Templates by BIGtheme NET

আতঙ্কে নেতারা : খালেদা জিয়ার এ যাত্রা স্বল্প না দীর্ঘ ?

Loading...

নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই দলীয় নেতাদের তবে এই মুহূর্তে তাঁদের উদ্বেগের বিষয় হলো দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার কারাবাস স্বল্পকালীন না দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা নিয়ে। নেতারা বলছেন, নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে তাঁরা খুব চিন্তিত নন। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বিএনপির নেতারা আশঙ্কা করছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলে বিভক্তি সৃষ্টিসহ নানা কূটকৌশলে সরকার খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করতে পারে। এ অবস্থায় দলের নীতিনির্ধারকদের মূল চিন্তা দুই প্রধান শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে দলীয় ঐক্য অটুট রেখে খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি এবং নির্বাচনের লক্ষ্যে পৌঁছানো।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী জামিন পেতে হাইকোর্টে যেতে হবে। এর কাজ চলছে। আশা করছি, রোববার-সোমবারের মধ্যে কাগজপত্র পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তবে এই দাবিতে তারা এখনই রাস্তায় বড় ধরনের শক্ত কর্মসূচিতে যাবে না। নেতারা মনে করছেন, আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সহজ হবে না। আবার আন্দোলনে সংঘাত-সহিংসতা হলে ফল বিপরীত হতে পারে। এক দিকে দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অপপ্রচার হবে, আরেক দিকে সরকার নেতা-কর্মীদের নির্যাতন-নিপীড়ন ও গ্রেপ্তারের সুযোগ পাবে। তাই বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখনই রাস্তায় শক্তি ক্ষয় করতে চান না। খালেদা জিয়ারও এমন দিকনির্দেশনা রয়েছে।

গতকাল গুলশানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নেত্রী নিজেই বলে গেছেন, তাঁর মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আসন্ন নির্বাচনের জন্য আমাদের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন হবে অহিংস, সেই আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক।’

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ ও মনোবল বেড়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেও বৃহস্পতিবার ঢাকায় আদালতে যাওয়ার পথে হাজারো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রাপথেও কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাস্তায় জড়ো হন। কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত রেখে এই ধারা নির্বাচন পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চান নীতিনির্ধারকেরা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার যত নিপীড়ন করবে, যতই মানুষের অধিকার হরণ করবে, ততই মানুষ জেগে উঠবে। যত কৌশলই করুক, এ জোয়ার আর থামাতে পারবে না।

তারেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে এখন লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দলের দুই প্রধান শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির নেতারা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দল চালাবেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৮ (গ) ধারায় ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষমতা, কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে। তাতে চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার রাতেই ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে তারেক রহমানের নামে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর।

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে কারাবন্দী হলে দল কীভাবে পরিচালিত হবে, কর্মসূচি কেমন হবে, তার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আদালতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি তাঁর সঙ্গে আদালত পর্যন্ত ছিলেন। নজরুল ইসলাম খানই আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে দল পরিচালনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। সুতরাং সেই অনুযায়ী দল চলবে।’

জানা গেছে, বিএনপি আশঙ্কা করছে, সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলে বিভেদ ও বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাবে। তাই এই মুহূর্তে নেতৃত্ব নিয়ে যাতে কোনো বিবাদ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে নেতারা সতর্ক। সেই চিন্তা থেকেই দল পরিচালনায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পর খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নয়জন নেতা ঐক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা করবেন। অন্য নেতারা হলেন মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, যেহেতু সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন, তাঁর সঙ্গে আলাপ করেই স্থায়ী কমিটি কাজ করবে। প্রথম আলো

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × three =