Templates by BIGtheme NET

ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী দিলেন শামীম ওসমান!

Loading...

আগামী ছয়-সাত মাসের জন্য ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। ওই ভবিষ্যৎবাণী যাতে সত্যি না হয় সেজন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসব জেলার আওয়ামী লীগের সব নেতাকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একমঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর এলাকায় ওসমানী স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মিসভায় শামীম ওসমান এ আহ্বান জানান।

শামীম ওসমান বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন, পরিস্থিতি খুব নরমাল আছে, তাহলে কিন্তু আপনারা সঠিক জিনিসটা বুঝবেন না। আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের জন্য না, স্বাধীনতার পক্ষের, এজন্য আমরা আজকে এখানে জাতীয় পার্টিকেও ডাকছি, অন্যান্য দলের নেতাদেরও ডাকছি। সবাইকেই ডাকছি। স্বাধীনতার পক্ষে যারা আছেন, তাদের জন্য আগামী দিনটা, আগামী ছয়টা মাস, সাতটা মাস সবচেয়ে বড় কঠিন পরীক্ষার সময়। সবচেয়ে বড় কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় আমরা হয়তো অনেকে এখানে থাকব না। এমনও হইতে পারে। এমনও হইতে পারে, আমরা হয়তো এখানে অনেকেই নাই। ওরা ওদের সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। জনগণের প্রতি বিশ্বাস নাই যেহেতু তারা ভিন্নপথ বেছে নিয়েছে। এই ভিন্ন পথ হচ্ছে মালয়েশিয়া থেকে শামীম ওসমানের বাসায় লোক পাঠানো। এই ভিন্ন পথ হবে ওই সোনারগাঁর কালামরে মাইরা ফালাও। এই ভিন্ন পথ হবে, ওই ধরেন আমাদের শওকত সাহেবরে মাইরা ফালাও। এই ভিন্ন পথ হবে, বাদল ভাইকে মাইরা ফালাও, মজিবরকে ভাইকে মাইরা ফালাও কিংবা শাহজাহান ভাইকে মাইরা ফালাও। এবং এখানে আরেকটা খেলা হবে। যেখানে আভ্যন্তরীণ কোন্দল বেশি সেখানে সুযোগটা বেশি নেবে। নিয়া এক ঢিলে দুই পাখি মারবে। বলবে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জে কোনো আভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকবে না ইনশাল্লাহ। আমরা সবাই এক সাথে কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি শুধু চাই একটা কর্মী হিসেবে কাজ করতে, যেখানে শুধুমাত্র একটা জিনিস আমার দাবি থাকবে। যারাই নেতৃত্ব দেন কোনো আপত্তি নাই। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রাপ্য সম্মানটা দিয়ে আপনারা নেতাগিরি করেন আমার আপত্তি নাই।’

আইভীকে ভুল সংশোধন করতে বললেন

শামীম ওসমান বলেন, ‘সকল কর্মীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সকল নেতাদের অনুরোধ করব, আসেন সকল অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমরা ভুলে যাই। আমি আইভীকেও বলব, অন্যান্য যারা নেতা আছেন তাদেরও বলব, যদি ভুল করে থাকেন ভুল সংশোধন করেন। দলের নেতাকর্মীদের নামে অভিযোগ দিয়ে থাকেন, সেটা প্রত্যাহার করেন। যদি বিএনপির চালে পড়ে থাকেন সেটার জন্য লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নাই। রাজাকারের ছেলের কথায় যদি পট পরিবর্তন করেন তাহলে সেটা পরিষ্কার করেন কর্মীদের সামনে যে আমি এটা করতে চাই নাই। রাজাকারের ছেলে আমার পট পরিবর্তন করাইয়া দিছে। কোনো সমস্যা নাই। তখন আর কোনো দুঃখ থাকব না, আফসোস থাকব না। জাস্ট বলেন, বসেন, শেষ করেন।’

আইভীর বুকটা কাপা দরকার ছিল

হুঁশিয়ারি দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা আর কাউকে কিন্তু আমাদের কর্মীদের মাইর খাইতে দিব না। আর কর্মীর গায়ে হাত পড়বে ওই নেতাগিরি শামীম ওসমান করে না। আর যারা আমার পরীক্ষিত নেতাকর্মী, আজকে যাদের নামে অভিযোগ দেওয়া হইছে। তাদের নামে অভিযোগ দেওয়ার আগে আপনার (মেয়র আইভী) বুকটা কাপা দরকার ছিল। কারণ তারা আপনার নির্বাচনে, আপনার জন্য এমন কোনো কষ্ট নাই যে করে নাই। শুধু পরিশ্রমই করে না, পকেট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ কইরা শুধু আমার দিকে তাকাইয়া, নেত্রীর দিকে তাকাইয়া লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে। কথায় মামলা দিয়া ফালাইলেন! কোন কর্মীদের নামে মামলা দেন? যে কর্মীরা সকাল থিকা রাত পর্যন্ত বিএনপির সময় ৫০টা মামলা খাইছে। ৫০টা মামলা খাইয়া মামলার গুষ্টিও মারে নাই, আপনি (আইভী) এই হুদা-মিছা মামলা দেখাইয়া ভয় দেখাইতে চান? এগুলো কি ভয় খাওয়ার ছেলে নাকি?’

