Templates by BIGtheme NET
Home / slider / মহান আল্লাহর জিকিরের ফজিলত

মহান আল্লাহর জিকিরের ফজিলত

Loading...

জিকির। মহান আল্লাহর স্মরণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জিকিরের বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। জিকিরকারি ব্যক্তিকে জীবিত ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি জিকির করে না তাকে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

জিকিরের অর্থ হলো, স্বরণ করা। পরিভাষায় জিকির বলা হয়, অন্তরে বা মুখে মহান আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা ও প্রশংসা করা। পবিত্র কোরআন পাঠ করা। তাঁর আদেশ-নিষেধ পালন করা। তাঁর প্রদত্ত নেয়ামত ও সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।

বিভিন্নভাবে জিকির হতে পারে। অন্তর দ্বারা, জিহ্বা দ্বারা জিকির হতে পারে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা। মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও জিকির।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জিকিরের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিচে তা তুলে ধরা হলো,
মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে, জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সুরা রাদ : আয়াত : ২৮)

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, “মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। এবং সকাল বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর”। (সূরা আহযাব আয়াত : ৪১-৪২)

এই আয়াতে বলা অধিক পরিমাণে জিকির বলতে কি উদ্দেশ্য তা অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন, ‘যখন তোমরা নামায তোমরা নামায আদায় করবে, তখন আল্লাহর জিকির কর দাঁড়িয়ে বসে এবং কাত হয়ে’। সূরা নিসা আয়াত : ১০৩

সব সময় মহান আল্লাহর জিকিরে জিহবাকে লিপ্ত রাখার আদেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশংকচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না’। (সূরা আরাফ আয়াত : ২০৫)

মহান আল্লাহর জিকির সফলতার মাধ্যম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহ্কে অধিক পরিমাণে স¥রণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার। (সূরা আনফাল আয়াত : ৪৫)

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর স্মরণ করে মহান প্রভুও তাকে স্মরণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো এবং তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও ও অবিশ্বাসী হয়ো না। (সূরা বাকারাহ আয়াত : ১৫২)

মহান আল্লাহর স্মরণ জ্ঞানীদের নিদর্শন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আসমান জমিন সৃজনে আর রাত-দিনের পরিবর্তনে নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য, যারা আল্লাহর জিকির করে দাঁড়িয়ে বসে এবং শুয়ে’। (সুরা আলে ইমরান আয়াত : ১৯০-১৯১)

উপর্যুক্ত পবিত্র কোরআনের আয়ত দ্বারা সুষ্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, জিকির দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সর্বাবস্থায় করা জায়েজ।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা করবে তেমনি আমাকে পাবে। আমাকে যখন সে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গে থাকি। সে যদি আমাকে তার অন্তরে স্মরণ করে তাহলে আমিও তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোনো জনগোষ্ঠির নিকট স্মরণ করে তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম জনগোষ্ঠির নিকটে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে অর্ধ হাত এগিয়ে আসে তাহলে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি। আর যদি সে এক হাত এগিয়ে আসে তাহলে আমি তার দিকে হস্তদ্বয় প্রসারিত পরিমাণ এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে তাহলে আমি তার দিকে দ্রুত হেঁটে আসি। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

আল্লাহর যিকির সুরক্ষিত দুর্গ : বান্দা এ-দ্বারা শয়তান থেকে রক্ষা পায়। নবী কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেন : ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া (আঃ) ইসরাঈল-তনয়দেরকে বলেছেন :‘এবং আমি তোমাদেরকে আল্লাহর জিকিরের আদেশ দিচ্ছি, কারণ এর তুলনা এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যার পিছনে দুশমন দৌড়ে তাড়া করে ফিরছে, সে সুরক্ষিত দুর্গে প্রবেশ করে নিজকে রক্ষা করেছে। অনুরূপ, বান্দা আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে শয়তান থেকে সুরক্ষা পায়। (আহমদ)

জিকির মানুষের ইহকাল ও পরকালের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মক্কার একটি রাস্তায় রাসূলুল্লাহ (সা.) হাঁটছিলেন। জুমদান নামক পাহাড় অতিক্রম করার সময় বললেন, তোমরা চল, এটা জুমদান-মুফাররাদূন (একক গুণে গুণান্বিতরা এগিয়ে গেছে) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! মুফাররদূন অর্থাৎ একক গুণে গুণান্বিত কারা ? উত্তওে তিনি বললেন, আল্লাহকে বেশি করে স্মরণকারী নারী-পুরুষ। (সহিহ মুসলিম)

অন্য হাদিসে হজরত আবু মুসা আশআরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাঁর প্রভুকে স্মরণ করে আর যে স্মরণ করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তির ন্যায়। (সহিহ বুখারি)

হযরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক আমল সম্পর্কে অবহিত করব না, যা তোমাদের অধিপতির নিকট সবচেয়ে উত্তম ও পবিত্র, এবং তোমাদের মর্যাদা অধিক বৃদ্ধিকারী, এবং তোমাদের জন্য স্বর্ণ-রূপা দান করা ও দুশমনের মুখোমুখি হয়ে তোমরা তাদের গর্দানে বা তারা তোমাদের গর্দানে আঘাত করার চেয়ে উত্তম ? তারা বলল, হ্যাঁ ! হে আল্লাহর রাসুল ! তিনি বললেন, জিকরুল্লাহ (মহান আল্লাহর স্মরণ)। (সুনানে তিরমিজি:৩২৯৯

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × 5 =