Templates by BIGtheme NET
Home / slider / আওয়ামী লীগের ‘কপাল খারাপ’: পার্থ

আওয়ামী লীগের ‘কপাল খারাপ’: পার্থ

Loading...

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে ফোনালাপ ফাঁস করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ লাভবান হতে পারেনি বলে মনে করেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি এটাকে আওয়ামী লীগের জন্য ‘ব্যাডলাক’ হিসেবে দেখছেন।

শনিবার মধ্যরাতে চ্যানেল আইয়ের টক শো ‘তৃতীয় মাত্রা’য় অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার সঙ্গে টক শোতে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন জিল্লুর রহমান।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের শিক্ষক ও জাসাসের সভাপতি মামুন আহমেদকে লন্ডন থেকে ফোন করেন তারেক রহমান। ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। এতে শোনা যায়, তারেক রহমান ওই শিক্ষককে আরও সংগঠিত হয়ে এই আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এটাকে আওয়ামী লীগ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ হিসেবে দেখছে। সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

টক শোতে অংশ নিয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ এই প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। বলেন, ‘আমি তারেক রহমানের ফোনালাপটা বেশ কয়েকবার শুনেছি।আমি খুঁজেই পেলাম না এখানে খারাপটা কী হলো। একটা ন্যায্য দাবি আমি বললাম যে, একটু অরগানাইজ করেন, দেখেন একটু ছাত্রদেরকে সহযোগিতা করেন। কাউকে রাস্তায় নামতে বলেননি, কাউকে জ্বালাও-পোড়াও করতে বলেননি। এটা আওয়ামী লীগের ব্যাডলাক যে, আওয়ামী লীগ এধরনের কিছু বের করতে পারেনি।’

‘তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা তো আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগের লোকজন এটা নিয়ে এতো কথা পেপার পত্রিকায় লেখলেন। উনারা কেন যেন মনে করেছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য আসার পরে বিরাট একটা কিছু হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই বের করতে পারলেন না। এখানে মূলত ষড়যন্ত্রের কিছু নাই। তারেক রহমান জনগণের রাজনীতি করেন, তারেক রহমান জনগণের পাশে দাঁড়াবেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দাঁড়াবেন, আমরা দাঁড়াবো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে রাতে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘আমার মেয়ে বা আপনার মেয়েকে যদি রাতে হল থেকে বের করে দেয়া হয় সেটা কেমন লাগবে? এটাতো দিনের বেলায় হতে পারতো, তদন্ত কমিটি হতে পারতো, সেইগুলো নিয়ে এত গোপনীতা কেন?’

‘মেয়েদের মোবাইল সিজ করা হয়েছে। কে মোবাইল সিজ করতে পারে। মোবাইলতো আপনার পকেটে। কেন আপনি আমার মোবাইল নেবেন? আপনি আমার ইউনিভার্সির ভিসি হন আর যেই হন। আপনি পারেন না। ৫০ জনের লিস্ট করা, সিসি টিভিতে দেখা, যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের বাবাকে জিজ্ঞাসা করা। কাউকে উঠিয়ে নিয়ে একবার চোখ বাঁধা, একবার না বাঁধা, একবার ছেড়ে দেয়া। আসলে ঘটনাটা কেন ঘটছে।’

পার্থ বলেন, ‘এটা একটা ম্যাসেজ যে, আমরা চাপের মুখে কোটাটা বাদ দিয়েছি এজন্য পুরোটাই বাদ দিয়েছি। এটাকে সংস্কার দরকার ছিল। এর আগে ছাত্রদের ভ্যাট নিয়ে আন্দোলন দেখেছেন, মানি না ভ্যাট দিতেই হবে। আন্দোলনের মুখে তাদের কিন্তু সেটা মেনে নিতে হয়েছিল।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সংসদে মতিয়া চৌধুরীর দেয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন পার্থ।

দাবি মেনে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, যখন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে বা সব জায়গায় চলে যাচ্ছে তখন সরকার বলে, আমরা দিতে চাচ্ছি না, ঠিক আছে তাহলে বাদ দিয়ে দিলাম।’

২০ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, ‘এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ আছে যে কীভাবে তারা এটা একুমেডেশন করলো, কারা করলো, এখন একটা নিদর্শন দিতেই হবে, নিদর্শন না দিলে আগামীতে এ ধরনের আন্দোলন হয় কি না, যদি হয় তাহলে যাতে থামাতে পারে।’

সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘গণতন্ত্র একটা চর্চার বিষয়। এখন বিরোধী দল সংসদে দাঁড়িয়েও সরকারের প্রশংসা করে। যেকোনো ইস্যুতে তারা সরকারের প্রশংসা করে।’ তিনি বলেন, ‘যদি আপনি সংসদে বক্তব্য দেন, তাহলে আপনাকে প্রথমে বলতে হবে বঙ্গবন্ধু, তারপর অমুক, তারপর টাইটেল, তারপর কী কী ভালো কাজ করেছে, তারপর আমাদের গালিগালাজ। এই বলতে বলতে আপনার সময় শেষ হয়ে যাবে। এরপর বলবে যে, স্পিকার আমাকে আরও দুই মিনিট সময় দেন, আমার এলাকার জন্য কিছু বলবো। এই পাঁচ বছরে প্র্যাকটিস হতে হতে এই জিনিসটা এখন চলছে।’

পার্থ বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা, আমাদরে ব্যর্থতা, আজ ৪০ বছর পরও এই ছেলেগুলো, বাচ্চা ছেলেগুলি যারা এই আন্দোলন করছে, এরা কী চাচ্ছে, টাকা চাচ্ছে না, পয়সা চাচ্ছে না, ঘুষ চাচ্ছে না, কিছুই যাচ্ছে না, চাকরি চাচ্ছে। সবচেয়ে বড় উন্নয়ন কিন্তু মানুষের উন্নয়ন। আপনি রাস্তা করেন, ঘাট করেন, ব্রিজ করেন, কালভার্ট করেন এগুলো কিন্তু উন্নয়ন না। আমরা জন্মের পর থেকে দেখে আসছি, আমরা চাই রাস্তাঘাট ভালো হবে, যদি না হয় এই দায় কিন্তু আগের প্রজন্মের যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এরপর ৫০ বছর দেশ চালিয়েছেন। আমার বাবা হতে পারেন, আমার আত্মীয় হতে পারেন, যারা এই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত উনাদের দায়।’

‘এই উন্নয়নটাই আমাদের দরকার, শিক্ষিত মেধাবী ছেলেমেয়েরা উপরে আসবেন। তারাই শিক্ষিত মেধাবীদের উপরে নিয়ে আসবেন। দেশ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যার কারণে আমাদের ১৬ কোটি ১৮ কোটি জনগণ থাকা সত্ত্বেও যাদের অল্প জনগণ আছে যেসব দেশে, দুই কোটি আড়াই কোটি জনগণ তারা আমাদের চেয়ে অনেক উপরে। কারণ মানবসম্পদের উন্নয়নের জায়গাটায় তারা আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।’

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

8 + three =