Templates by BIGtheme NET
Home / slider /
সাক্ষাতকারে ড.মুশতাক আহমদ
রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্য তারা বঙ্গবন্ধুর মতো সন্তান জন্ম দিতে পারেনি

সাক্ষাতকারে ড.মুশতাক আহমদ
রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্য তারা বঙ্গবন্ধুর মতো সন্তান জন্ম দিতে পারেনি

Loading...

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যহত জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। নিজেদের বসত-ভিটা থেকে তারা উচ্ছেদ হয়েছে। হারিয়েছে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন। নিজের চোখের সামনে মা আর বোনের ধর্ষণের করুণ দৃশ্য তাদের দেখতে হয়েছে। দেখেছে বাবার আর ভাইয়ের নৃশংস মৃত্যু। কোনো রকম নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে। এখন তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে দুদিন ঘুরে ত্রাণ বিতরণ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড.মুশতাক আহমদ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সাক্ষাতকারের কিছু অংশ দেয়া হলো-

: প্রতিবেশি দেশ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব কতটুকু?
: মানবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দিক দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আদিবাসী জাতি হয়ে তারা আজ উদ্বাস্তু। তারা যদি অমুসলিমও হতো তাহলেও তাদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব ছিল। কারণ ইসলাম পশু-পাখিরও নিরাপত্তা দিয়েছে। আর আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে আমরাও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মতো অভিযোগে অভিযুক্ত হবো।

: শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দিনাতিপাত কেমন দেখলেন?
: রোহিঙ্গারা অত্যন্ত মানবেতর দিনাতিপাত করছে। তারা আত্মপলব্ধিহীন হয়ে পড়েছে। নিজেদের অধিকার কী তাও ভুলে গেছে। এ বিষয় বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, তারা যতোদিন বাঁচবে এভাবেই তাদের বেঁচে থাকতে হবে। দীর্ঘদিনের বর্বর নির্যাাতনে কেমন যেন তারা বন্য প্রাণীর মতো হয়ে গেছে। তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানো।

: অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানো দ্বারা কী বুঝাতে চাচ্ছেন?
: নিজেদের অধিকার আদায়ে যুদ্ধের জন্য দাঁড়াতে হবে। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। আত্মপলব্ধি সৃষ্টি হতে হবে। সৎসাহস নিয়ে সম্মুখ পানে এগিয়ে যেতে হবে। কোন অসত্য, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। বরং আমার মা, বোনের সম্ভ্রমহানীর প্রতিশোধের জন্য দাঁড়াতে হবে। আগামী প্রজন্মকে যেন শান্তিময়, সুন্দর পরিবেশে রেখে যাওয়া যায়। তাদেরকে দাঁড়াতেই হবে। প্রয়োজনে দু এক প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাক। তারপরও বর্বর, পৈশাচিক এ নির্যাতনের সমাধান হওয়া দরকার। আর রোহিঙ্গারা যদি নিজেদের অধিকার আদায়ে না দাঁড়ায়, তাহলে এ পৃথিবীর কেউ তাদের বাড়ি-ঘর ফিরিয়ে দিবে না। তাদেরকেই স্বাধিকার আদায়ের জন্য, সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। বুকটান দিয়ে দাঁড়ালেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে।

: আপনি আত্মপলদ্ধি সৃষ্টির বিষয়টিকে বেশ জোর দিচ্ছেন। এ আত্মপলব্ধি সৃষ্টির প্রক্রিয়া কী হতে পারে?
: পৃথিবীতে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী যেভাবে অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের দাবি আদায় করেছে সেগুলো শুনিয়ে তাদের মাঝে আত্মপলব্ধি সৃষ্টি করতে হবে। ভারতবর্ষ ২০০ বছর ব্রিটিশদের নির্যাতন ভোগ করেও অস্ত্র ছাড়েনি। গাছের পাতা খেয়ে আলেম সমাজসহ আপামর জনতা ব্রিটিশদের বিতাড়নের জন্য আন্দোলন করেছেন। এসব থেকে তাদের শিক্ষা নিয়ে কাজে পরিণত করতে হবে। কতোদিন তারা এমন নৃশংস নির্যাতন সহ্য করবে? তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তারা অনিশ্চয়তায় রেখে যাচ্ছে। এর সুষ্ঠু সমাধান হলো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই।

: রোহিঙ্গাদের আত্মপলব্ধি সৃষ্টি কে বা কারা করবেন?
: আত্মপলব্ধি সৃষ্টি করবে আলেম সমাজ। কারণ আমাদের ভারতবর্ষ স্বাধীনতায় আলেম সমাজের ভূমিকা ছিল ঈর্ষণীয়। মহত্মা গান্ধীকে বিপ্লবী বানিয়েছেন শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাছান দেওবন্দী রহ.। তিনি মহত্মা গান্ধীকে নিজের কাছে ৬ মাস রেখে বিপ্লবের দীক্ষা দিয়েছেন। শাহ আব্দুল আজিজ রহ. এর এক ফতোয়াই ভারত স্বধীনতায় যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে। যদি রোহিঙ্গাদের মাঝে ২০ জন ব্যক্তিও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে তাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।

: সংখ্যালঘু,আদিবাসী রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কারণ হিসেবে আপনি কি মনে করেন?
: রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্যের মাঝে এটাও অনেক বড় দুর্ভাগ্য যে তারা বঙ্গবন্ধুর মতো সন্তান জন্ম দিতে পারেনি। আর আমি বঙ্গবন্ধু দ্বারা সংগঠক বুঝাচ্ছি। যদি রোহিঙ্গাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর মতো সংগঠক ব্যক্তি থাকতো তাহলে বর্তমান আরাকানের অবস্থা ভিন্ন হতো। তারা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জনগণ থাকতে পারত।

Loading...
<