Templates by BIGtheme NET
Home / slider / খালেদা জিয়াকে ঠেকাতে চায় আ.লীগ

খালেদা জিয়াকে ঠেকাতে চায় আ.লীগ

Loading...

দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ও অতি গুরুত্বপূর্ণ আসন বগুড়া-৬ (সদর)। ১৯৯১ সাল থেকে টানা পাঁচবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ১৯৯১ সালে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েই দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আর এ কারণেই এ আসনকে ভিভিআইপি হিসেবে বিবেচিত করা হয়। গত ২০০১ সালে এ আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দেশের সর্বেŸাচ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিএনপির আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া আবারও প্রার্থী হবেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। যদিও ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। তার পরও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে দলটি। খালেদা জিয়া বগুড়া থেকে প্রার্থী হবেন, এটা নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

স্বাধীনতা-উত্তর ১৯৭৩ সালের পর থেকেই বগুড়া-৬ আসন আওয়ামী লীগের হাতছাড়া। এ আসনে খালেদা জিয়াকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ প্রতিবারই নতুন মুখের প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তবে এবার খালেদা জিয়াকে ঠেকাতে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যই বিএনপির দুর্গে ফাটল ধরানোর জন্য নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আগের চেয়ে বগুড়ায় এখন আওয়ামী লীগ অনেক বেশি সংগঠিত, শক্তিশালী। চাইলেই ধানের শীষ সুবিধা করতে পারবে না। কারণ তারা এখন বিচ্ছিন্ন একটি দল। নাশকতাকারী হিসেবেও চিহ্নিত। মামলা-মোকদ্দমার কারণে নেতারা মাঠ নেই।

বগুড়া সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯২ হাজার ৮৪৭। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৪২ এবং নারী এক লাখ ৯৭ হাজার ২০৫।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে এ আসনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হাসান খান। এর পর ১৯৭৯ সালে বিএনপির ফারুক খান, ১৯৮৬ সালে জামায়াতের মাওলানা আবদুর রহমান ফকির ও ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র হিসেবে আরিফুর ইসলাম রাজ নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৯১, ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি), ১৯৯৬ (১২ জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালে টানা পাঁচবার বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন। সর্বশেষে ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির খালেদা জিয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এক লাখ ৯৩ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মমতাজ উদ্দিন। তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট পান ৭৪ হাজার ৬৩৪। তবে ওই নির্বাচনে এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছিল দুই হাজার ৪৩৬টি।

চারদিকে নির্বাচনের ডামাডোল বেজে ওঠায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া জেলার সাতটির মধ্যে দুটি আসনের দিকে নজর সবার। বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনে বরাবর নির্বাচন করে আসছেন খালেদা জিয়া। শোনা যাচ্ছে, এবার সদর বা গাবতলীর কোনো একটি আসন ছেড়ে দিতে পারেন তিনি। গুঞ্জন আছে, আগামী নির্বাচনে দল অংশ নিলে খালেদা জিয়া শুধু বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রার্থী হতে পারেন। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনে নির্বাচন করতে পারেন তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তারেকের বিরুদ্ধে আদালতের সাজার রায় থাকায় তার নির্বাচন করতে আইনি সমস্যা হতে পারে, সেটিও মাথায় রাখছে দলটি। দলের প্রধান এ আসনে প্রার্থী হওয়ায় কারণে স্থানীয় নেতাদের মনোনয়ন নিয়ে কোনো মাতামাতি নেই এ আসনে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত কোনো কারণে খালেদা জিয়া বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিলে সে ক্ষেত্রে দলের জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে খালেদা জিয়ার নির্দেশে কেন্দ্রীয় কোনো নেতা প্রার্থী হতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বলেন, বগুড়া-৬ আসনটি তাদের কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ। আর এ আসনটি বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য সংরক্ষিত। আগামীতে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এ আসনে খালেদা জিয়াই ধানের শীষের প্রার্থী হবেন।

এ অবস্থায় বগুড়া-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়েই স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে নানামুখী বিচার-বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, ভোটে জয়লাভের রাজনীতিতে এ আসনটি আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা জেনেও গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের ১০ প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহাদৎ আলম ঝুনু, জেলা যুবলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মোহন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শাখারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনি, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শফিক, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লাইজিন আরা লীনা, সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহবুবুল আলম টোকন। তবে শেষ পর্যন্ত রাগেবুল আহসান রিপুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কিন্তু মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কারণে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। পরে জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মনোনীত হয়। নুরুল ইসলাম ওমর এর আগে সদর উপজেলার সাবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হন। জাতীয় পার্টি থেকে তিনি এবারও প্রার্থী।

সাংসদ নুরুল ইসলাম ওমর জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টির যেসব নির্বাচিত সদস্য রয়েছেন, তাদের নিজ নিজ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ড থেকে অনেক আগেই সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
গত নির্বাচনের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু ছাড়াও এবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। তিনি

এ আসনে না হলেও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। তিনি ছাড়াও বগুড়া সদর আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরও রয়েছেন কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহাদৎ আলম ঝুনু, জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি।
মমতাজ উদ্দিন জানান, দলের পক্ষ থেকে তাকে যেখানে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনি সেখানেই নির্বাচন করবেন। এ জন্য বগুড়ায় দুটি আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে তার।

তিনি মনে করছেন, বগুড়ায় ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির সমর্থন আগের তুলনায় অনেক কমেছে। জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, বিগত দিনে আন্দোলনের নামে সারা দেশের মতো বগুড়ায়ও পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এ নৃশংসতার কথা বগুড়ার মানুষ কখনো ভুলবে না। তা ছাড়া বর্তমান সরকার বগুড়ার উন্নয়নে অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ মাসের ব্যবধানে দুবার বগুড়া সফর করেছেন। তিনি বগুড়ার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। অনেক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বগুড়ার মানুষ এখন তাদের ভুল বুঝতে পেরে বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনেই তার প্রতিফলন দেখা যাবে।

মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, গতবার দলীয় মনোনয়ন তুলেছিলেন। এবারও মনোনয়ন চাইবেন তিনি।

বগুড়ার ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পরের অবস্থানে থাকা জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় আগামী নির্বাচন নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। জেলাপর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে জোটের শরিক হিসেবে খালেদা জিয়া প্রার্থী হলে জামায়াত প্রার্থী দেবে না। জোট না হলে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
এ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ফরিদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 2 =