Templates by BIGtheme NET
Home / slider /
ট্রাম্প-পুতিন
শীতল যুদ্ধ ফিরে আসছে?

ট্রাম্প-পুতিন
শীতল যুদ্ধ ফিরে আসছে?

Loading...

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো এককাট্টা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভেতরে-ভেতরে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যে নীরব উত্তেজনা ছিল, সেটাকে এই নাটকীয় সংহতি উসকানি দিয়ে সরব করে তুলেছে।

যুক্তরাজ্যে একজন সাবেক রুশ গুপ্তচরকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করার চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার কয়েক ডজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। শীতল যুদ্ধের জমানার পর এত বেশিসংখ্যক রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি। শীতল যুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো যে মাত্রায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল, যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো এতটা রুষ্ট হয়েছে তারা। রাশিয়াও পাল্টা জবাব হিসেবে পশ্চিমা কূটনীতিকদের বের করে দিচ্ছে। এতে কূটনৈতিক সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক থমকে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এই উত্তেজনার হাত ধরে শীতল যুদ্ধ ফিরে আসবে কি না, এখন সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

১৯৪৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে চাপা উত্তেজনাকর সম্পর্ক ছিল, সেটিকেই শীতল যুদ্ধ বলা হয়। তখন দুই পক্ষের কেউই সরাসরি হামলা চালায়নি বটে, তবে এর প্রতিক্রিয়া ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছিল কোটি কোটি মানুষ। ইতিহাসবেত্তারা এই যুদ্ধকে নির্দিষ্ট দুটি দেশের যুদ্ধ নয়, বরং দুই ধরনের সরকারব্যবস্থার যুদ্ধ হিসেবে দেখে থাকেন। ওই সময় একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা পুঁজিবাদের এবং অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করছিল। আদর্শিকভাবে এই দুই পক্ষের অবস্থান ছিল পরস্পরবিরোধী। দুই পক্ষই মনে করেছিল, তাদের প্রতিপক্ষের আদর্শ বিস্তৃত হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি উত্তেজনার একটি বড় উৎস ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই শত্রু ছিল জার্মানি। সেই সুবাদে দুই পক্ষের মৈত্রী ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেই মৈত্রী টেকেনি। যুদ্ধের পর ইউরোপ দুই ভাগ হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলো।

পৃথিবী কোন সমাজব্যবস্থায় চলবে, পুঁজিবাদ, নাকি সমাজতন্ত্র? ইউরোপ কীভাবে ভাগ হবে? বিশ্বযুদ্ধ থামার পর এসব প্রশ্ন বড় হয়ে উঠল। এ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে উঠল। দুই পক্ষ দুটো জোট গড়ল। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা এক হয়ে গড়ল ন্যাটো। অন্যদিকে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মতো পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গড়ল ‘ওয়ারশ প্যাক্ট’।

পরবর্তী সময়ে অনেকগুলো প্রক্সি যুদ্ধ হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি যুদ্ধ করেনি, তবে আড়াল থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে মদদ জুগিয়েছে। লিভারপুলের জন মুরস ইউনিভার্সিটির মার্কিন ইতিহাস বিষয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ম্যালকম ক্রেইগ বিবিসিকে বলেছেন, ‘শীতল যুদ্ধ কখনোই ততটা শীতল ছিল না।’ কম্বোডিয়া, কঙ্গো, কোরিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া এবং আরও অনেক অনেক দেশে এই শীতল যুদ্ধের উত্তাপ টের পাওয়া গেছে। সেখানে এই দুই পক্ষ প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ সেখানে মারা পড়েছে। এখন রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই শীতল যুদ্ধের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তখনকার ঘটনাবলির সঙ্গে এখনকার কিছু ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ৮০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিলেন। শীতল যুদ্ধের জমানায়ও রুশ গুপ্তচরকে বিষ খাইয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল কক্সের ভাষ্য হলো, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পষ্টতই বিদেশে অবস্থানরত তাদের অপছন্দের লোকজনকে খুনের চেষ্টা ও খুন দুটোই করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, উদ্ভূত পরিস্থিতি আমাদের জন্য কতটা উদ্বেগের? উত্তরে বলা যায়, উদ্বেগের বিষয় আছে। তবে শীতল যুদ্ধ আমলের মতো নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে। এটি মোটেও তাৎপর্যহীন বিষয় নয়। এ ছাড়া বহু রুশ নাগরিক এখন পশ্চিমা দেশে কর্মরত।

এ ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আধুনিক রাশিয়ার মধ্যে আদর্শগত মৌলিক পার্থক্য আছে, যার কারণে উদ্বেগের মাত্রা আগের তুলনায় কম। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্রের প্রসারে যতটা আগ্রহী ছিল, আজকের রাশিয়ার মধ্যে সে প্রবণতা নেই। আরেকটি বিষয় হলো, এই রাশিয়া সাবেক সোভিয়েত সরকারের চেয়ে অনেক বেশি বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপে পড়ার ভয়ে রাশিয়া হঠকারী কোনো কিছু করে বসতে পারবে না। তবে বিশ্ববাসীর সামনে সবচেয়ে যেটি উদ্বেগের সেটি হলো, এখন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ায় ভ্লাদিমির পুতিন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প হঠকারী লোক। অন্যদিকে পুতিন অসীম উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

বিবিসি থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত

গ্যারেথ ইভান: বিবিসির বিশ্লেষক

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − nine =