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সমর্থনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। তার আপন চাচাতো ভাই কুমিল্লা শহর শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফেজ হুমায়ুন কবির।
মোতাহার হোসেন প্রিন্সের দাদা মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পিতাও জামায়াতের সমর্থক। ছোট চাচা শিবিরকর্মী ছিল। বর্তমানে প্রিন্সের সার্বক্ষণিক সহযোগী জিলানী রামপাল কলেজে ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। জানতে চাইলে প্রিন্স বলেন, এসব ডাহা মিথ্যা।
গোলাম রাব্বানির বিরুদ্ধে একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর টাকায় ছয়টি অনলাইন পত্রিকা ও চারটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে নিজের প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী আমাকে পছন্দ করেন তাতে আমার কী দ্বোষ? তার সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে অনেক সময় ত্যাগী কর্মীদের বিরুদ্ধেও নানা অপবাদ দেওয়া হয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতারাই আগামী দিনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেবেন।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four + nineteen =