Templates by BIGtheme NET
Home / slider / ৪০ টাকায় মোটা চালও নেই

৪০ টাকায় মোটা চালও নেই

Loading...

কৃষকের কথা বিবেচনা করে চালের ন্যূনতম দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকার নিচে নামা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতও এমন। তবে রাজধানীর কোনো বাজারেই মোটা চালও ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি’র) দৈনিক বাজার তালিকা তথ্যেও দেখা গেছে, প্রতিকেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৬ টাকায়। গতকাল কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধানের মৌসুম শেষ হওয়া এবং হাওরে বন্যায় ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে ধান সংকট রয়েছে। তবে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে।

মিনিকেট ছাড়া বাজারে অন্য কোনো চালের দাম বাড়েনি। মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৬১-৭১ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে এ চালের কেজি ছিল ৬০-৭০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বাজারে মাঝারি মানের চালের কেজি ৪৮-৫৬ টাকা। আর মোটা চাল ৪৫-৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ভেদে কোথাও কোথাও এর বেশিও বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় চাল বস্তায় (৫০ কেজি) কিছুটা কমেছে। তবে দেশীয় চলের দাম তুলনামূলক বেশি। পাইকারিতে ভারতীয় মোটা চালের বস্তা (৫০ কেজি) ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে এটা দুই হাজার টাকা ছিল। দেশীয় মোটা চাল এখন দুই হাজার টাকা। একইভাবে ইন্ডিয়ান মিনিকেট ২৭০০ টাকা, দেশীয় মিনিকেট তিন হাজার টাকায় (বস্তা) বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চাল (আঠাশ চাল) ভারতীয়টা ২১০০ টাকা এবং দেশীয়টা ২৩০০ টাকায় বস্তা বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে চা প্রদর্শনী-২০১৮ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, একটা কথা মনে রাখবেন, আমাদের কৃষকের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। চালের দাম যখন কম ছিল, তখন সাংবাদিকরা লিখেছেন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কৃষককে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত ৪০ টাকার নিচে কখনো চালের দাম আর আসবে না। এটা (চালের দাম ৪০ টাকার নিচে হওয়া) বাস্তবসম্মতও না। সুতরাং চালের দাম অ্যারাউন্ড ৪০ টাকাই থাকবে এবং সেটাই বর্তমানে আছে।

রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি’র) তথ্যানুযায়ী, প্রতিকেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬৮ টাকায়, সাধারণ মানের নাজির ও মিনিকেট ৫৮-৬২, উন্নত মানের নাজির ও মিনিকেট ৬৪-৬৮, মাঝারি মানের চাল ৪৮-৫৬, সাধারণ মানের পাইজাম ও লতা ৪৮-৫২, উন্নত মানের পাইজাম ও লতা ৫২-৫৬ ও প্রতিকেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৬ টাকায়। এ ছাড়া বছরের ব্যবধানে এখনো মোটা চালের কেজি ২১.৬২ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রেুয়ারি মাসে মোটা চালের কেজি ছিল ৩৬-৩৮ টাকা। সরু চাল ছিল ৪৪-৫৬ টাকা, মাঝারি মানের চাল ছিল ৪০-৪৫ টাকা, মিনিকেট ভালো মানের চাল ছিল ৪৮-৬৫ টাকা ও পাইজাম ভালো মানের চালের কেজি ছিল ৪২-৪৫ টাকা।

কাওরানবাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী রানা মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চাল কেজিতে ১ টাকা বেড়েছে। আর খুচরা বাজারেও এক টাকাই বেড়েছে। বেশি বাড়েনি। তবে চালের বিক্রি কমে যাওয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, যারা আগে মিনিকেট খেতেন, তাদের অনেকেই এখন অন্য চাল কিনছেন। ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, মিনিকেটের দাম বাড়ায় বেশ সমস্যা হচ্ছে। অন্য চালের ভাতও খেতে পারি না। আবার পরিবারের লোক সংখ্যা বেশি থাকায় কেজিতে এক টাকা বেড়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছি। এদিকে পাইকারি বাজারগুলোতে বস্তা ধরে কিনলে ভারতীয় মোটা চালের কেজি সর্বনিম্ন ৩৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথ্য মতে, ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি খাতে ১০ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে চাল ছয় লাখ ৪৯ হাজার টন এবং গম তিন লাখ ৬১ হাজার টন। আর বেসরকারি খাতে ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার টন খাদ্য শস্য। চাল ১৯.৩২ লাখ টন এবং গম ৩৭.৩২ লাখ টন। ২৩শে জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি খাতে মোট চাল আমদানির পরমিাণ ২৫ লাখ টন।

বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বাড়তিতে বিক্রি হওয়া দেশীয় পিয়াজের দামও গত এক সপ্তাহে কেজিতে পাঁচ টাকা করে কমেছে। প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় দেশি পিয়াজ এবং ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় ভারতীয় পিয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহেই দেশি ও আমদানি করা পিয়াজের দাম কিছুটা কমে। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শাক-সবজি, মাছ-মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সব থেকে বেশি দাম বাড়ে শীতের অন্যতম সবজি ফুলকপি, টমেটো ও শিমের। প্রায় দুই সপ্তাহ সবজিগুলোর দাম চড়া থাকে। তবে বর্তমানে এ সবজিগুলোর সবকটির দাম কিছুটা কমেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন ছোট আকারের প্রতিপিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া বড় আকারের ফুলকপির দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শিম পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। টমেটো পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরের মধ্যে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এছাড়া বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে এ সবজি দু’টির দাম একই ছিল। কাঁচমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে এই পণ্যটির দাম ছিল ৮০ টাকার ওপরে। কাওরানবাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী আতিক বলেন, আগের সপ্তাহে পিয়াজের দাম কমে যা দাঁড়িয়েছিল এখনো তাই রয়েছে। নতুন দেশি পিয়াজ ও আমদানি করা পিয়াজ এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই আছে। মানবজমিন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × five =