‘বাঘের ঘরে বিলাই জন্ম নেয় না’

এ সময় মেয়র আইভীর উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনি বাঘ আর বিড়ালের তফাৎ বুঝেন না? বাঘ আর বিড়ালের তফাৎ বুঝেন। এটা বাঘ, বিড়াল না। আর বাঘের ঘরে বাঘই জন্ম নেয়, বিলাই জন্ম নেয় না। এমন কিছু কইরেন না, বাঘের মুখের সামনে হাত লেলায়েন না বেশি। তারা কিন্তু কেউ রাস্তা থিকা উইঠা আইসা নেতা হয় নাই। তারা নেতা হইছে, তাদেরকে কর্মীরা ভালোবাসে বইলাই নেতা হইছে। তারা ডাকলে শামীম ওসমানও লাগে না, তারা নিজেরাও যদি ডাকে পঞ্চাশ হাজার, এক লাখ লোক আসবে কিন্তু। তখন কিন্তু থামাইতে পারমু না। এবং যেটুক রাজনীতি করি গরিব মানুষের পক্ষে ছিলাম, গরিব মানুষের পক্ষে আছি, গরিব মানুষের পক্ষেই থাকব। এতে আমার যা হওয়ার হবে।’

আইভীসহ সবাইকে দাওয়াত

সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, ‘আগামী ৩ (ফেব্রুয়ারি) তারিখে যদি আপনারা সবাই অনুমতি দেন একটা জনসভা করতে চাই। ওই জনসভাটা এভাবে করতে চাই যাতে আমার নেত্রী শেখ হাসিনার মন ভরে যায়। না। সাবাশ, আমার নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের লোকজন সব আছে একসাথে। সবাইকে দাওয়াত দিমু। প্রয়োজনে মেয়রকেও দাওয়াত দিমু। এই দাওয়াত দিলাম এখান থেকে। মেয়ররে দিলাম। আনোয়ার ভাইরে দিলাম, খোকনরে দাওয়াত দিলাম, সব নেতারে দাওয়াত দিলাম। আসেন একমঞ্চে থেকে রাজনীতি করি।

আমি দোষ করলে আমার দোষ। আমারে বাদ দিয়া দেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সবাই এক সাথে আসেন। কিন্তু ক্ষমতায় থাকার জন্য, ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার জন্য দয়া কইরা বিএনপি আর জামায়াত নিয়া পইড়েন না। পরে এরা কিন্তু আপনাদেরও ছোবল দিবে। ওরা কিন্তু আপনাকে ছাড়বে না।’ বলছিলেন শামীম ওসমান।

আবার ক্ষমতায়, আবার গ্রুপিং

শামীম ওসমান বলেন, ‘আজকে বার ইলেকশন, নারায়ণগঞ্জ বার। একটা ইমপরটেন্ট জায়গা। সামনে এই বারকে আমাদের দরকার। আমি শুনতেছি আমাদের কেউ কেউ নাকি আমাদের বারের প্রার্থীদের বিরোধিতা করতেছে। খুব কষ্ট লাগে, দুঃখ লাগে। ডাইকা নিয়া গোপন মিটিং করতাছে জামায়াত-বিএনপির সাথে। কেন? প্রার্থী আপনার পছন্দ না। এই কাজটা কইরেন না এখন। সমস্ত রেকর্ড হচ্ছে। সমস্ত সংস্থা এই রেকর্ড করতেছে। এবং এই রিপোর্ট কিন্তু যেখানে যাওয়ার সেখানে যাচ্ছে। পরে কিন্তু ছাড় পাবেন না। তাই আমি শামীম যদি বলতে পারি সমস্ত দোষ আমার, আসেন সবাই মিলে আওয়ামী লীগটা করি। শক্তিশালীভাবে করি। আওয়ামী লীগকে একটা প্লাটফর্মে আনি। অন্ততপক্ষে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত। এরপর আবার গ্রুপিং করব দরকার হইলে, সমস্যা নাই। আগামীবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর গ্রুপিং আবার করলাম, সমস্যা নাই। তার আগে না।

কিন্তু আমার এই কথাটাকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না। আমার এই কথাটাই হচ্ছে একটাই কারণ, আমার দলের প্রতি আনুগত্য। আমার নেত্রীর প্রতি আমার আনুগত্যের কারণে। আমি আমাকে সেক্রিফাইস করতে পারি। কিন্তু আমার দলকে সেক্রিফাইস করতে পারি না। আমি দলের প্রশ্নে, দলের কর্মীর প্রশ্নে আপস করি নাই এবং আপস করব না।’ বলছিলেন শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে হকার রাখা ও উচ্ছেদ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের জের ধরে ১৬ জানুয়ারি বিকেলে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে যাওয়ার সময় হকার ও শামীম ওসমানের সমর্থকদের সঙ্গে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। প্রতিপক্ষের লোকজন মেয়র আইভীকে পিটিয়ে ও বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়ে হত্যার চেষ্টা করে। এতে আহত হয়ে রাস্তার ওপর বসে পড়েন আইভী। সমর্থকরা মানবদেয়াল তৈরি করে আঘাত সহ্য করে তাঁকে প্রাণে রক্ষা করেন।

পরে মেয়র আইভী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ওই ঘটনার জন্য দায়ী। তাঁর কর্মী নিয়াজুল দুই গজ দূরে দাঁড়িয়ে থেকে পিস্তল উঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন।

এ ঘটনার দুই দিন পর ১৮ জানুয়ারি নিজ কার্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন, রক্তচাপও কমে যায়। বমিও করেন। পরে তাঁকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

মেয়র আইভীর ওপর হামলার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে আইন কর্মকর্তা জি এম এ ছাত্তার বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় এক হাজারজনকে আসামি করে মামলার আবেদন করেন। কিন্তু সেই মামলা নেয়নি পুলিশ। সূত্র: এনটিভি অনলাইন

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

19 − 15 =