Templates by BIGtheme NET
Home / slider / কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্থনীতি এগোচ্ছে, বিদেশী বিনিয়োগ আসছে

কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্থনীতি এগোচ্ছে, বিদেশী বিনিয়োগ আসছে

Loading...

কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও এগোচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখন সর্বনিম্ন। রেকর্ড জিডিপি প্রবৃদ্ধির কারণে অর্থবছরের শেষে অর্থনীতির অন্যান্য সূচক বিশেষ করে ব্যালান্স অব পেমেন্ট ও টাকার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারী বিনিয়োগ বাড়ায় বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন। বিদেশী বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে রূপকল্প-২১ সামনে রেখে যেসব অর্থনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তার পুরোটা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।

বছরের শেষ দিকে এসে নিত্যপণ্য যেমন চাল ও পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। বিদায়ী বছরে দাম বাড়লেও বাজারে পেঁয়াজ ও চালের সঙ্কট ছিল না। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে আমদানি বাড়ায় এখন দুটি পণ্যেরই দাম স্থিতিশীল। সবজির দাম কমে গেছে। সম্প্রতি খাদ্যমূল্য নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল তা কাটতে শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রতিটি সূচকে দেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল, প্রাণোদীপ্ত, অগ্রসরমান। এ সময়ে রফতানি আয় বেড়েছে, রেমিটেন্স প্রবাহ আবার বাড়তে শুরু করেছে। বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হলেও দাতারা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন করে অর্থায়ন করছে। মেগা দশ প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকেও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দাতাদের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি বলেন, চালের মূল্য বৃদ্ধিতে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও অর্থনীতির অন্যান্য সূচকে স্বস্তি ছিল। বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় বড় অবকাঠামো বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, মধ্য আয়ের দেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। রূপকল্প-২১ সামনে যেসব অর্থনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তার সবটাই বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়।

এদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বরাবরই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারের আয় বৃদ্ধি বা রাজস্ব আহরণ একটি বড় বিষয়। যদিও বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রাজস্ব আয় বাড়ছে। বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়ান স্টপ সার্ভিস এখনও বাস্তবায়ন হতে পারেনি। চাহিদা অনুযায়ী উদ্যোক্তারা কলকারখানায় গ্যাসের সংযোগ পাচ্ছেন না। কারখানা গড়তে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে কর্মসংস্থানেও বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন বছরে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে ছয়টি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলো হলো-দুর্বল অবকাঠামো, অর্থনৈতিক বহির্মুখিতার অভাব, অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, বন্দর সমস্যা, অদক্ষ শ্রমশক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, জনসংখ্যার চাপ ইত্যাদি। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখার জন্য বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে দারিদ্র্য বিমোচনে।

অবকাঠামো উন্নয়নে পদ্মা সেতুর পাশাপাশি আরও ৯ মেগা প্রকল্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ থাকবে নতুন বাজেটে। এজন্য বরাদ্দও বাড়ানো হবে। ট্যাক্স জিডিপি বাড়াতে আয়কর প্রদানে সক্ষম এমন সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করজালে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের শেষ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এই বাজেট অর্থমন্ত্রী স্বয়ং ঘোষণা দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক অনুষ্ঠানে মুহিত বলেন, এই সরকারের শেষ সময় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান যুব সমাজ যেভাবে কর প্রদানে এগিয়ে আসছে তাতে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অসম্ভব কিছু নয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় ৯২ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে। সেই বাজেটের আকার প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধান প্রধান সূচক ॥ বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে শিল্পঋণের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ ও আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে নয় শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এসব ব্যাংকের সুদহার ছিল ১৩ শতাংশ পর্যন্ত। সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকে নতুন সুদহার কার্যকর করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে পাঁচ শতাংশের একটু বেশি। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ হার ছিল পাঁচ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পয়েন্ট টু পয়েন্ট (গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা) ভিত্তিতে এ হিসাব করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গত তিন মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় পাঁচ দশমিক ৮৬ শতাংশে। তবে, বর্তমানে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তাই আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। আশা করছি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই থাকবে।

রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন ॥ বাংলাদেশ এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্তাদের কারণে। সরকারের হাতে এখন ১ হাজার ৪৫০টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের চেহারা বদলে যাবে বলে মনে করছে সরকার। এদিকে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়ার কারণে চাপে আছে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি)। তবে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের হিসাবে টান পড়ার কারণ আমদানি বৃদ্ধি না অর্থপাচারÑতা খোলাসা করছেন না কেউ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত জানিয়েছেন, ট্রেড অব ব্যালেন্স সব সময়ই নেগেটিভ হয়। এখন একটু বেশি। যার প্রভাব পড়েছে ব্যালান্স অব পেমেন্টে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে পৃথিবীর উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার মান যখন কমেছে, তখন বাংলাদেশী মুদ্রা টাকার মান বেড়েছে। এ ধরনের নজির রয়েছে বাংলাদেশের। এ বিষয়টি তুলে ধরে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক এনএ বলেছে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা ও প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স প্রবাহ ইতিবাচক রাখতে টাকার মানে সঠিক ভারসাম্য দরকার। এ জন্য প্রয়োজন কার্যকর বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা। জনকণ্ঠ

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 − two =